আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৫-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

সাড়ে ৯ হাজার হতদরিদ্রের মানবেতর জীবন

বরিশালে বয়স্ক-প্রতিবন্ধী বিধবা ভাতা আট মাস বন্ধ

বরিশাল ব্যুরো
| শেষ পাতা

বরিশালের মুলাদি ও বাবুগঞ্জ উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ও বিধবারা তাদের ভাতা পাচ্ছেন না। দুই উপজেলার প্রায় সাড়ে ৯ হাজার ভাতাভোগী মাসের পর মাস নিদারুণ কষ্টে আছেন। এর মধ্যে মুলাদিতে স্থানীয় সমাজসেবা অধিদপ্তর ও সোনালী ব্যাংক একে অপরকে দায়ী করছে। অপরদিকে বাবুগঞ্জের চেয়ারম্যানের কাছে ভাতার ফাইল চাপা পড়ে আছে। এমন জটিলতায় ভাতাবঞ্চিত হয়ে প্রায় আট মাস ধরে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ও বিধবাদের।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মুলাদি উপজেলায় ৫ হাজার ৪৬৩ বয়স্ক, ২ হাজার ২৫৭ বিধবা এবং ১ হাজার ১৫৫ তালিকাভুক্ত প্রতিবন্ধী ভাতা সুবিধাভোগী আছেন। প্রতি তিন মাস পরপর তাদের ভাতা প্রদান করা হতো; কিন্তু গত বছরের ডিসেম্বরের পর তারা আর ভাতা পাননি। এ সময়ের মধ্যে দুটি ঈদ উৎসব উদযাপিত হলেও ভাতা না পাওয়া ৮ হাজার ৮৭৫ বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী উৎসব থেকে বঞ্চিত হন। সদর ইউনিয়নের বয়স্ক ভাতাভোগী আবদুর রহমান জানান, আট থেকে ৯ মাস ধরে ভাতা না পাওয়ায় নিদারুণ কষ্টে দিন যাচ্ছে, ওষুধও কিনতে পারছেন না। একই এলাকার বিধবা ভাতাভোগী জুলেখা বেগম জানান, বারবার সমাজসেবায় গেলেও ভাতা পাইনি। কবে পাবেন তারও ঠিক নেই।

মুলাদির সমাজসেবা কর্মকর্তা উত্তম কুমার বিশ^াস জানান, ঈদের আগে ভাতাভোগীদের তালিকা প্রস্তুত করে সোনালী ব্যাংকের শাখায় পাঠানো হয়েছে; কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা প্রদানের কারণে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধীদের ভাতা দেয়নি। তবে মুলাদি শাখা সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মো. রেজাউল করীম জানান, পৌর এলাকা ও সদর ইউনিয়নের তালিকা যথাসময়ে হাতে না পাওয়ায় তারা ভাতা দেওয়া শুরু করতে পারছেন না। তবে আগামী সপ্তাহের মধ্যে বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধীদের ভাতা দেওয়া শুরু করার কথা জানান তিনি।
এদিকে বাবুগঞ্জ উপজেলায় ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ও বিধবা ৬২২ জন এখনও কোনো ভাতা পাননি। প্রায় ১ বছর ধরে ভাতা বন্ধ থাকায় হতদরিদ্ররা চরম বিপাকে পড়েছেন। উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের একাধিক হতদরিদ্র জানান, তারা কেবল সমাজসেবা দপ্তরে দৌড়াচ্ছেন; কিন্তু ভাতা পাচ্ছেন না। রহমাতপুর ইউপির এক ভাতাভোগী জানান, এ তালিকায় নিজেদের লোকজন রাখার জন্য বিলম্ব করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা অবশ্য বলেছেন, তারা ভাতাভোগীদের তালিকা অনেক আগেই পৌঁছে দিয়েছেন। কেন এখনও ভাতা দেওয়া হচ্ছে না তা রহস্যজনক।
এ ব্যাপারে বাবুগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহমুল হাসিব জানান, তার উপজেলায় প্রায় ৭ হাজার বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ও বিধবা ভাতাভোগী রয়েছেন। এর মধ্যে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের রয়েছেন ৬২২। তাদের ভাতা ১ বছর ধরে দেওয়া সম্ভব হয়নি। এর কারণ হিসেবে তিনি জানান, তালিকা পাঠাতে জনপ্রতিনিধিদের বিলম্ব হয়েছে। সব উপজেলার চেয়ারম্যান সময়মতো তালিকা দেননি। বর্তমানে ওই তালিকা উপজেলা চেয়ারম্যানের খতিয়ে দেখার অপেক্ষায় রাখা হয়েছে।