আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৬-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

ভাবিকে বিয়ে করতে ভাইকে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক
| খবর

দীর্ঘ আট বছর ধরে ভাবি কাজলের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক চলছিল দেবর আজমল হক মিন্টুর। কিন্তু দুই সন্তানের জননী কাজলের জন্য বাধা ছিল তার স্বামী মনিরুজ্জামান মনির। এ কারণে মনিরকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে স্ত্রী কাজল ও ভাই মিন্টু। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকায় এনে ভাড়াটে খুনি দিয়ে মনিরকে হত্যা করা হয়। ঘটনাটি ৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর বাড্ডা সাঁতারকূল এলাকায় ঘটে। এ ঘটনায় স্ত্রী, ভাইসহ তিন ভাড়াটে খুনিকে গ্রেপ্তারের পর শনিবার গুলশান ডিসি অফিসে সংবাদ সম্মেলনে এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন গুলশান বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোস্তাক হোসেন।
মেরুল হিন্দুপাড়া থেকে গলা ও পেটে ছুরিকাঘাত মনিরুজ্জামান মনিরের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশ শনাক্ত করে তার ছোট ভাই মিন্টু। পরে তিনি বাড্ডা থানায় একটি মামলা করেন। পুলিশের দৃষ্টি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ঘুরিয়ে দিতে এটা ছিনতাইকারীদের কাজ বলে ধারণার কথা জানায় মিন্টু। কিন্তু তদন্তে নেমে পুলিশ কাজলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকা-ের পরিকল্পনা ও নিজে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে সে। শুক্রবার আদালতে বিষয়টি স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে কাজল। গ্রেপ্তারকৃত কাজল ও মিন্টু ছাড়া বাকিরা হলো আবদুল মান্নান, সোহাগ ওরফে শাওন ও ফাহিম।
ডিসি মোস্তাক বলেন, মনির ফেনীতে কাজ করতেন। তবে তার পরিবার থাকতো গ্রামের বাড়ি দিনাজপুরে। সম্প্রতি মনির বাড়ি যান। তখনই হত্যার পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘাতক মিন্টু তার বড় ভাই মনিরকে ফোন দিয়ে জানায়, আমি বিয়ে করব, তাই ঢাকায় মেয়ে দেখেছি, তুমি এসে দেখে যাও। এতে মনির রাজি না হওয়াতে বারবার অনুরোধ করতে থাকে মিন্টু। তার স্ত্রী কাজলও ঢাকা যাওয়ার জন্য তাকে বলে। মনির দিনাজপুর থেকে ঢাকার গাবতলী আসেন। ঢাকা শহর ভালোমতো না চেনায় ছোট ভাইকে ফোন দিলে মিন্টু মান্নানের ফোন নম্বর দেয় এবং তাকে নিয়ে আসবে বলে জানায়। তিনি বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী মান্নান বাড্ডা সাঁতারকূলের নির্জন ওই স্থানে মনিরকে নিয়ে যায়। এসময় ভাড়াটে খুনি শাওন ও ফাহিম সেখানে উপস্থিত হয়। তাদের কাছে থাকা ছুরি দিয়ে মনিরের গলায় প্রথমে ফাহিম, এরপর মান্নান আঘাত করে। মনির মাটিতে পড়ে গলে তাদের নির্দেশ মতো শাওন ছুরি দিয়ে মনিরের পেটে উপর্যুপরি আঘাত করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে। এরপর হত্যাকা-ের বিষয়টি মিন্টুকে জানায় মান্নান। মিন্টু বিষয়টি তার ভাবি কাজল রেখাকে জানায়।