আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৫-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

রাজশাহীতে নিরাপদ সড়ক বিষয়ে সভা

লেগুনার কী হবে, এ প্রশ্নের উত্তর মেলেনি

রাজশাহী ব্যুরো
| নগর মহানগর

রাজশাহীতে ‘নিরাপদ সড়ক বিষয়ে করণীয়’ শীর্ষক একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে অনুষ্ঠিত এ সভায় রাজশাহী মহানগরীতে লেগুনা চলাচল নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেনি। সম্মেলনে পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের এক নেতা বলেন, মহাসড়কে চলাচলকারী একটি লেগুনারও কোনো কাগজপত্র নেই। তাই যেখানে খুশি, যেভাবে খুশি লেগুনাগুলো চলাচল করছে। অপ্রাপ্ত বয়স্কদেরও গাড়িটির স্টিয়ারিং ধরতে দেখা যাচ্ছে। এতে বড় দুর্ঘটনার কারণ হচ্ছে ছোট এ যান। 

সম্প্রতি নাটোরে লেগুনার কারণে দুর্ঘটনায় ১৫ যাত্রী নিহত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে মহাসড়কে গাড়িটি নিষিদ্ধ করার দাবি জানালেন রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের আহ্বায়ক কামাল হোসেন রবি। তার সঙ্গে একমত প্রকাশ করলেন রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মুনজুর রহমান পিটারও। সভার সভাপতি রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার নূর-উর-রহমান সভায় উপস্থিত বিআরটিএ’র বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক স্বদেশ কুমার দাসের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তারা লেগুনার কোনো নিবন্ধন দিতে পারেন না। এগুলো কোনো আইনের ভেতর দিয়ে চলাচল করে না। ফলে লেগুনার কী হবেÑ সে প্রশ্নের উত্তর দেওয়া কঠিন। স্বদেশ কুমার দাস বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বিদেশ থেকে লেগুনা আমদানির অনুমতি দিয়ে রেখেছে। এ কারণে গাড়িগুলো বিদেশ থেকে আসছে। কিন্তু সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় এগুলোর নিবন্ধনের কোনো সুযোগ দেয়নি। তাই বিআরটিএ এগুলোর নিবন্ধন দিতে পারে না। ঠিক কোন রাস্তায় এসব যানবাহন চলবে, তারও কোনো নির্দেশনা নেই। এজন্য যেখানে খুশি সেখানে লেগুনাগুলো চলাচল করে।
সভায় পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক নিশারুল আরিফ বলেন, ‘ট্রাফিক পুলিশ জানেই যে, লেগুনার কোনো কাগজপত্র নেই। তাই গাড়িগুলো আটকানো হয় না। সরকার এসব গাড়ি নিষিদ্ধ করলে, অথবা বিআরটিএ নিবন্ধন দিলেÑ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের একটি সুযোগ তৈরি হবে। তবে এখন এসব গাড়ির চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখা হয়।’ 
বিভাগীয় কমিশনার নূর-উর-রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি গরিব দেশ। বহু মানুষ কয়েক লাখ টাকা করে বিনিয়োগ করে গাড়িগুলো কিনেছে। গাড়িটির ওপর একটি বা দুটি পরিবার নির্ভরশীল। এখন হাজার হাজার লেগুনা জব্দ করে ডাম্পিংও করে সেই পরিবারগুলোর আয়ের উৎস বন্ধ করা যাবে না। কিন্তু এগুলো দুর্ঘটনার কারণ হয়ে আরও অধিক পরিবারের কান্নার কারণ হবে, সেটাও মেনে নেওয়া যায় না। তাই এগুলো যেন আইনি কাঠামোর ভেতর আসেÑ সে ব্যাপারে নীতিনির্ধারণী মহলেরই সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার।’
বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ‘সড়কে নিরাপত্তা নিয়ে মন্ত্রণালয়ে আমাদের মাঝেমধ্যেই সভা হয়। কিন্তু অনেক গুরুত্বপূর্ণ বড় বড় ইস্যুর সামনে এগুলো নিয়ে তেমন আলোচনার সুযোগ হয় না। কিন্তু এগুলো নিয়েও আলোচনা করতে হবে। দুই মন্ত্রণালয়কে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তা না হলে নাটোরের মতো দুর্ঘটনা ঘটতেই থাকবে। বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটবে। আমরা দুর্ঘটনা চাই না।’ 
বিভাগীয় কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় অন্যদের মধ্যে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) আমিনুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক এসএম আবদুল কাদের, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ্ মোমিন, জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান, জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি সাদরুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।