আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৯-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

বার্ধক্যে উচ্চরক্তচাপে ইউনানি চিকিৎসা

ডা. মো. ওবায়দুল হক
| সুস্থ থাকুন

ইউনানি চিকিৎসা অতি প্রাচীন ও বিজ্ঞানভিত্তিক একটি চিকিৎসা পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে প্রাকৃতিক বিভিন্ন ঔষধি উপাদানের সমন্বয়ে তৈরি ওষুধ দ্বারা চিকিৎসা করা হয়

বাংলাদেশ পৃথিবীর সপ্তম জনবহুল একটি দেশ। এ দেশের প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্রায় ১ হাজার ১৫ জন লোকের বসবাস। চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নতি ও নতুন নতুন প্রযুক্তির ফলে মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১৪ সালের একটি জরিপে দেখা গেছে, বাংলাদেশের জনসংখ্যার গড় আয়ু ৭০.৬৫ বছর; যা পুরুষের ক্ষেত্রে ৬৮.৪৮ বছর ও নারীর ক্ষেত্রে ৭২.৩১ বছর। বার্ধক্যের কোনো সংজ্ঞা নেই। বয়স কত হলে একজন মানুষকে বৃদ্ধ বলা হবে তা এখনও নিরূপিত হয়নি। সাধারণত আমরা ৬০ বছর বয়স হলেই তাকে বৃদ্ধ বলি। তবে অনেকেই ৪০ থেকে ৫০ বছর পরই বুড়িয়ে যায়। দেখলে মনে হয় অনেক বয়স হয়েছে। আবার অনেকেই ৭৫ থেকে ৮০ বছর বয়সে সতেজ জীবনযাপন করেন; যা সত্যিই আনন্দদায়ক ও অনুপ্রেরণামূলক। জাতীয় আদমশুমারি ও গৃহ গণনা ২০১১ মোতাবেক, বাংলাদেশে ৬০ বছর বা এর চেয়ে বেশি বয়সের মানুষের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ৭.৪৮ শতাংশ; যা ১৯৮১ সালে ছিল ৫.৬৩ শতাংশ, ১৯৯১ সালে ৫.৩৬ শতাংশ এবং ২০০১ সালে ছিল ৬.২২ শতাংশ। এ পরিসংখ্যান অনুসারে আমরা বলতে পারি, ২০২৫ সালে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধ তথা ৬০ বছরের অধিক বয়সী হবে। বৃদ্ধ বয়স মানুষের জীবনের সবচেয়ে কঠিনতম সময়। এ সময়ে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের প্রবীণ জনগোষ্ঠীর শারীরিক সমস্যার মধ্যে অন্যতম হলো উচ্চরক্তচাপ। উচ্চরক্তচাপের কথা শুনলে মানুষ ভয় পেয়ে যায়। রক্তচাপ মানুষের বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শরীরে বাসা বাঁধে। মানুষ যখন বয়স্ক হয় তথা বৃদ্ধ হয় তখন রক্তচাপ ওঠানামা করে। উচ্চরক্তচাপ সাধারণত ৪০ বছরের পরেই বেশি দেখা যায়। কারও রক্তচাপ মনিটরে সিস্টোলিক প্রেসার ১২০ এবং ডায়াস্টোলিক প্রেসার ৮০ হলে তাকে আমরা স্বাভাবিক রক্তচাপ বলে ধরে নিই। তবে বয়স অনুসারে এ  রক্তচাপের স্বাভাবিক মাত্রার কিছুটা তারতম্য ঘটে। রক্তের চাপ যদি বৃদ্ধি হয় তবে তাকে উচ্চরক্তচাপ ও কম হলে তাকে নিম্নরক্তচাপ বলে। উচ্চরক্তচাপ এমন একটি শারীরিক সমস্যা যে, এ রোগ সম্পূর্ণরূপে আরোগ্য হয় না। নিয়মিত ওষুধ সেবন ও কিছু নিয়ম মেনে চললে উচ্চরক্তচাপ সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। অতিরিক্ত চর্বিজাতীয় খাবার গ্রহণে রক্তের চাপ বৃদ্ধি পায় এবং দেহের ওজন বাড়তে থাকে। বৃদ্ধ বয়সে মানসিক বিভিন্ন চিন্তা রক্তচাপ বৃদ্ধির অন্যতম প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। এছাড়া রক্তে ক্ষতিকারক কোলেস্টেরলের বৃদ্ধি, হৃৎপি-ের বিভিন্ন সমস্যা, অতিরিক্ত দৈহিক ওজন, ন্যূনতম শারীরিক পরিশ্রম না করা, তৈলাক্ত খাবার গ্রহণসহ নানা কারণে উচ্চরক্তচাপ সৃষ্টি করে। উচ্চরক্তচাপ সৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে যদি সঠিক ব্যবস্থাপত্র গ্রহণ করা হয় তাহলে প্রাথমিক অবস্থায় খুব সহজেই এ রোগ নিয়ন্ত্রণে রেখে স্বাভাবিক জীবনযাপন করা সম্ভব। 

উচ্চরক্তচাপে ইউনানি চিকিৎসা 
ইউনানি চিকিৎসা অতি প্রাচীন ও বিজ্ঞানভিত্তিক একটি চিকিৎসা পদ্ধতি। এ  পদ্ধতিতে প্রাকৃতিক বিভিন্ন ঔষধি উপাদানের সমন্বয়ে তৈরি ওষুধ দ্বারা চিকিৎসা করা হয়। এই ঔষধি উপাদানগুলো খুবই স্বল্পমূল্যে পাওয়া যায়। অপরদিকে প্রকৃতিতে প্রাপ্ত ঔষধি উপাদানগুলোর বিরূপ প্রতিক্রিয়া তুলনাভাবে খুবই কম হয়। উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ইউনানি ওষুধ উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। আসুন দেখে নিই কী কী ইউনানি ওষুধের মাধ্যমে উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়Ñ
পানপাতা ও গোলমরিচ
উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে পানপাতা ও গোলমরিচ বিশেষ ভূমিকা রাখে। একটি পানপাতা ও ৫টি গোলমরিচ একত্রে সকালে খালি পেটে ও রাতে খালি পেটে, এভাবে ১৪ দিন পর্যন্ত সেবন করলে উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। এই দুইটি উপাদান রক্তের ক্ষতিকারক কোলেস্টেরল দেহ থেকে অপসারণ করার মাধ্যমে রক্তের চাপ স্বাভাবিক রাখে।
রসুন : উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রসুনের জুড়ি নেই। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে ২-৩ কোয়া রসুন পানিসহ চিবিয়ে খেলে রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকে। রসুন দেহের অতিরিক্ত ওজন কমাতে সহায়তা করে।
সর্পগন্ধা : প্রকৃতিতে প্রাপ্ত উপাদানগুলোর মধ্যে স্বর্পগন্ধা উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে বেশি কার্যকর। সর্পগন্ধাতে রিসারপিন নামক অ্যালকালয়েড আছে, যা রক্তগাত্রকে প্রসারণের মাধ্যমে রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখে। প্রাথমিকভাবে সর্পগন্ধা পাউডার ৫০০ মিলিগ্রাম করে দৈনিক একবার সেবন করলে তা উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে। রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে দৈনিক ১০০ থেকে ২৫০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত সেবন করা যায়।

ডা. মো. ওবায়দুল হক
ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক
[email protected]