আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৬-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

বন্ধের আশঙ্কায় বাংলাদেশ জুট মিল

দ্রুতই কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে

| সম্পাদকীয়

বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন (বিজেএমসি) নিয়ন্ত্রণাধীন নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল শিল্প এলাকার স্বনামধন্য বাংলাদেশ জুট মিলটি পাট সংকটের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পথে। আলোকিত বাংলাদেশে প্রকাশ, পাট সংকটের কারণে ওই মিলের উৎপাদন ৪৫ টন থেকে নেমে ৭ টনে চলে এসেছে। বন্ধ রয়েছে মিলের অধিকাংশ তাঁত মেশিন। এতে মিলের প্রায় সাড়ে ৪ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তার মাঝে মিল বন্ধের আতঙ্ক বিরাজ করছে। এছাড়া বেতন-ভাতা না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে তাদের। উল্লেখ্য, মিলের উৎপাদিত প্রায় ৩৫ কোটি টাকা মূল্যের অবিক্রীত পাটজাত পণ্য মজুত রয়েছে মিলের গুদাম ঘরে। স্থান সংকুলান না হওয়ায় উৎপাদিত ফিনিশিং বিভাগে যত্রতত্র পড়ে পণ্য নষ্ট হচ্ছে। পণ্য বিক্রি না হওয়ায় অর্থসংকটে পড়তে হচ্ছে মিল কর্তৃপক্ষকে। 
পাট ও পাটজাত পণ্য শুধু পরিবেশবান্ধব এবং সহজে পচনশীলই নয়, এটি পরিবেশকে প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা করে। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে সারা বিশ্বে পরিবেশবান্ধব তন্তু হিসেবে পাটের নতুন করে ব্যাপক সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এমন অবস্থা বিবেচনা করে বর্তমান সরকার পাটের উৎপাদন বৃদ্ধি ও পাট বিষয়ে বাংলাদেশের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে কিছু পণ্যের সরবরাহ ও বিতরণে কৃত্রিম মোড়কের ব্যবহারজনিত কারণে সৃষ্ট পরিবেশ দূষণরোধকল্পে বাধ্যতামূলকভাবে পাটজাত মোড়ক ব্যবহার নিশ্চিতকরণ। এসব কার্যক্রমে পাটজাত পণ্যের ব্যবহার প্রক্রিয়ায় কিছুটা হলেও সাফল্য দেখা দেয়। ধারণা করা হয়, শিগগিরই দেশের পাটকলগুলো আবারও গতিশীল হয়ে উঠবে, বৃদ্ধি পাবে পাট উৎপাদন। কিন্তু এমন সম্ভাবনাময় পরিস্থিতিতেও পাট সংকটের কারণে দেশের কোনো কোনো পাটকল বন্ধ হওয়ার উপক্রম হচ্ছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। 
কেন এমন হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা দরকার। অভিযোগ রয়েছে, বাংলাদেশ জুট মিলের পণ্য বিক্রি করে থাকে বিজেএমসি। উৎপাদিত পণ্য বিক্রি বাবদ বিজেএমসির কাছে ৯৩ কোটি টাকা পায় বাংলাদেশ জুট মিল। কিন্তু বিজেএমসি সময়মতো টাকা না দেওয়ার কারণে পাট কিনতে ও শ্রমিকদের বেতন-ভাতা দিতে পারছে না মিল কর্তৃপক্ষ। এছাড়া বাংলাদেশ জুট মিলের কাছে পাট ব্যবসায়ীরা ২৮ কোটি টাকা পাওনা থাকায় এখন পাটও সরবরাহ করছেন না তারা। অচিরেই সব পাওনা পরিশোধসহ পাটশ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত, তা না হলে সম্ভাবনাময় পাট শিল্প ফের মুখ থুবড়ে পড়বেÑ এটা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়। পরিবেশবান্ধব পাট ও পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধির স্বার্থে এবং পাটশ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের স্বার্থে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুতই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেÑ এটাই প্রত্যাশা।