আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৫-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

গাঊছ

সুফিকোষ

মুফতি শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী
| তাসাউফ

‘গাঊছ’ শব্দটি আরবি, বাংলায় গাওছ, গওছ বা গাউস ও গওস লেখা হয়। অর্থ হলোÑ সাহায্যকারী, মুক্তিদাতা, ত্রাণকর্তা বা ত্রাতা। এটি একবচন, পুংলিঙ্গ। এর মূল হলো গাইছ, অর্থ হলোÑ বৃষ্টি, মেঘ, বর্ষণ; সাহায্য, মুক্তি, ত্রাণ বা পরিত্রাণ; মদদগার, অভিযোগ শ্রোতা। এ শব্দ থেকেই উদ্গত হয়েছে ‘গিয়াছ’, যা গাঊছের সমার্থক। গিয়াছ অর্থ হলোÑ অভিযোগ প্রতিবিধানকারী, আবেদন মঞ্জুরকারী। (ফারসি-বাংলা অভিধান)। তবে গাঊছের মাঝে স্বয়ংক্রিয়তা, স্বকীয়তা ও স্বপ্রণোদনা রয়েছে এবং এতে আধিক্যের প্রভাব বিদ্যমান। (লিসানুল আরব, ইবনে মানযূর রহ., খ- : ১০, পৃষ্ঠা : ১৩৯, অধ্যায় : গাইন)। বিভিন্ন গ্রন্থে গাঊছের নানা অর্থ পাওয়া যায়। বিখ্যাত উর্দু অভিধান ফিরোজুল লুগাতে রয়েছে ‘গাঊছ হলো বেলায়াতে ইলাহির একটি স্তর।’ বাংলা একাডেমি ব্যবহারিক বাংলা অভিধানে আছেÑ ‘গাঊছ দরবেশদের স্তর বিশেষ।’ উর্দু-বাংলা অভিধান ফারহাঙ্গে রব্বানী ও ফারহাঙ্গে জাদীদে আছেÑ দরবেশ মহাপুরুষদের উপাধি; আধ্যাত্মিকতার সেই স্তর, যে স্তরে পৌঁছলে সাধকের সব অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পরম প্রভুর স্মরণে নিমগ্ন থাকে। 

সুফি পরিভাষায় গাঊছ হলোÑ কুতবের বিশেষণ বিশেষ। দরবেশদের প্রধানকে কুতব বলে। গাঊছ তখন বলা হয়, যখন তিনি সাহায্য করার ক্ষমতা বা শক্তি অর্জন করেন বা প্রাপ্ত হন। বিভিন্ন সুফি ধারায় গাঊছ ও কুতব পূর্বাপর রয়েছে। (ইসলামি পরিভাষা, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)। 
তরিকতের পরিভাষায় ‘গাঊছ’ হলোÑ মারিফাত ও তাসাউফের সালিকিনদের সাতাশ বা উনত্রিশ স্তরের একটি স্তর এবং মাজমুআয়ে উছমানীতে বর্ণিত ইনসানের উনচল্লিশ পর্বের দ্বাবিংশ পর্ব; এটি বিলায়াত ও খিলাফাতের বিশেষ ধাপ। এই স্তরের ওলিরা বিশেষ ক্ষমতা ও কর্তৃত্বপ্রাপ্ত হয়ে থাকেন। তাসাউফের পরিভাষায় গাঊছ তাদের বলা হয়, যারা আধ্যাত্মিক জগৎ পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি জাগতিক তাসাররুফের ক্ষমতাও লাভ করেন। কখনও কখনও গাঊছের সঙ্গে নানা বিশেষণ যুক্ত হয়, যেমনÑ গঊছে ছামদানী, গাঊছে ছাকালাঈন, গাঊছে যামান, গাঊছে দাওরান, গাঊছুল আযম ইত্যাদি। (মাজমুআয়ে উছমানী)। 
দ্রষ্টব্য : গিয়াছুল লুগাত, আল মুআয়্যিদ, লাব্বুল আলবাব, ছরাহ, মিদার, মুনতাখাব, কাশফ ও ফেরদৌছুল লুগাত, লুগাতে কিশওয়ারী, আল মানার, আল কাউছার, মিসবাহুল লুগাত, আল মুজামুল ওয়াসীত।