আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৬-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

মানসিক বিকাশে খেলার মাঠ ও পাঠাগার

রায়হান আহমেদ তপাদার
| সম্পাদকীয়

আন্তর্জাতিক খেলার জগতে দিন দিন বাংলাদেশের ভিত মজবুত হচ্ছে। যথার্থ সহযোগিতা, উৎসাহ আর উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে খেলোয়াড়দের এগিয়ে যাওয়া সহজ হবে। অলসভাবে বসে থাকলে চলবে না। উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যোগ্য ক্রীড়াবিদ তৈরিতে নিতে হবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।
অর্থনৈতিক দৈন্য না থাকলে উন্নত প্রশিক্ষণ নিয়ে আমাদের সন্তানরা খেলাধুলায় শীর্ষে স্থান করে নিত নিঃসন্দেহে। আজ গ্রামে খেলোয়াড়ের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। এটা অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়। খেলাধুলায় আধুনিক কৌশল শিক্ষাব্যবস্থাসহ গ্রামের সার্বিক ব্যবস্থাপনা অটুট রাখা একান্ত কর্তব্য। আগে গ্রামের মানুষ পতিত জমি মাঠ হিসেবে ব্যবহার করত। সেখানে দৌড়ঝাঁপ, হাডুডু, ফুটবল আরও কত খেলাই না খেলত। আজ পতিত জমি দখল হয়েছে, জমিগুলো উদ্ধার করা প্রয়োজন। খেলাধুলার উন্নয়নের জন্য এগুলো রক্ষা করা উচিত। সেই সঙ্গে আগামী প্রজন্মকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে নিতে হবে ব্যাপক কার্যক্রম। কারণ বাঙালিরা অলস-অথর্ব নয়। এরা পরিশ্রমী-খেলাধুলায় পারদর্শী। এদের রয়েছে অনেক শৌর্যবীর্যের ইতিহাস। মানুষকে সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। খেলাধুলা মনে স্বাচ্ছন্দ্য আনে, দেহে প্রশান্তি ঘটায়। পরিচ্ছন্ন বিনোদন ও খেলাধুলায় যে শিশু বেড়ে উঠে তার পক্ষে সফল মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠা সম্ভব। আবার অপরিচ্ছন্ন বা কুয়াশাচ্ছন্ন বিনোদনে বেড়ে ওঠা শিশুর জীবন ধ্বংস হতে বাধ্য। এ কারণে বলা হয়, শিশু বয়সে মানুষ যা গ্রহণ করে পরবর্তী জীবনে সে তা লালন করে। আমরা আমাদের দেশকে আলোকিত ও পরিচ্ছন্ন মানুষে ভরপুর করে গড়ে তুলতে চাই, এর জন্য দরকার সুস্থ-সুন্দর সহজলভ্য খেলাধুলা ও বিনোদনব্যবস্থা।
আমরা লক্ষ করছি, সারা দেশে খেলার মাঠ কমে যাচ্ছে, পক্ষান্তরে লোকসংখ্যা বাড়ছে। প্রতিটি নগরীতে আবাসিক এলাকা, বাণিজ্যিক এলাকা, মার্কেট, খেলার মাঠ, বিনোদন কেন্দ্র, অফিস, হাসপাতাল কোথায় হবে এটা নির্ধারণ ও পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমেই নগরী সম্প্রসারণ দরকার। আবার পরিকল্পনা যাতে যথাযথ বাস্তবায়ন হয়, সেই পদক্ষেপও প্রয়োজন। একটা বিষয় আজ লক্ষণীয় যে, রাজধানীসহ সারা দেশের শহরগুলোয় শিশুরা সাঁতার শেখার স্থান খুঁজে পায় না। বাংলাদেশে বন্যা হয়, আবার অতি বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা হয়। বাংলাদেশ প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ দেশ।
এদেশের মানুষকে দুর্যোগ মোকাবিলা করে বেঁচে থাকতে হয়। এমন দেশের শিশুদের বিপুল অংশ আজ সাঁতার শেখা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সাঁতার শেখার জন্য শহরে যে কমপ্লেক্সগুলো রয়েছে, তা জনসংখ্যার তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। একটি কথা মনে রাখা দরকার, ছেলেমেয়েদের সাঁতার শেখার জন্য সুব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। তা না হলে সাঁতার না জানা বিপুল জনগোষ্ঠী দেশের জন্য বোঝা হয়ে উঠবে। তাদের জন্য দুর্যোগ মোকাবিলা করা কঠিন হবে। রমনা লেকের পানি পরিবর্তনের ব্যবস্থা নিয়ে লেকের পাড় যাতে ভেঙে না পড়ে, সেজন্য দেওয়াল নির্মাণ করে সাঁতার শিক্ষাসহ আরও কিছু বিনোদনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এতে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক শিশু সাঁতার না জানার দুর্নাম থেকে পরিত্রাণ পাবে। শেরেবাংলা নগর, ধানমন্ডি, গুলশান ও বনানীতেও পানি পরিবর্তন করা যায়, এরকম লেক রয়েছে। তাতেও সাঁতার শেখানোর ব্যবস্থা চালু করা যায়।
খেলাধুলার পাট যেমন লাটে উঠেছে, তেমনি মনোজগতের প্রস্ফুটনের জন্য শিশু বয়স থেকেই যে অভ্যাসটি গড়ে ওঠার কথা, তা হচ্ছে না। সেটি বই পড়ার অভ্যাস। বই বলতে এখন বোঝায় স্কুলের গাদা গাদা পাঠ্যবই। একেবারে কুসুম ফোটার কাল থেকে অর্থাৎ একটি শিশু যখন ক্লাস টু বা থ্রিতে পড়ে, তখন থেকেই তার কাঁধে-পিঠে তুলে দেওয়া হয় প্রয়োজনীয়-অপ্রয়োজনীয় সব বিষয়ের পুঁথি-পুস্তকের বোঝা।
শিশু-কিশোরদের খেলার মাঠ, সাঁতার কাটার পুকুর, গাছে গাছে চড়ে আম-জাম-পেয়ারা খাওয়ার গাছ, শুধু এ ঢাকা শহরেই নয়, বাংলাদেশের প্রায় সব শহরেই উধাও হয়ে গেছে। এ নিয়ে সংগত কারণেই আমাদের আক্ষেপের সীমা নেই। মেয়েরাও সঙ্গী-সাথীদের নিয়ে এক্কাদোক্কা, বৌচি, দাড়িয়াবান্ধা ইত্যাদি খেলত। তেমনি প্রায় প্রত্যেক পাড়ায়ই ছিল একটি-দুটি পুকুর। সেখানে স্কুলে যাওয়ার আগে ঘণ্টাখানেক পাড়ার ছেলেরা মিলে সাঁতার কাটা, নানারকম জলকেলিতে মেতে ওঠা, দাপাদাপি করাÑ এসব ছিল নিত্যদিনের রুটিন। আর প্রতিটি শহরে গাছগাছালিও ছিল কত। তার কোনোটা ব্যক্তিমালিকানার, কোনোটা বারোয়াড়িÑ সব ক’টিতেই ছিল শহরের শিশু-কিশোরদের সীমাহীন দৌরাত্ম্য, একচ্ছত্র আধিপত্য। এসব নিয়ে নালিশ-সালিশও যে হতো না, তা নয়। কিন্তু বিচার-আচার যারা করতেন, তারাও জানতেন জীবনের ঊষালগ্নে তারা নিজেরাও কম দাপিয়ে বেড়াননি চারদিক। তারাও ঘুঘু ডাকা বৈশাখি দিনে কোঁচড়ভর্তি কাঁচা আম, নুন-মরিচ আর ছোট্ট পেনসিলকাটা ছুরি নিয়ে বগুড়া জিলা স্কুলের বারান্দায় কাটিয়েছেন অনেক দুরন্ত দুপুর।
কাজেই ঢিল মেরে কাঁচা আম পাড়া আর সেই সঙ্গে নালিশ-সালিশÑ সবই ছিল সেই জীবনের অনুষঙ্গ।
হায়! এখন কোথায় সেই খেলার মাঠ, সাঁতার কাটার পুকুর আর ঢিল ছোড়ার আমগাছ। আমার না হয় এখন আর প্রয়োজন নেই ওসবের; আমি এখন জীবনসায়াহ্নে স্মৃতিভুক পড়ে আছি শৈশব-কৈশোরের দিনগুলো নিয়ে। কিন্তু যাদের জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত রাঙিয়ে তোলার কথা সেই খেলার মাঠ, সেই পুকুর আর গাছগাছালির, এখন সেগুলো কোথায়? মাঠগুলো এখন হারিয়ে গেছে অসংখ্য আকাশচুম্বী হর্ম্যরাজির গর্ভে, জলাশয়ের নাম-নিশানা মুছে সেখানেও উঠেছে দালানকোঠা, বিপণিবিতান।
রবীন্দ্রনাথের ভাষায়Ñ ‘ইটের পরে ইট, মাঝে মানুষ কীট নাইকো ভালোবাসা, নাইকো খেলা।’ আম-জাম খাওয়া বাদ দিয়ে আধুনিক নগরসভ্যতা সাবাড় করেছে গাছপালা! আর প্রকৃতির এ অবারিত দানগুলো থেকে আমরা বঞ্চিত করলাম আমাদের শিশু-কিশোরদের; বিকল্পে আমরা আমাদের সন্তানদের কী দিয়েছি?
খেলার মাঠের পরিবর্তে পাড়ায় পাড়ায় পাঠাগার? নৈবচ। যখন শহরে মাঠ ছিল খেলাধুলার জন্য, তখন ছেলেরা স্কুল থেকে এসে বই-খাতা ছুড়ে ফেলে কোথায় ছুটে যেত? না, ওই খেলার মাঠে।
আর এখন? এখন কোথায় যায়? হ্যাঁ, এখনও ছুটে যায় বটে; তবে তা খেলাধুলা করতে মাঠে-ময়দানে নয়, এখন ছুটে যায় তার পড়ার ঘরে দরজা বন্ধ করে নিবিষ্ট মনে কম্পিউটারে গেম খেলতে, আর না হয় ফেইসবুকে ডুবে যেতে। বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে মোবাইল ফোনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ‘চ্যাটিং’ করে কাটিয়ে দেওয়াটাও একটা বড় বিনোদন। আর যারা একেবারে শিশু, তারা টিভিতে তাদের প্রিয় চ্যানেল ঘুরিয়ে টিভি দখল করে বসে থাকে। এটা হচ্ছে হাল আমলের মধ্যবিত্ত-উচ্চবিত্ত পরিবারের চিত্র। এদের কোনো কোনো কিশোর আবার কুপথে-বেপথেও পা বাড়ায়। আর যারা গরিব, নিম্নবিত্ত ঘরের ছেলে, তারা সহজেই মাদক, ছিনতাই ইত্যাদির অন্ধকার জগতে জড়িয়ে পড়ে। তারা যে পরিবেশে বেড়ে ওঠে, সেখানে নানাবিধ অপকর্মে জড়িত না হওয়াটাই অস্বাভাবিক। তাদের দোষ কী? কোনোরকম সুস্থ বিনোদনের সুযোগই নেই তাদের জীবনে। তাদের বেশিরভাগই স্কুলে যায় (যদি যায়) যতটা না লেখাপড়া শিখে মানুষ হওয়ার জন্য, তার চেয়ে বেশি সময় কাটানোর জন্য। সারা দিন কোনো কাজকর্ম যখন নেই, তখন যাই, স্কুলে গিয়ে সময়টা কাটিয়ে আসি আমোদ-ফুর্তিতে। আর স্কুল থেকে ফেরার পর এদের ঘরে যখন টিভি-কম্পিউটার নেই, তখন ওগুলো নিয়ে মজে থাকাও নেই। তারা মেতে থাকে তাদের নিজস্ব ‘আন্ডারওয়ার্ল্ডের’ কায়কারবার নিয়ে, যেখানে শিখে নেয় অপরাধজগতের পহেলা সবক।
দুঃখের বিষয়, বর্তমানের নাগরিক জীবনে নানাবিধ চাহিদার চাপে পাঠাগার অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। এখন রাজধানী ও বড় বড় শহরের বড় বড় লাইব্রেরি ব্যতীত মফস্বল শহরের ব্যক্তি-উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত পাঠাগারগুলোর দেখা পাওয়াই দুষ্কর। প্রয়োজনীয় আগ্রহ ও উদ্যোগের অভাবে সেই ব্রিটিশ আমল ও পাকিস্তানি আমলের পাঠাগারগুলোর বেশিরভাগই হয় উঠে গেছে, আর না হয় সাইনবোর্ডসর্বস্ব অবস্থায় পড়ে আছে। মানুষের জীবন আগের মতো এখন আর আয়েশি নেই; মানুষ এখন জীবনধারণের জন্য নানা ধান্দায় উদয়ান্ত ব্যস্ত থাকে। এখন পাঠাগার স্থাপন বা পরিচালনার মতো ‘অর্থহীন’ ব্যাপারে সময় না দিয়ে, বরং রাজনীতির মতো ‘অর্থকরী’ বিষয়ে সময় দিতে বেশি উৎসাহী তারা। এখন জ্ঞান আহরণ গৌণ, অর্থোপার্জন মুখ্য এবং মোক্ষ। এখন বাবা নিজে বা তার সন্তান বিকালটি বা সন্ধ্যাটি পাঠাগারে বসে ‘সময় নষ্ট না করে’ দুটো কালো-ধলো কাঁচা পয়সার পেছনে ছুটে বেড়ায়। আর বই পড়ার কথা বলে যেহেতু ভোট পাওয়ার সম্ভাবনা জিরো, তাই রাজনৈতিক দলগুলোর এজেন্ডাতেও পাঠাগার অনুপস্থিত। রাজনীতিকদের পছন্দের বিষয় হচ্ছে, বক্তৃতা-বিবৃতিতে প্রতিপক্ষের মু-পাত করা, তাদের গাল দেওয়া এবং নিজেদের ঢাক পেটাতে পেটাতে ফাটিয়ে ফেলা। পাঠাগার স্থাপন করে, খেলার মাঠ বানিয়ে, বৃক্ষরোপণ করে যে নির্বাচনি বৈতরণি পার হওয়া যায় না, এটা তারা ভালো করেই জানেন। আপনি যদি বলেন, একটা পাঠাগার স্থাপন করুন, জ্ঞানবিজ্ঞানচর্চার দ্বার উন্মুক্ত করে দিন, জ্ঞানের আলোয় প্রদীপ্ত একটি জাতি গড়ে তুলুন, তারা হয়তো বলবেন, অত বেশি লেখাপড়া করে কী হবে। জানেন না, লেখাপড়া করে যে গাড়িচাপা পড়ে সে। এমনি দিন দিন সড়ক দুর্ঘটনা যেভাবে বাড়ছে, সেটা নিয়েই আমরা মহাদুশ্চিন্তায় আছি।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় হচ্ছে। বিগত দিনে এদেশে অনেক ক্রীড়াবিদ ছিল, এখনও আছে। আমরা জানি, সাঁতারে যিনি ইংলিশ চ্যানেল বিজয়ী হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন তিনি ব্রজেন দাস। তিনি নিজেই একটি ইতিহাস। একাগ্রতা এবং নিষ্ঠার কারণে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছিলেন। উচ্চাকাক্সক্ষার কারণে তিনি এগিয়ে যেতে পেরেছেন। আরও একজন খেলোয়াড় সুনাম অর্জন করেছেন, তিনি ফুটবলের কৃতী পুরুষ জাদুকর সামাদ। তিনি অপূর্ব কৌশলে গোল করতেন। এ খেলোয়াড় বাল্যকালে এতটাই ফুটবলপ্রেমী ছিলেন যে, সবসময় রাবারের একটি বল সঙ্গে রাখতেন। বাড়ি থেকে মাইলের অধিক দূরে স্কুলে যাওয়ার সময় এবং ফেরার পথে প্রত্যহ বলটি লাথি মারতে মারতে দৌড়ে স্কুলে যেতেন এবং ছুটির পর একইভাবে ফিরে আসতেন।
ফুটবল খেলার প্রতি তার আগ্রহ ও নিষ্ঠার ফলে তিনি শীর্ষে যেতে পেরেছেন। এমন সন্তানের কৃতিত্বে তার মা-বাবা ও দেশের মানুষ ধন্য হয়েছেন। তারা আমাদের কাছে অনুসরণ ও অনুকরণীয়।
শুধু এ দুজনই নন, ক্রীড়াজগতে সুনাম অর্জন করেছেন আরও অনেকে তাদের নিয়ে আমরা গর্ববোধ করি। আরও একটি বিষয় লক্ষণীয়, আবাসিক এলাকাগুলোয় খেলাধুলার ব্যবস্থা নেই, থাকলেও পর্যাপ্ত নয়। একেকটা বাসাবাড়ি যেন চারিদিকে গ্রিল দেওয়া একেকটি জেলখানা। এটা শিশুদের প্রতি বড় অন্যায়। প্রতিটি আবাসিক এলাকায় শিশু-কিশোরের মানসিক বিকাশের জন্য খেলার মাঠ অপরিহার্য। এতে শিশু-কিশোরদের মানসিক বিকাশ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন গড়তে সহজ হবে। এ কার্যক্রমের ফলে শুধু ক্রীড়াবিদ নন, যোগ্য প্রতিভাবান মানুষে দেশ ভরে যাবে। হ

রায়হান আহমেদ তপাদার
লেখক ও কলামিস্ট