আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৮-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

আঙুল সাজুক আংটিতে

গ্রন্থনা : তনিমা রহমান
| আলোকিত ফ্যাশন

আংটি ফ্যাশন জগতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অলংকারের নাম। আঙুলের শোভা বাড়ায় আংটি। স্বর্ণ, রুপার কিংবা ইমিটেশন যে কোনো  ধাতুর  তৈরি, যে ধরনেরই হোক আপনাকে রুচিশীল হিসেবে উপস্থাপন করতে আংটির বিকল্প নেই। হাল ফ্যাশনে আংটি যুক্ত করেছে নতুন মাত্রা। তরুণীদের কাছে আংটি শুধু সাজগোজের একটি অংশ নয়। বরং ব্যক্তিত্ব প্রকাশেরও একটি মাধ্যম। এই আংটি যেমন আপনার বাহ্যিক সৌন্দর্যকে ফুটিয়ে তোলে তেমনি আপনার ব্যক্তিত্বকেও তুলে ধরে। আবার আংটি নির্বাচন রুচির ওপরও নির্ভর করে। 
আঙুল সাজুক বাহারি আংটিতে। আর আংটি পছন্দ করে না এমন মানুষ নেই বললেই চলে। ছোট-বড় সবাই হাতের যে কোনো আঙুলে আংটি পরতে পছন্দ করে। আর ফ্যাশনপ্রিয় তরুণ-তরুণীদের ক্ষেত্রে তো কথা-ই নেই। যে কোনো জায়গায় বেড়াতে যাওয়া, অফিস, ভার্সিটি কিংবা পার্টি সব জায়গাতেই আংটির কদর রয়েছে। এছাড়া আংটি শুধু একটি আঙুলেই নয়, বরং সব আঙুলেই ব্যবহার করে এর বৈচিত্র্য আনা যায়। তবে কোন জায়গায়, কোন আঙুলে কেমন আংটি পরতে হবে তা অনেকেরই অজানা। আর আঙুলের মাপ এবং আঙুলের ধরনের গুরুত্ব দিয়ে আংটি কেনা উচিত।


তবে চলুন জেনে নেওয়া যাক, কোন আঙুলে কেমন আংটি মানাবে।
কড়ে আঙুলে আংটি পরা নিয়ে বিশেষ কোনো রীতি কিংবা নিয়ম নেই। তাই এই আঙুলে হালকা কাজ করা কিংবা শুধু চক্রাকৃতির আংটি পরতে পারেন। কড়ে আঙুলে ভারি আংটি না পরাই ভালো।
অনামিকা আঙুল হাতের আঙুলের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিয়ে কিংবা এনগেজমেন্টে এ আঙুলে আংটি পরানো হয়। বাঁ হাতের এই আঙুলে বাগদানের আংটি পরানো হয়। তবে দেশভেদে হাতের দিকে পরিবর্তন আছে। বাঁ হাতের পরিবর্তে ডান হাতে আংটি পরানো হয়ে থাকে। বিয়ের আংটি অবশ্য বাঁ হাতেই পরানো হয়; কারণ এটি একেবারে হৃদয়ের।
মধ্যমা আঙুলের ক্ষেত্রে যে কোনো ধরনের আংটিতেই দেখতে ভালো লাগে। যারা প্রথম প্রথম আংটি পরছেন তারা এই আঙুলে আংটি পরে থাকেন। এতে ব্যক্তিত্বের যেমন প্রকাশ পায় তেমনি ছেলেদের ক্ষেত্রে ম্যানলি একটা লুক নিয়ে আসে।
তর্জনি আঙুল বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ফাঁকা থাকে। তবে আংটিপ্রেমীদের কাছে এই আঙুলে আংটি পরা ব্যক্তিত্ব প্রকাশের একটি বিষয়। বর্তমানে তরুণ-তরুণীরা এই আঙুলটি ফাঁকা রাখতেই পছন্দ করে।
সাধারণত যারা তাদের প্রাচুর্য এবং নিজেদের আর্থিক অবস্থার কথা জানাতে চান তারা তাদের বুড়ো আঙুলে স্বর্ণের কিংবা রুপার আংটি পরে থাকেন। কিছুক্ষেত্রে একই বুড়ো আঙুলে দুটি আংটি পরতেও ভালোবাসেন অনেকে।

আঙুলের ধরন ও সাইজ
হাতের আঙুলের আকার যদি লম্বাটে হয় তাহলে পার্ল কিংবা ওভাল আকারের রিংগুলো সব সময় ভালো নাও লাগতে পারে। সে ক্ষেত্রে রাউন্ড চাংকি রিং ভালো মানাবে।
অন্যদিকে, ওভাল শেপের রিং বেশি মানায় ছোট আঙুলে। এছাড়া জিওম্যাট্রিক শেপের রিংগুলো ছোট আঙুলের জন্যও মানানসই। এতে আঙুলের আকার বড় দেখাবে।
অনেকের আঙুল আবার সরু হয়ে থাকে। তাদের জন্য রাউন্ড শেপের স্টোন রিং হাতের সৌন্দর্যকে আকর্ষণীয় করে তোলে। মোটা ও পুরুষের আংটিও সরু আঙুলকে কিছুটা মোটা দেখাতে সাহায্য করবে। বড় সাইজের স্টোন দিয়ে তৈরি চাংকি রিং একটু মোটা আঙুলের জন্য ভালো। কেননা এতে আঙুল সরু দেখাবে।
এতো গেল আঙুলের শেপ অনুযায়ী আংটির কথা। যাদের শুধু আঙুল নয়, পুরো হাতটিও বড় ধরনের, তাদের ছোট স্টোন অথবা ছোট ধরনের যে কোনো আংটি ব্যবহার করা উচিত নয়, সেখানে পরা উচিত বড় সাইজের স্টোনের চাংকি রিং বা আংটি। ছোট আকারের হাতের জন্য সব সময় ওভার সাইজড রিং এড়িয়ে চলা দরকার। বোঝাই যাচ্ছে, আংটি বাছাইয়ের কাজে হাত ও আঙুলের ধরন গুরুত্বপূর্ণ।

কোথায় পাবেন ও দাম দর
গাউসিয়া, নিউমার্কেটসহ বিভিন্ন শপিং মলের গয়নার দোকানে ঢুঁ মারলে নিশ্চিত পেয়ে যাবেন আপনার পছন্দের আংটি। আড়ং, যাত্রা, অঞ্জন’স, বিবিয়ানা, মায়াসির, মাদুলী ও বাংলার মেলায় পাবেন দেশি উপাদানে তৈরি বৈচিত্র্যময় নকশার আংটি।
আড়ংয়ে রুপা ও সোনার প্রলেপ দেওয়া আংটি পাবেন ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকায়। পুঁতি ও বিভিন্ন ধাতুর তৈরি ফ্যাশনেবল আংটি পাবেন ১০০ থেকে ৫০০ টাকায়।
অঞ্জন’স-এ পাবেন কুন্দন, মুক্তা ও পাথর বসানো নানা রঙের রুপা এবং গোল্ডপ্লেটেড আংটি ৪৫০ থেকে ২ হাজার ৩৫৭ টাকায়। ডায়মন্ড কাটের বিদেশি আংটিগুলো পাবেন ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকায়। চাইলে ফরমায়েশ দিয়েও বানানোর সুযোগ রয়েছে।