আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৮-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

যে কারণে কৃত্রিম চোখ প্রতিস্থাপন

অধ্যাপক (ডা.) মো. সাইফুল ইসলাম
| সুস্থ থাকুন

প্রতিটি ব্যক্তির আইরিশ বা চোখের মণির রং এবং সাইজ ভিন্ন, যা রেডিমেড কৃত্রিম চোখে হয় না। কাস্টম মেইড কৃত্রিম চোখ ব্যক্তির আসল চোখের মণির রংও সম্পূর্ণভাবে মিলিয়ে তৈরি করা হয়। কাস্টম মেইড কৃত্রিম চোখ সেক্লরা বা সাদা অংশের রং পাশের চোখের সঙ্গে মিল রেখে তৈরি করা হয়, যা ব্যক্তিবিশেষ সাদা, নীলাভ সাদা, লালাভ সাদা, বাদামি বা হলুদাভ হয়ে থাকে

চোখ যদি কোনো আঘাত, দুর্ঘটনা বা জটিল রোগের জন্য হারাতে হয় তাহলে কষ্টের শেষ থাকে না। চোখ না থাকার হীনমন্যতায় ভুগে রোগী ছেড়ে দেয় লেখাপড়া, খেলাধুলা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সব সামাজিক কাজকর্ম।
সবার মাঝে নিজেকে খুব একা ও নিঃসঙ্গ ভাবতে থাকে। তাই অনেকে কালো চশমা পরে সবার মাঝ থেকে আড়াল করে রাখতে চায় নিজেকে। কিন্তু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এ যুগে আমাদের মধ্যে আশার আলো জ্বেলে দিয়েছে একটি কাস্টম মেইড কৃত্রিম চোখ। এ কৃত্রিম চোখের দৃষ্টিশক্তি নেই; কিন্তু এ চোখ রোগীর হতাশা, কষ্ট আর নিঃসঙ্গতাকে মুছে দিয়ে তাকে ফিরিয়ে দিতে পারে হারানো সৌন্দর্য ও সুস্থ-স্বাভাবিক জীবন। সময়মতো সঠিক মাপের কৃত্রিম চোখ ব্যবহার না করার ফলে চক্ষুকোটর চারপাশের মাংসপেশি দ্বারা সঙ্কুচিত হয়ে যায়, ফলে সঠিক মাপের কৃত্রিম চোখ প্রতিস্থাপনের জন্য তা অনুপযোগী হয়ে পড়ে। তাই চোখ হারানোর সঙ্গে সঙ্গে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব একটি সঠিক মাপের ও রঙের আসল চোখের মতো দেখতে (অন্য কেউ বুঝতে পারবে না এমন) একটি কৃত্রিম চোখ প্রতিস্থাপন করা উচিত।
সর্বসাধারণের কথা চিন্তা করে রেডিমেড কৃত্রিম চোখ বা পাথরের চোখ তৈরি করা হয়। কিন্তু তা আলাদা আলাদা রোগীর চক্ষুকোটরের মাপমতো হয় না এবং কৃত্রিম চোখটি ছোট-বড় হয়ে যায়, যা প্রতিস্থাপন করলে কৃত্রিমই মনে হয়। একটি কাস্টম মেইড কৃত্রিম চোখ রোগীর চক্ষুকোটরের মাপ নিয়ে তৈরি হয়, ফলে তা পাশের চোখের সমান। স্বাভাবিক নড়াচড়া করতে সক্ষম এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন।
প্রতিটি ব্যক্তির আইরিশ বা চোখের মণির রং এবং সাইজ ভিন্ন, যা রেডিমেড কৃত্রিম চোখে হয় না। কাস্টম মেইড কৃত্রিম চোখ ব্যক্তির আসল চোখের মণির রংও সম্পূর্ণভাবে মিলিয়ে তৈরি করা হয়। কাস্টম মেইড কৃত্রিম চোখ সেক্লরা বা সাদা অংশের রং পাশের চোখের সঙ্গে মিল রেখে তৈরি করা হয়, যা ব্যক্তিবিশেষ সাদা, নীলাভ সাদা, লালাভ সাদা, বাদামি বা হলুদাভ হয়ে থাকে। রেডিমেড কৃত্রিম চোখ সাধারণত সাদাই হয়।
কাস্টম মেড কৃত্রিম চোখে ক্যাপেলারি বা রক্তজালিকা বিন্যাস পাশের চোখের সঙ্গে মিল রেখে প্রতিস্থাপন করা হয়, যা রেডিমেড চোখে তেমন পাওয়া যায় না। বর্তমানে বাংলাদেশে সর্বাধুনিক কৃত্রিম চোখ প্রতিস্থাপন বিষয়ে যেসব চিকিৎসা পাওয়া যাচ্ছে তা হলো :

কাস্টম মেইড অকিউলার প্রোসথেসিস কৃত্রিম চোখ প্রতিস্থাপন : বর্তমানে বাংলাদেশে সর্বাধুনিক মানের যে কৃত্রিম চোখ পাওয়া যায় তা শুধু নির্দিষ্ট রোগীর চক্ষুকোটরের মাপ নিয়ে আসল চোখের সমান, একই রঙের ও সাইজের আইরিশ বা চোখের মণি, রক্তজালিকা বিন্যাসসহ সেক্লরা বা চোখের সাদা অংশের সঙ্গে মিল রেখে তৈরি করা হয়। এটা স্বাভাবিক নড়াচড়া করতে সক্ষম ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন। জার্মানি অ্যাক্রিলিক ফাইবার দ্বারা তৈরি বলে এটি হালকা ও উন্নতমানের।

অরবিটাল প্রোসথেসিস (কৃত্রিম চোখ, চোখের পাতা, চোখের পাপড়ি প্রতিস্থাপন) : দুর্ঘটনা বা ক্যান্সারের জন্য চোখ, চোখের পাতা, চোখের পাপড়ি, আইভ্রƒ অপারেশন করে ফেলে দিতে হয়। এসব ক্ষেত্রে কৃত্রিমভাবে রোগীর ত্বকের রঙের সঙ্গে মিল রেখে (সিলিকন বেজড) চোখ, চোখের পাতা, পাপড়ি ও আইভ্রƒ প্রতিস্থাপন করা হয়।

রেলিনেবল চিলড্রেন অকিউলার প্রোসথেসিস : শিশু রোগীর ক্ষেত্রে তাদের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চক্ষুকোটরও বড় হয়। তাই শিশুর কৃত্রিম চোখ এমনভাবে তৈরি, যা ক্রমবর্ধমান চক্ষুকোটরের মাপমতো নতুন চোখ না বানিয়ে বৃদ্ধি করা যায় বছরান্তে। চোখের কথা তো অনেক বলা হলো, আজকাল চোখের সঙ্গে যাদের কান বা নাকের সমস্যা তাদের কৃত্রিম নাক এবং কানও প্রতিস্থাপন হচ্ছে। 

অধ্যাপক (ডা.) মো. সাইফুল ইসলাম
কৃত্রিম চক্ষু, দাঁত, নাক ও কান প্রতিস্থাপন  বিশেষজ্ঞ ও বিভাগীয় প্রধান
ইউনিভার্সিটি ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল, ঢাকা
০১৭১৪৪৫২২১৯