আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৯-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

মাগুরায় রোপা আমনের ব্যাপক আবাদ

মাগুরা প্রতিনিধি
| দেশ

মাগুরার চার উপজেলায় চলতি মৌসুমে রোপা আমন ধানের ব্যাপক আবাদ হয়েছে। ফলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি উৎপাদনের আশা করছেন চাষিরা। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মৌসুমের শুরুতে জেলায় ৫৭ হাজার ৮৬৭ হেক্টর জমিতে রোপা আমান ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। সেখানে ৫৮ হাজার ৪৩০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫৬৩ হেক্টর বেশি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, জেলার চার উপজেলার মধ্যে সদর উপজেলায় ২২ হাজার ৩০০ হেক্টর, শ্রীপুরে ১১ হাজার ৭০ হেক্টর, শালিখায় ১৩ হাজার ৩৬০ হেক্টর ও মহম্মদপুর উপজেলায় ১১ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান চাষ হয়েছে। এসব জমি থেকে ১ লাখ ৬১ হাজার ১৬৩ টন চাল উৎপানের লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করা হয়েছে। এ বছর সময়মতো বৃষ্টিপাত হওয়ায় এবং সারসহ অন্যান্য কৃষি উপকরণ হাতের নাগালে পাওয়ায় কৃষক ভালোভাবে রোপা আমন ধান চাষ করতে পেরেছেন। চলতি মৌসুমে ব্রি ধান-৫৯, ৫৭, ৬২, ৩৯, ৩৩, বিনা ধান-৭, বিআর ধান-১১, জিএস ধান-১, গুটি স্বর্ণ ধানসহ বিভিন্ন জাতের উচ্চফলনশীল রোপা আমন ধান চাষ হয়েছে। ধান চাষ সফল করতে আধুনিক চাষ পদ্ধতির বিভিন্ন বিষয়ে কৃষককে নানাভাবে পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।
এ বছর ধান চাষ সফল করতে জমিতে লাইন সুইং পদ্ধতিতে ধান লাগানো, গুটি ইউরিয়াসহ জৈব ও সুষম সারের সঠিক মাত্রায় ব্যবহার, ধানের জমিতে গাছের ডাল গেড়ে পারচিং বা দাঁড় পদ্ধতিসহ আধুনিক চাষ পদ্ধতির ব্যবহার সম্পর্কে কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে জেলায় আমন ধানের ভালো ফলন হবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ। 
শ্রীপুর উপজেলার তারাউজিয়াল গ্রামের কৃষক সুজন মিয়া জানান, এ বছর তিনি ৫ বিঘা জমিতে ব্রি ধান-৬২ ও গুটি স্বর্ণ ধানের চাষ করেছেন। জমিতে ধান লাগাতে গুটি ইউরিয়ার ব্যবহারসহ আধুনিক পদ্ধতিতে ধান চাষ করেছেন। চাষকৃত জমি থেকে ৮০ থেকে ৯০ মণ ধান পেতে পারেন।
মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক পার্থ প্রতিম সাহা বলেন, চলতি রোপা আমন মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বেশি জমিতে রোপা আমন ধান চাষ হয়েছে। সময়মতো বৃষ্টিপাত হওয়ায় কৃষক ভালোভাবে ধান চাষ করতে পেরেছেন। ধান চাষ সফল করতে কৃষককে আধুনিক চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে পরামর্শ দেওয়াসহ বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে এ বছর জেলায় আমন ধানের ভালো ফলন হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।