আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৬-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভা

উত্তরপাড়ার দিকে তাকিয়ে লাভ হবে না : শেখ হাসিনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
| প্রথম পাতা

জাতীয় ঐক্যের নেতাদের উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের দেশে কিছু লোক আছে, যারা সব সময় উত্তরপাড়ার দিকে মুখ করে বসে থাকে। উত্তরপাড়া থেকে কেউ এসে তাদের ক্ষমতায় বসিয়ে দেবেন। উত্তরপাড়ার দিকে মুখ করে বসে থাকলেও সাড়া মিলবে না। কারণ তাদের এখন ওই ধরনের মানসিকতা নেই যে, কাউকে ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে। কারণ আওয়ামী লীগ সরকার সবার জন্যই উন্নয়ন করেছে। শনিবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির বৈঠকে সূচনা বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

যুক্তফন্টের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, তাদের স্বাগত জানাই। তারা রাজনীতি করুক। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে একটা প্ল্যাটফরম তো থাকা দরকার। কিন্তু অন্যকিছু ভাবলে তাদের আশা পূরণ হবে না। জাতীয় ঐক্যের সঙ্গে যুক্ত নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তারা অভিযোগ করেছে তাদের সোহরাওয়ার্দী উদ্যান দেওয়া হয়নি। আসলে সেখানে আরও কেউ 

জনসভা করতে চেয়েছিল। তাই হয়তো যাচাই-বাছাই করতে গিয়ে তাদের বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। ডিএমপিকে বলব, তাদের যেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান দেওয়া হয়, প্রয়োজনে স্থায়ী একটা মঞ্চ করে দেওয়া হবে যেন তারা ৬০ থেকে ৭০ জন মিলে গলা ফাটিয়ে বক্তৃতা করতে পারেন। প্রয়োজনে লোকও দেব। 
জাতিসংঘ মহাসচিবের কথিত আমন্ত্রণে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জাতিসংঘের এক কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এরা মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। বলা হলো জাতিসংঘ মহাসচিবের আমন্ত্রণে তার সঙ্গে বৈঠক করতে গেছেন বিএনপি নেতারা। কিন্তু জাতিসংঘ থেকেই বলা হলো যে, তারা বিএনপিকে কোনো আমন্ত্রণ জানায়নি। জাতিসংঘ মহাসচিব তখন ঘানায় ছিলেন। অর্থাৎ এটা মিথ্যাচার, ভাঁওতাবাজি ও নাটক। এ ধরনের মিথ্যাচার করে তারা নিজেদের সর্বনাশ করছে। একইসঙ্গে দেশেরও ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। এর আগেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যখন সরকার গঠন করেন তখন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহর টেলিফোন আলাপ নিয়ে তারা এমন মিথ্যাচার করেছিল। কেউ অপকর্ম করলে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র করলে বরদাশত করা হবে না। আমেরিকাতে বিএনপি লবিস্ট নিয়োগ করেছে। এত টাকা তারা পেলেন কোথায়? এর আগে তারা জয়কেও হত্যাচেষ্টা করেছিল। আমেরিকার এফবিআই কর্মকর্তাকে কিনেছিল। এ সময় ষড়যন্ত্রে কারা লিপ্ত ছিল তা সবাই জানে। শফিক রহমান ও মাহমুদুর রহমানের নাম এ প্রসঙ্গে এসেছে।
শেখ হাসিনা আরও বলেন, গ্রামীণ ব্যাংক থেকে এমডি পদ চলে যাওয়ায় হিলারিকে দিয়ে ইউনুস পদ্মা সেতুর কাজ বন্ধ করল। আমাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনল। আমরা চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলাম। এক ফোঁটা দুর্নীতিও পায়নি। তারেক রহমান এত টাকা পায় কোথায়? বিলাসী জীবনযাপন করে, তিনটা গাড়ি রয়েছে তার। অথচ আমার বোন লোকাল গাড়িতে চড়ে। যারা অর্থ লুট করে, এতিমের টাকা মেরে খায় দেশবাসীকে বলব তাদের পরিহার করুন। আলোকচিত্রী শহীদুল্লাহর গ্রেপ্তার সম্পর্কে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রথম দুই দিন খুবই ভালো ছিল আন্দোলন। পুলিশ, আমার দলের নেতাকর্মী, এমপি-মন্ত্রীদের বলেছিলাম- ধৈর্য ধরুন। শিক্ষার্থীরা যা বলে তা শুনুন। কিন্তু এর মধ্যে তৃতীয় পক্ষ নেমে গেল রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য। একজন আতেল তো আল জাজিরা টেলিভিশনে সাক্ষাৎকার দিলেন, এখানে নাকি গণহত্যা চলছে। আল জাজিরা ক্ষমা চাইল তাদের ভুল সংবাদ পরিবেশনের জন্য। আবার কেউ ফেইসবুকে বললেন, নারীদের ধর্ষণ করা হচ্ছে। তিনি যেখান থেকে বললেন, পেছনে তো অন্য সাইনবোর্ড ছিল। দরজিপাড়ায় স্কুলড্রেস বানানোর ধুম পড়ে গিয়েছিল, পলাশীতে ভির আইডি কার্ড বানানোর। তাদের অপপ্রচারের কারণে আমার পার্টি অফিসে হামলা হলো। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হলো। যারা গুজব রটিয়েছে, মিথ্যাচার করেছে, তাদের বিরুদ্ধে তো ব্যবস্থা নেবই। 
আগামী নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, আগামী নির্বাচন আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস আমাদের ওপর আছে। আমি বিশ্বাস করিÑ জনগণ আবারও নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনবে। উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারা অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, আমি ছয় মাস পর পর সার্ভে রিপোর্ট করছি। আমাদের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। প্রার্থীদের ব্যাপারে খোঁজখবর রাখা হচ্ছে। দু-একজন বাদে অধিকাংশ এমপির অবস্থা ভালো। টানা দুইবার ক্ষমতায় থাকা এবং সেইসঙ্গে জনপ্রিয়তা ধরে রাখা সচরাচর হয় না। কিন্তু আমরা পেরেছি। কারণ, জাতির জনক আমাদের সেই আদর্শ শিখিয়েছেন। দিনরাত আমি মানুষের জন্যই কাজ করছি। আমরা ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ থেকে ২০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছি। মহাকাশে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছি। এসব উন্নয়ন কারও চোখে পড়ে না।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য, সহযোগী সংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক। 
সিদ্ধান্ত : কেন্দ্রভিত্তিক নির্বাচন পরিচালনা কমিটি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ। উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত এসব কমিটি হবে। জেলা কমিটি এসব কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি মনিটরিং করবে। দলের প্রার্থীরা এসব কমিটিতে থাকতে পারবেন না।