আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৯-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করুন

রংপুরে পানিবন্দি ৫ হাজার পরিবার

| সম্পাদকীয়

বন্যা, নদীভাঙন, জলোচ্ছ্বাসসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে প্রায় নিয়মিতই লড়াই করতে হয় এ দেশের মানুষকে। তার ওপর যদি মনুষ্য সৃষ্ট দুর্যোগের মুখোমুখি হয়ে দিনের পর দিন ভোগান্তির শিকার হতে হয়, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। উল্লেখ্য, রংপুরের পীরগাছায় তিস্তা নদীতে অপরিকল্পিতভাবে সড়ক নির্মাণে জলাবদ্ধতার শিকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন হাজার হাজার মানুষ; পানির নিচে তলিয়ে গেছে এখানকার বেশিরভাগ কৃষি জমি। 
আলোকিত বাংলাদেশে প্রকাশ, তাম্বুলপুর ইউনিয়নের তিস্তা নদীর সাহেববাজার ৩নং বেড়িবাঁধ থেকে অপরিকল্পিতভাবে সড়কটি নির্মাণ করে দেশের শীর্ষ একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ফলে গেল দুই মাস আগে তিস্তার পানি বেড়ে ছাওলা ইউনিয়নের শিবদেব চর, জুয়ান সদরা, পূর্ব ছাওলা, জুয়ানের চর, দক্ষিণ গাবুড়া, আমিনপাড়া, বৈরাগীপাড়াসহ ১০টি গ্রামের প্রায় ৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। এছাড়া ওই এলাকার প্রায় ৫০ হাজার একর জমির উঠতি ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। তখন থেকেই ওই এলাকাগুলোয় স্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে পানিতে পড়ে শিশুমৃত্যু বেড়ে যাওয়া, কৃষিপণ্য বিনষ্ট, বাড়ি থেকে বের হতে না পারা, অসুস্থ ব্যক্তিদের চিকিৎসাসেবায় বিড়ম্বনাসহ নানা সমস্যায় পড়েন এলাকাবাসী। এমন পরিস্থিতির প্রতিবাদে রোববার বিকালে তিস্তা নদীর ২নং বেড়িবাঁধসংলগ্ন ভক্তের বাজারে সমাবেশ করেছে পানিবন্দি হাজারো পরিবার। এ সময় তারা জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ী পরিকল্পনাসহ তিস্তার ওপর ব্রিজ নির্মাণ, পানির গতিপথ ঠিক রাখার জন্য নদী ড্রেজিং ব্যবস্থাকরণ, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের ক্ষতিপূরণ প্রদানসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। 
সড়ক নির্মাণ করা হয় জনসাধারণের সুবিধার জন্য; কিন্তু তা যদি উল্টো জনদুর্ভোগের কারণ হয়, তা হলে বুঝতে হবে হয় পরিকল্পনাহীনভাবে তা নির্মাণ করা হয়েছে; নতুবা এর মধ্যে রয়েছে নেতিবাচক কোনো উদ্দেশ্য। প্রশাসনের উচিত বিষয়টি খতিয়ে দেখা এবং দ্রুতই জলাবদ্ধতা দূরীকরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা। পাশাপাশি সব ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও কৃষককে ক্ষতিপূরণ দেওয়া। জনদাবি উপেক্ষা না করে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।