আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৬-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

টেকনিক্যাল স্কুল কলেজ হবে প্রতি উপজেলায়

আইডিইবির সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

আলোকিত ডেস্ক
| শেষ পাতা

দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে সরকার প্রত্যেক উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ স্থাপনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুন্দর আগামীর জন্য ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারসহ সবাইকে নিবেদিতপ্রাণ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতি উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ স্থাপনের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে ১০০টির কাজ শুরু করা হয়েছে। এছাড়া চারটি সরকারি মহিলা পলিটেকনিক ও ২৩টি বিশ্বমানের নতুন পলিটেকনিক স্থাপনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে। শেখ হাসিনা শনিবার সকালে গণভবনে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইডিইবি) ২২তম জাতীয় কনভেনশনের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন। 

তিনি বলেন, কী পেলাম, কী পেলাম না; তার চিন্তা না করে আগামী প্রজন্ম যেন সুন্দর জীবন পায় সে লক্ষ্য নিয়ে আমাদের দেশকে আগে গড়ে তুলতে হবে। এক্ষেত্রে সবাইকে নিবেদিতপ্রাণ হয়ে কাজ করার জন্য আমি আহ্বান জানাচ্ছি। খবর বাসসের।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক বছর আমাদের নষ্ট হয়ে গেছে, ’৭৫ থেকে ’৯৬Ñ ২১টি বছর হারিয়ে গেছে। যে সময়টা প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের কোনো উন্নতিই হয়নি। উন্নতি হয়েছে ক্ষমতাসীনদের এবং তাদের ঘিরে থাকা মুষ্টিমেয় গোষ্ঠীর। বৃহৎ জনগোষ্ঠী কিন্তু বঞ্চিতই ছিল। তিনি বলেন, এ বঞ্চিত মানুষকে বঞ্চনার হাত থেকে মুক্তি দেয়াই আমি মনে করি আমার দায়িত্ব। লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা এ দেশকে স্বাধীন করেছি, তাই একে বঙ্গবন্ধুর স্বপে¦র ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ হিসেবেই আমরা গড়ে তুলব।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইডিইবি সভাপতি প্রকৌশলী একেএমএ হামিদ। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. শামসুর রহমান সম্মেলনের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থল থেকে কাকরাইল আইডিইবি ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজ এবং ভবনটির সম্মুখে রক্ষিত স্বাধীনতা ও বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্যের উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে একজন মরণোত্তরসহ তিনজনকে এ বছরের আইডিইবি স্বর্ণপদক প্রদান করেন। স্বর্ণপদকপ্রাপ্তরা হচ্ছেনÑ আবদুল কাদের সরকার, সৈয়দ উদ্দীন আহমেদ ওরফে চলচ্চিত্র নির্মাতা ছটকু আহমেদ এবং মরহুম মো. সফর আলী মিয়া (মরণোত্তর)।

স্বর্ণপদকপ্রাপ্তরা প্রত্যেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পদক, ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট গ্রহণ করেন এবং মরহুম সফর আলী মিয়ার পক্ষে তার বড় ছেলে এটিএম মোজাহারুল হোসেন পদক গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, সরকারের পদস্থ কর্মকর্তা, আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, শিক্ষাবিদ, বিদেশি কূটনীতিক এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি, আমন্ত্রিত অতিথি এবং ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়াররা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে সারা দেশের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের সংগঠন আইডিইবির তিন দিনব্যাপী ২২তম জাতীয় কনভেনশন উদ্বোধন করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা সেই পাকিস্তান আমল থেকেই বাংলার মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংগ্রাম শুরু করেন। তার ২৩ বছরের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আজকে আমরা স্বাধীন জাতি। তিনি যে মুহূর্তে এ স্বাধীনতার সুফল বাংলার মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করছেন, ঠিক তখনই তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তিনি বলেন, ছয় বছর দেশে আসতে পারিনি, আমাদের দেশে আসতে দেওয়া হয়নি। ’৮১ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আমাকে সভানেত্রী নির্বাচিত করলে আমি একরকম জোর করেই দেশে ফিরে এলাম। তারপর থেকেই আমার প্রচেষ্টা এ স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে হবে। বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য গড়তে হবে। তিনি বলেন, কী পেলাম, কী পেলাম না; সে চিন্তা আমি কখনও করিনি। ছেলেমেয়েকে বললাম, একটাই সম্পদ দেবÑ সেটা হচ্ছে শিক্ষা। তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করবে, আর কোনো সম্পদ নয়। বাংলাদেশের জনগণের জন্য কাজ করতে হবে। তাই ছোট ছোট বাচ্চা, ১০ বছরের ছেলে, ৮ বছরের মেয়েকে স্নেহবঞ্চিত করে চলে এসেছিলাম বাংলার মানুষের পাশে দাঁড়াতে। কারণ বাংলার মানুষ শোষিত, বঞ্চিত, নির্যাতিত ছিল এবং আমরা পরিকল্পিভাবে পদক্ষেপ নিয়েছি দেখেই আজকে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ। আমাদের সামনে অনেক দূর যেতে হবে, সে পরিকল্পনাও আমরা নিয়েছি।

সরকারি কর্মচারীদের বেতন ১২৩ ভাগ বৃদ্ধির প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেকের কাজের সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করে দিয়েছি, কর্মক্ষেত্রে কাজের পরিবেশ যাতে সুন্দর হয় সে ব্যবস্থা আমরা করেছি এবং সর্বোপরি এত বেশি প্রকল্প আমরা হাতে নিয়েছি এবং কাজ করে যাচ্ছি; যার সুফল বাংলাদেশের জনগণ পাচ্ছে। অনুষ্ঠানে প্রকৌশলীদের একটি ইনক্রিমেন্টের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, সরকারি কর্মচারীদের যে হারে বেতন বাড়িয়েছি, তাতে আর কিছু দাবি না করাই উচিত ছিল। তারপরও আপনাদের ইনক্রিমেন্টের ব্যাপারে অর্থ মন্ত্রণালয়ে একটা বৈঠক হয়েছে। এ ব্যাপারে শিগগিরই একটি ভালো ঘোষণা আসতে পারে। দক্ষ মানবসম্পদের চেয়ে কোনো সম্পদই বড় নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা এজন্য জনশক্তিকে জনসম্পদে পরিণত করার জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, কারিগরি শিক্ষা বিষয়ে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত সাড়ে নয় বছরে দেশব্যাপী সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে প্রায় ৫০০ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ও ইউনিভার্সিটি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে অনলাইনে ভর্তি পদ্ধতির পাশাপাশি সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলোয় ডাবল শিফট চালু করা হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ক্যাপাসিটি ২৫ হাজারের স্থলে ১ লাখে উন্নীত করার জন্য প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। তার সরকার এমডিজি বাস্তবায়নে সফল হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার আলোকে আমরা এসডিজির বিভিন্ন অভীষ্ট অর্জনে কাজ করে যাচ্ছি। ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি অর্জনেও আমরা সফল হব, ইনশাআল্লাহ। তিনি বলেন, আমরা শত বছরের ডেল্টা প্ল্যান বা বদ্বীপ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। ২১০০ সালের ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নের মাধ্যমে এক টেকসই উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আর্থসামাজিক সূচকে আমরা উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছি। মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৭৫২ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৭৮ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।