আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৮-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

সামনে নির্বাচন ও সোশ্যাল মিডিয়া কড়চা

মহসীন হাবিব
| সম্পাদকীয়

দুর্ভাগ্যক্রমে এ কম্পিউটারের নেতিবাচক ব্যবহার বেড়েছে শতগুণ। এখন দেখেশুনে মনে হচ্ছে, এ আবিষ্কার মানবসমাজ যতটা সুকাজে ব্যবহার করছে, তার চেয়ে বেশি ব্যবহার করছে কুকর্মে। আজ সবকিছু দেখে-শুনে মনে হচ্ছে, এক দেশের ব্যাংকের টাকা অন্য দেশের ক্রিমিনালরা চুরি করার জন্য, এক দেশের তথ্য (ডেটা) অন্যদেশ হাতিয়ে নেওয়ার জন্য, মানুষের নামে কুৎসা রটানোর জন্য, অন্যকে ব্ল্যাকমেইল করার জন্যই বোধ করি মানুষ 
এ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে! 

আমেরিকার গৃহযুদ্ধের সময় লে. কর্নেল জন স্টিথ পেম্বারটন ছিলেন জর্জিয়া স্টেট গার্ড বাহিনীর কমান্ডার। কনফেডারেট আর্মির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়ে তিনি আহত হন। শারীরিক ব্যথা নিরসনের জন্য তিনি মরফিন ব্যবহার শুরু করেন। নিজে ছিলেন একজন ফার্মাসিস্ট। মরফিনের ক্ষতিকারক দিক উপলব্ধি করে তিনি কোকা এবং কোকা ওয়াইন পানের মাধ্যমে ব্যথা উপশম করার চেষ্টা করেন। কিছুটা ফলও পান। ঘটনাক্রমে সেই পানীয় থেকেই ১৮৮৬ সালে তিনি কোকা-কোলার পেটেন্ট তৈরি করেন এবং তা পানীয় হিসেবে বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু করে। সেই কোকা-কোলা এখন বিশ্বব্যাপী খাবার টেবিলে পানীয় হিসেবে ঢুকে পড়েছে। অথচ এটি কোনো পানীয় ছিল না। তিনি প্রাথমিক ব্যবহার করেছিলেন ড্রাগ হিসেবে। আজ যে ভায়াগ্রা এবং সিনডেনাফিল সিট্রেট বিশ্বব্যাপী চলছে যৌন উত্তেজক মেডিসিন হিসেবে, তা আবিষ্কৃত হয়েছিল হৃৎপি-ের ধমনিগুলোয় পর্যাপ্ত পরিমাণ রক্ত সরবরাহ না হলে যে ব্যথা অনভূত হয় তার ওষুধ হিসেবে। পরীক্ষামূলক ব্যবহারের সময় দেখা গিয়েছিল, এটি ব্যবহারে পুরুষের শিশ্ন উত্থিত হয়ে যায়। ফলে যা হওয়ার তাই হয়েছে। এখন এটির একমাত্র ব্যবহার যৌন উত্তেজক ওষুধ হিসেবে। আজ আমরা যে চেইন স’ বা ইলেকট্রিক করাত দেখি, তা উদ্ভাবিত হয়েছিল অপারেশন টেবিলে হাড় কাটার জন্য। সেটিকেই সংস্কার করে পরে তৈরি করা হয়েছে গাছ কাটার করাত। এমন অসংখ্য জিনিস আছে, যা এক উদ্দেশ্যে উদ্ভাবিত হলেও অন্যরকম ব্যবহার প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। এ ব্যাপারে প্রথমে কম্পিউটার এবং পরে ইন্টারনেট ও সেলফোন উদ্ভাবন সব উদাহরণ ছাড়িয়ে গেছে। কম্পিউটার-সেলফোন এবং ইন্টারনেট জ্ঞানবিজ্ঞান জগতে এক বিপ্লব নিয়ে এসেছে। পৃথিবীকে এখন দুই কালে বিভক্ত করা যায়। এক কাল কম্পিউটার-ইন্টারনেট ছাড়া, আরেক কাল এসব প্রযুক্তিনির্ভর। (এক অর্থে আমরা সৌভাগ্যবান যে, মাহাকালের এ ট্রানজিটের সময়টি দেখেছি)। স্বর্গ-মর্ত্য-পাতাল অনুসন্ধান থেকে শুরু করে নিত্যনতুন আবিষ্কার, এমনকি টালিখাতার কাজও এখন কম্পিউটার করে থাকে। মাত্র কয়েক বছরে মানুষের জীবনের গতি বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েকশ গুণ। ফলে মানবসমাজে, জীবনযাত্রায়, পারিবারিক মূল্যবোধে, মানুষে মানুষে সম্পর্কের ক্ষেত্রে এসেছে অকল্পনীয় পরিবর্তন। 
দুর্ভাগ্যক্রমে এ কম্পিউটারের নেতিবাচক ব্যবহার বেড়েছে শতগুণ। এখন দেখে-শুনে মনে হচ্ছে, এ আবিষ্কার মানবসমাজ যতটা সুকাজে ব্যবহার করছে, তার চেয়ে বেশি ব্যবহার করছে কুকর্মে। আজ সবকিছু দেখে-শুনে মনে হচ্ছে, এক দেশের ব্যাংকের টাকা অন্য দেশের ক্রিমিনালরা চুরি করার জন্য, এক দেশের তথ্য (ডেটা) অন্যদেশ হাতিয়ে নেওয়ার জন্য, মানুষের নামে কুৎসা রটানোর জন্য, অন্যকে ব্ল্যাকমেইল করার জন্যই বোধ করি মানুষ এ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে! আরবজুড়ে যে শত শত মানুষ নিহত হলো এবং শাসনকাজে পরিবর্তন এলো, যাকে আমরা আরব বসন্ত বলিÑ এর পেছনে কাজ করেছে ইন্টারনেট। নিঃসন্দেহে গণতন্ত্রকামী মানুষকে এ প্রযুক্তি নানাভাবে সহায়তা দিয়েছে। আরবের ওই পরিবর্তন প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সর্বক্ষেত্রেই যে এ প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার হচ্ছে, তা মোটেই নয়। 
আজ বাংলাদেশে আমরা কী দেখতে পাচ্ছি? এ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে রীতিমতো প্রোপাগান্ডা যুদ্ধ চলছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক দলের সমর্থকরা একে অপর দলের বিরুদ্ধে যে মিথ্যাচার শুরু করেছে তাতে শুধু যে সত্য ঢাকা পড়ছে তা-ই নয়, সেই সঙ্গে ব্যক্তি মানুষের ইমেজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ ইন্টারনেটে, ইউটিউবে অথবা ফেইসবুকে অনেক সত্যও প্রকাশ করা হয়ে থাকে। কিন্তু মিথ্যাচারের সংখ্যা এতটাই প্রকোপ আকার ধারণ করেছে যে, সত্য আর মিথ্যা আলাদা করে যাচাই করা ভয়ানক মুশকিল হয়ে পড়েছে। জানা যায়, কোনো কোনো রাজনৈতিক দল রীতিমতো এসাইনমেন্ট দিয়ে লোক বসিয়ে দিয়েছে কম্পিউটারের সামনে সারাদিন মিথ্যাচার করতে এবং জনমত গঠনে। এ অন্যায় ঠেকানোর কোনো উপায় নেই। ফলে অন্য পক্ষ সংগঠিত না থাকলেও বিক্ষিপ্তভাবে একইভাবে আক্রমণ করতে চেষ্টা চালাচ্ছে। একটা সময় ছিল দুধের সঙ্গে পানি মেশানোর মতো সত্যের সঙ্গে অসত্য মিশিয়ে উপস্থাপন করা হতো। এখন সম্পূর্ণ বানোয়াট, মস্তিষ্কপ্রসূত গল্প ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। এসব রাজনৈতিক মিথ্যাচার করতে গিয়ে বহু সম্মানী মানুষের বিরুদ্ধে কুৎসা রটানো হচ্ছে, যা সত্যিই অনাকাক্সিক্ষত। এতে রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধাবোধ নষ্ট হচ্ছে, আস্থায় ঘাটতি পড়ছে। সমাজে বৈরিতা বাড়ছে। 
সরকার এসব ঠেকাতে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে নানা ধরনের সংশোধনী এনেছে অবস্থার পরিপ্রেক্ষিত লক্ষ রেখে। কিন্তু সেই আইনের ব্যবহারেও দুর্বলতা রয়েছে। দেখা যায়, যেসব বড় বড় অপবাদ-মিথ্যাচার ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ছে, তা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেশের বাইরে প্রবাসী কেউ ছড়িয়ে দিচ্ছে। সরকার সে ক্ষেত্রে ওই প্রবাসীর বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নিতে পারছে না। কিন্তু কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তির ইচ্ছার কারণে হয়তো দেশের অভ্যন্তরে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনাকারী কেউ ফেঁসে যাচ্ছে। একটি দেশ এক ব্যক্তি চালায় না। ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচারবিষয়ক আইন এমনভাবে বিন্যাস করা হয়েছে, যাতে প্রচার মাধ্যমের স্বাধীনতা এবং বাকস্বাধীনতা ক্ষুণœ হতে পারে। 
সে তো গেল আইনের বিষয়। সমাজ কোন দিকে যাচ্ছে এ ইন্টারনেট প্রযুক্তির খপ্পরে পড়ে? একবার ছড়িয়ে দেওয়া হলো সাজাপ্রাপ্ত এক ব্যক্তিকে নাকি চাঁদে দেখা গেছে। সরল-সহজ, বিশ্বাসনির্ভর কিছু মানুষ তা নিয়ে এতটাই সহিংস হয়ে উঠল যে, কয়েকজন মানুষ নিহত হলো। রামুতে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে এবং দেশের আরও বেশকিছু জায়গায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যে দাঙ্গা, সহিংসতা হয়েছে তার সব ক’টির পেছনে ছিল এ অপপ্রচার। শিক্ষাদীক্ষা, ধর্মীয় ব্যাপারেও কোনো গাইডলাইন ছাড়া চলছে যার যেমন করে খুশি ব্যাখ্যা দেওয়া। 
ইউটিউব ব্যবহার বেড়েছে রকেটের গতিতে। এখন মানুষের পড়ার চেয়ে দেখার এবং শোনার অভ্যাস বেশি। ইউটিউবে শিক্ষণীয় অনেক কিছু আছে। ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এ ভিডিও শেয়ারিং ওয়েবসাইটে দর্শকরা রেসিপি, অভিনেত্রীদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে গোসিপ, মুভি এসব দেখে থাকে সর্বাধিক। ইউটিউব কোনো পর্নো ছবি আপলোড করতে দেয় না। কিন্তু এ টিউবে বিভিন্ন ভাষায় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সম্পর্কে সত্য-মিথ্যা মিলিয়ে যে প্রচার করা হয়, তা ঠেকানোর কোনো উপায় এখন পর্যন্ত বের হয়নি। অথবা ওয়েবসাইট জনপ্রিয় রাখার উদ্দেশ্যেই হয়তো বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু ইউটিউবের বাইরে সর্বাধিক পরিমাণে দর্শক পর্নো ছবি দেখে থাকে। এর বিপরীতে শিক্ষামূলক ভিডিও দেখা হয়ে থাকে খুবই কম। শিক্ষামূলক ভিডিও দেখা তালিকার ৯ নম্বরে  রয়েছে। 
যাহোক, বাংলাদেশে সামনে নির্বাচন। আসন্ন এ নির্বাচন ঘিরে সরব হয়ে উঠেছে ইন্টারনেটের বিভিন্ন সাইট। ভিডিও ছাড়াও এখন ফেইসবুক একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় মাধ্যম। এ ফেইসবুকে ব্যক্তিগত পর্যায় মানুষ বিভিন্ন মত-মন্তব্য ও ভিডিও প্রচারের সুযোগ পাচ্ছে। ফলে যে যার মতো করে রাজনৈতিক ব্যাখ্যা ছড়িয়ে দিচ্ছে ইন্টারনেটে। ইন্টারনেট-পূর্ব সময়ে আমরা দেখতাম নির্বাচনের আগে দেয়ালে পোস্টার, লিফলেট ছড়িয়ে বিভিন্ন নির্বাচনি এলাকায় প্রার্থীর সমর্থকরা প্রাচার চালাত। সেই সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বির দুর্বলতা মুখে মুখে প্রচার করে বেড়াত। সেটা এখন গৌণ হয়ে গেছে। এখন মানুষ নেমে পড়েছে ইন্টারনেটে। আগে অপপ্রচারের ক্ষেত্রে একটা বাধ্যবাধকতা ছিল। কারণ প্রত্যেকে নির্বাচনি এলাকার ভেতরে সশরীরে থেকে অন্যপক্ষের বিরুদ্ধে দু-কথা কানে কানে ছড়িয়ে দিত। ফলে খুব বেশি মিথ্যাচারের সুযোগ ছিল না। এখন হয়েছে অন্য অবস্থা। ধরুন যে-কোনো জেলার একটি নির্বাচনি এলাকার একজন প্রার্থীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাতে হবে। ওই এলাকার কেউ হয়তো অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বসবাস করছে অথবা সুদূর নিউইয়র্কে অবস্থান করছে। নিজের পরিচয়ের বাইরেও তার রয়েছে একটি ভুয়া আইডি। তিনি মনে যা আসছে, তা-ই লিখে দিচ্ছেন অপছন্দের প্রার্থীর বিরুদ্ধে। এমনকি তার যৌন জীবন, স্ত্রী-পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক থেকে শুরু করে যা মনে হচ্ছে, তা-ই লিখে দিচ্ছেন। অন্যপক্ষও তখন শুরু করছে মিথ্যাচার। 
এতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা তীব্রতর হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থা থেকে সত্যিই আমাদের পরিত্রাণ দরকার। মানুষ সহজাতভাবে কিছু চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। কারও সম্পর্কে যদি ভালো বলা হয়, ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরা হয়, তাহলে সেই মানুষটি একটু হলেও ভালো হতে চেষ্টা করে। অথবা নিজের মধ্যে তার খারাপ কাজের জন্য কিছুটা হলেও অনুতাপ সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে একজন মানুষের যদি সমালোচনাই করা হয় এবং তিনি যা করেননি, সেই অপবাদ যদি তার ওপর আরোপ করা হয়, তবে তার অনুতপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা কমতে থাকে। বরং তিনি আরও বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। 
বড় সমস্যা হলো, আমাদের মাঝে সমালোচনা আর কুৎসার পার্থক্য ঘুচে গেছে। সমালোচনা নয়, মানুষ নির্ভর হয়ে উঠেছে অন্যের প্রতি কুৎসা রটনায় এবং দুর্ভাগ্যজনকভাবে তার ফলও পাওয়া যাচ্ছে বেশি। এ প্রবণতা না ভাঙলে শুধু রাজনৈতিক অঙ্গন নয়, সামাজিক জীবনেও মানুষের প্রতি মানুষের আস্থা, প্রতিশ্রুতি কমতে থাকবে। সমাজ একটি বৈরী মনোভাবাপন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। তাই মানুষ হিসেবে প্রতিটি মানুষের সংযমের সঙ্গে ইন্টারনেট ব্যবহার করা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া, সিটিজেন জার্নালিজম এসব নতুন শব্দ আমাদের জীবনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এসব অ্যাক্টিভিটিজের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করার আগে একটিবার ভেবে নেওয়া দরকার, এটার সঠিক ব্যবহার নিজের দ্বারা হচ্ছে কি না। আরেকটু খোলাসা করে বলিÑ ধরুন একজন মানুষ ঘুস খান। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে এবং আপনি নিজ নয়নে দেখলেন ৩০ হাজার টাকা মাসিক বেতন পেয়েও তিনি ২ কোটি টাকা দিয়ে একটি বাড়ি তুলেছেন। আপনি ইচ্ছা হলে সেটি দুদককে জানাতে পারেন, ইচ্ছা হলে প্রমাণসহ সামাজিক গণমাধ্যমেও দিতে পারেন। এতে দোষের কিছু দেখি না। কিন্তু একজন মানুষের নিজের বা স্ত্রী-পুত্র কারও নামে হিসাবের বাইরে বাড়তি কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই। আপনি বলে দিলেন, তার নামে-বেনামে শত শত কোটি টাকা ব্যাংক ব্যালান্স আছে। অনুমাননির্ভর এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এমন কথা আপনার নিজেকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে, সমাজকে ক্ষতি করবে এবং যার বিরুদ্ধে বললেন তাকে তো করবেই। সুতরাং সামনে নির্বাচন রেখে আমরা যেন গঠনমূলক সমালোচনায় নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখি। কাউকে চাঁদে দেখা যাওয়ার মতো গুজব ছড়িয়ে যেন হীন-সংকীর্ণ স্বার্থে একজন সত্যিকার যোগ্য প্রার্থীর ক্ষতি না করি। আবার অনুপযুক্ত কোনো প্রার্থীর কথা যদি বলতেই হয় তার ব্যাকগ্রাউন্ড সত্যতার ভিত্তিতে প্রচার করুন। আমাদের সুবিধা হবে কাকে ভোট দেব, তা বাছাই করতে। অর্থাৎ আমরা দায়িত্বশীল না হলে আখেরে নিজেদের পায়েই কুড়াল মারা হবে। 

মহসীন হাবিব
লেখক ও সাংবাদিক