আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৫-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

খালেদার মেডিকেল বোর্ড

ব্যক্তিগত চিকিৎসক না থাকায় উদ্বিগ্ন বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
| প্রথম পাতা

কারাবন্দি খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের না রাখায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিএনপি। শুক্রবার বিকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এ উদ্বেগের কথা জানান। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য বিএসএমএমইউ (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী মেডিকেল বোর্ডে বিএসএমএমইউ’র চিকিৎসকরাই রয়েছেন। খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মেডিকেল বোর্ডে রাখা হয়নি, যা বিদ্বেষপ্রসূত মনোভাবেরই বহিঃপ্রকাশ। 

রিজভী বলেন, কারা কর্তৃপক্ষের মৌখিক বার্তা অনুযায়ী মেডিকেল বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য দেশনেত্রীর ব্যক্তিগত পাঁচ চিকিৎসকের নাম দলের পক্ষ থেকে প্রেরণ করা হয়েছিল; কিন্তু তাদের নাম বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত না করায় বিএনপি শুধু উদ্বিগ্নই নয়, বরং দেশনেত্রীকে চিকিৎসা না দিয়ে তাকে গুরুতর শারীরিক ক্ষতির দিকে ঠেলে দেওয়ার জন্য এটি সরকারের অশুভ পরিকল্পনারই অংশ বলে দল মনে করে। তিনি বলেন, যেসব চিকিৎসকের নাম বিএনপি সুপারিশ করেছিল তারা চিকিৎসা শাস্ত্রের স্ব-স্ব ক্ষেত্রে প্রথিতযশা এবং চিকিৎসাঙ্গনের সিনিয়র অভিজ্ঞ চিকিৎসক; দেশজুড়ে তাদের খ্যাতিও রয়েছে; তারা বেগম জিয়ার চিকিৎসক হিসেবে তাকে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন। দীর্ঘদিন থেকে চিকিৎসা দেওয়ায় তারা খালেদা জিয়ার যে শারীরিক অসুস্থতা, সে সম্পর্কে অবগত রয়েছেন।
রিজভী বলেন, সরকার কর্তৃক গঠিত মেডিকেল বোর্ডে অন্যতম সদস্য ডা. আবু জাফর চৌধুরী নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি প্রার্থী, তিনি দলীয়প্রার্থী হিসেবে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ব্যাপক নির্বাচনি প্রচারণা চালাচ্ছেন। অপর সদস্য অধ্যাপক ডা. হারিসুল হক আওয়ামী লীগ সমর্থিত চিকিৎসক সংগঠন স্বাচিপ (স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ) বিএসএমএমইউ’র ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক। এছাড়াও অধ্যাপক ডা. তারেক রেজা আলী আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিষয়ক উপকমিটির সদস্য। সুতরাং সরকারের গঠিত বোর্ডে মনোনীত চিকিৎসকদের বাছাইয়ের ক্ষেত্রে পেশাগত দক্ষতার চেয়ে সরকারদলীয় আনুগত্যের ক্ষেত্রকেই অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অতএব আওয়ামী লীগের প্রতি অনুগত চিকিৎসকদের অন্তর্ভুক্ত মেডিকেল বোর্ডের মাধ্যমে যথাযথ চিকিৎসা এবং তার শারীরিক পর্যবেক্ষণ সঠিকভাবে প্রতিফলিত হবে না। কারণ, সরকার কর্তৃক গঠিত মেডিকেল বোর্ড সরকারের নির্দেশ মতোই কাজ করবে। খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের মেডিকেল বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান রিজভী। অন্যথায় কর্তৃপক্ষের অবহেলায় যদি খালেদা জিয়ার কোনো ক্ষতি হয়, সেজন্য এর সম্পূর্ণ দায় সরকারের ওপর বর্তাবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। এর আগে সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, খালেদা জিয়া কারাগারে গুরুতর অসুস্থ। তিনি হাত-পা নাড়াতে পারেন না, হাঁটাচলা করতে মারাত্মক অসুবিধা হয়। গুরুতর অসুস্থতার কারণে আদালতে যেতে পারবেন না, বেগম জিয়া সে কথাটিই বলেছেন। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ জোর করে আদালতকে ব্যবহার করে বিচারকার্য ছাড়াই রায় দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। প্রতিহিংসার বিচার চরিতার্থ করতেই তাড়াহুড়ো করার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। রাষ্ট্রপক্ষের এ চাপ সরকারের নির্দেশেই হচ্ছে।