আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৫-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

মেয়ের বাবা ডাক শোনা হলো না ইয়াকুবের

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি
| শেষ পাতা

মেয়ের বাবা ডাক আর শোনা হলো না রাঙ্গুনিয়ার ওমান প্রবাসী যুবক ইয়াকুব আলীর। তার আগেই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা কেড়ে নিল তার প্রাণ। ওমানের রাজধানী মাস্কাট শহরের অদূরে আল-খাবুরায় সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়। কাজে যাওয়ার আগে সকালে ও ফিরে এসে রাতে মেয়ের মুখ থেকে বাবা ডাক শুনতে প্রতিদিন ইমুতে ভিডিও কল করতেন ইয়াকুব। ঘটনার দিনও সকালে ফোনে বাড়ির সবার সঙ্গে কথা বলেছিলেন। এমনকি দুই বছরের মেয়ে ইসমা আকতারও কথা বলেছিল বাবার সঙ্গে। অন্যদিনের মতো তার বাড়ির সবাই সেদিনও মেয়েকে শিখিয়ে দিচ্ছিল ইয়াকুবকে বাবা বলে ডাকার জন্য। সেও একটু একটু চেষ্টা করছিল বাবা ডাকার। তার ভিন্ন সুরে বাবা ডাকার চেষ্টা বাড়ির সবার মাঝে হাসির রোল পড়ে গিয়েছিল। এভাবেই প্রতিদিন চলত ইয়াকুবের মেয়ে ইসমার বাবা 

ডাকার প্রশিক্ষণ। ইয়াকুবের ফুপাতো ভাই মো. জাবেদ বলেন, ‘২০০১ সালে বেতাগীর রোটারি বেতাগী উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিল ইয়াকুব। বন্ধুদের সঙ্গে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান আর খেলাধুলা নিয়ে মেতে থাকতেন সারাক্ষণ। ২০০৮ সালের দিকে ওমানে জীবিকার সন্ধানে যান তিনি। সেখানে গিয়ে পেশাগতভাবে খুব ভালো একটা অবস্থানে গিয়েছিল নিজ উদ্যোগে। নিজেই অপর বন্ধুদের সঙ্গে অংশীদারে লাইসেন্স নিয়ে একটা এলোমিনিয়াম দোকান দিয়ে বিভিন্ন বড় বড় কন্ট্রাকে কাজ নিতেন ইয়াকুব। তিনি আরও বলেন, প্রবাসে যাওয়ার পর একটানা ৭ বছর পর দেশে আসেন তিনি। এরপর উপজেলার পোমরা ইউনিয়নের সাইনিপাড়া এলাকার আবু তাহেরের মেয়ের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের চার মাসের মাথায় তিনি আবার ওমানে চলে যান। বিয়ের দেড়বছর পর তিনি কন্যা সন্তানের বাবা হন। মেয়ের বয়স যখন এক বছরের কাছাকাছি তখন একবার মেয়েকে দেখতে দেশে এসেছিলেন। এরপর আবারও বিদেশ চলে গেলেও নিয়মিত রাতে ও সকালে সুযোগ পেলেই ইমুতে ভিডিও কলে মেয়ে ও পরিবারের সবার সঙ্গে কথা বলতেন তিনি। বাবা মো. সৈয়দ বলেন, ইয়াকুবের বড় ভাই সেলিম ও ফারুক সৌদি আরবে থাকেন। সম্প্রতি ফারুকের দেশে আসার কথা ছিল। তিনি দেশে আসবে শুনে ইয়াকুবও ভাইকে দেখতে ১৫ দিনের জন্য দেশে আসার কথা বলেছিলেন। কিন্তু নিষ্ঠুর নিয়তি তাকে লাশ বানিয়ে দেশে আনছে। মামা নুরুল আলম বলেন, ইয়াকুব তিন ভাই তিন বোনের মধ্যে পঞ্চম। তার ছোট বোন পড়ালেখা করছে। তার লাশ দেশ আনতে এখান থেকে চেয়ারম্যান সার্টিফিকেট ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে। সপ্তাহ খানেকের মধ্যে তার লাশ দেশ আনা হতে পারে।
উল্লেখ্য, ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় রাঙ্গুনিয়া প্রবাসী ইয়াকুব আলীসহ তিন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। ইয়াকুব চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের সিকদারপাড়া এলাকার মোহাম্মদ সৈয়দের ছেলে। বুধবার ওমানের স্থানীয় সময় বিকাল সাড়ে ৫টায় কর্মস্থল থেকে ফেরার পথে ওমানের রাজধানী মাস্কাট শহ?রের অদূরে আল-খাবুরায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়।