আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৫-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

মাঠে ১০ মনোনয়ন প্রত্যাশী

হাফিজুর রহমান, নওগাঁ
| শেষ পাতা

নওগাঁর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসন নওগাঁ-২। এ আসনটি জাতীয় সংসদের ৫০নং নির্বাচনি এলাকা হিসেবে পরিচিত। পতœীতলা ও ধামইর হাট উপজেলা নিয়ে এ আসন গঠিত। এ আসনে সব দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা এলাকায় এখন সক্রিয়। তারা গণসংযোগে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। নিজেদের নানাভাবে জনসাধারণের মাঝে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, কমিউনিস্ট ও বিকল্প ধারার অন্তত ১০ জন মনোনয়ন প্রত্যাশীর নাম শোনা যাচ্ছে। এসব মনোনয়ন প্রত্যাশী শুধু এলাকায় নয়, কেন্দ্রতেও লবিং-গ্রুপিং অব্যাহত রেখেছেন। এ আসনের পতœীতলা উপজেলার মোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৮০ হাজার ৩৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৯০ হাজার ৮৬ জন। মহিলা ভোটার ৯০ হাজার ২৫৪ জন। ধামইর হাট উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৪৪ হাজার ১৫৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৭২ হাজার ১১ জন। মহিলা ভোটার ৭২ হাজার ১৪৮ জন। এ আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য জাতীয় সংসদের হুইপ মো. শহিদুজ্জামান সরকার বাবলু। তিনি আওয়ামী লীগের একজন ত্যাগী নেতা। ১৯৮০ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত তিনি একাধিকবার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। ১৯৭৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখার সময় তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ১৯৭৯ সালে আইন পেশায় জড়িয়ে পড়েন। তিনি নওগাঁ জেলা জজ আদালতে ও রাজশাহী মহানগর জজ আদালতে প্র্যাকটিস শুরু করেন। ১৯৮৩ সালে তিনি জজ হিসেবে নিয়োগ পান। কয়েক বছর পর তিনি চাকরিতে ইস্তেফা দেন। আবার শুরু করেন আইন পেশার কাজ। আইন পেশার পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ও নওগাঁ ৫ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল জলিলের আস্থাভাজন হয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে পড়েন। তিনি পতœীতলা ও ধামইর হাট এ দুই উপজেলাবাসীর পাশে দাঁড়ান। তাদের সুখে-দুঃখে খোঁজখবর নেওয়াসহ সব রকমের সহযোগিতার হাত বাড়ান। দলের প্রতিটি প্রোগ্রাম কেন্দ্রের কর্মসূচি অনুযায়ী পালন করতে থাকেন। তিনি বিগত ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রতীক নৌকা মার্কা নিয়ে ভোটযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে বিজয়ী হন। ওই ৫ বছরে তিনি তার দুই উপজেলার রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ, ক্লাবসহ সব প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে তিনি আবারও নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হন। এ নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী তাকে জাতীয় সংসদে হুইপ নির্বাচিত করেন। এ বিগত প্রায় ৫ বছরে তিনি পতœীতলা উপজেলায় উপজাতিদের জন্য আধুনিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন, পতœীতলার পাশে মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র স্থাপন, প্যারামেডিকেল কলেজসহ অসংখ্য প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছেন। এলাকাবাসী তাকে শান্তিপ্রিয় মানুষ হিসেবে মনে করেন। তিনি আসন্ন সংসদ নির্বাচনে আবারও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী।
আওয়ামী লীগের আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আমিনুল হক। তিনিও এলাকায় গণসংযোগ করছেন। আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী ইঞ্জিনিয়ার আখতার আলম। এলাকায় প্রচার-প্রচারণার জন্য তিনি পোস্টার, বিলবোর্ড লাগিয়েছেন। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক সংসদ সদস্য মো. শামসুজ্জোহা খান। তিনিও নওগাঁ ২ আসনের এমপি ছিলেন। এছাড়া তিনি জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি মনে করেন, এবারও আমি দলের মনোনয়ন পাব। 
আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী আলহাজ খাজা নাজিবুল্লাহ চৌধুরী। তিনি পরপর কয়েকবার মনোনয়ন চেয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নির্বাচনের মাঠে আছেন। অতীতের দিনগুলোতে মনোনয়ন না পেয়েও নির্বাচনের মাঠ ছাড়েননি। তিনি সব নেতাকর্মীর পাশে আছেন, তাদের খোঁজখবর রাখেন। ১/১১ সময়ে দলের পক্ষে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারীদের মধ্যে তিনি একজন সাহসী সৈনিক। খালেদা জিয়া, তারেক রহমান মুক্তি পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে তিনি নওগাঁ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতির দায়িত্বে আছেন। আলহাজ খাজা নাজিবুল্লাহ চৌধুরীর জন্ম নওগাঁর পতœীতলা উপজেলার ক্ষিরসীন গ্রামে। নাজিবুল্লাহ চৌধুরী জানান, দলের দুঃসময়ে কান্ডারি হয়ে এলাকার নেতাকর্মীদের পাশে আছি। পতœীতলা ধামইরহাট এলাকা ঘুরে বিএনপির ত্যাগী অসংখ্য নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, আমরা পরিবর্তন চাই। সৎ, যোগ্য, মেধাবী ও তরুণ নেতৃত্ব আমরা চাই। দলকে সামনে সুসংগঠিত করে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে এমন বিবেচনায় খাজা নাজিবুল্লাহ চৌধুরীকে তারা তাদের পছন্দের প্রার্থীর তালিকায় শীর্ষে রেখেছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম এ তালিকার পক্ষে শতভাগ সমর্থন দিয়েছে। এ নিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাশী আলহাজ মো. খাজা নাজিবুল্লাহ চৌধুরীর সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি বলেন, ভোটের আগে ভোটের পরিবেশ ফিরিয়ে দিতে হবে। নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। খালেদা জিয়াকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সব মামলা নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহার করতে হবে। ইভিএম পদ্ধতি বাতিল করতে হবে। ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে দিতে হবে। আমি বিশ্বাস করি ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে এলে শুধু পতœীতলা ধামইরহাট নয়, বাংলাদেশের অধিকাংশ আসন বিএনপির দখলে চলে আসবে। বিএনপির আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী রফিকুল ইসলাম লিটন। তিনি এলাকায় না থাকলেও মাঝে মাঝে এলাকায় এসে তার কথা জনগণের মাঝে ব্যক্ত করেন। 
জাতীয় পার্টি থেকে সাবেক সংসদ সদস্য হুমায়ন কবির চৌধুরীর নাম শোনা যাচ্ছে। তিনি বিগত এরশাদ সরকারের শাসন আমলে এ আসনের এমপি ছিলেন। তিনি এবারও জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী। বিকল্প ধারা থেকে আবদুর রউফ মান্নানের নাম শোনা যাচ্ছে। তিনি বিকল্প ধারার কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন। তিনি একসময় পতœীতলা উপজেলা বিএনপির নীতিনির্ধারকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তার বিশ্বাস বিকল্প ধারার সঙ্গে যদি বিএনপির সমঝোতা হয়, তাহলে এ আসন থেকে তিনি মনোনয়ন পাবেন। কমিউনিস্ট পার্টি থেকে দেব লাল টুডুর নাম শোনা যাচ্ছে। তিনি এ আসন থেকে কমিউনিস্ট পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশী।