আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৯-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

হাটবাজার ডিমওয়ালা ইলিশে সয়লাব

আবুল হাসান, মাদারীপুর
| দেশ

পদ্মা নদীর মাদারীপুর অংশে তিনটি ইউনিয়নের জেলেদের জালে প্রচুর ডিমওয়ালা ইলিশ ধরা পড়ছে। ফলে মাদারীপুরের হাটবাজারে এখন প্রচুর ডিমওয়ালা ইলিশ পাওয়ায় যাচ্ছে। বাজারে মাছের সরবরাহ কয়েক মাসের তুলনায় অনেক বেশি। বাজারে মাছ বেশি পাওয়া গেলেও দাম গেল বছরের এ সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। বাজারে ডিমওয়ালা ইলিশ দেখে ক্রেতারা আনন্দের বদলে হতাশা ব্যক্ত করছেন। তারা জানান, সরকার যদি ডিমওয়ালা মাছগুলো দেড় থেকে দুই মাস পর্যন্ত ধরা নিষিদ্ধ করত, তাহলে আগামীতে এ মাছ থেকে প্রচুর ইলিশ পাওয়া যেত। এতে মানুষও কম দামে কিনতে পারতেন।
মাদারীপুরের বেশ কয়েকটি হাটবাজার ঘুরে দেখা গেছে, শিবচর উপজেলার পদ্মা নদীবেষ্টিত বন্দরখোলা, কাঁঠালবাড়ী ও চরজানাজাত ইউনিয়নের ২০টি গ্রামের কয়েকশ’ জেলে পদ্মা নদীতে ইলিশ ধরায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। জেলেরা প্রতিদিন হাজার হাজার ডিমওয়ালা ইলিশ মাছ ধরছেন। এগুলো বিক্রি করছেন উপজেলার পাঁচ্চর, মাওয়াঘাট আড়ত ও জেলার বিভিন্ন বাজারে। সরবরাহ বেশি থাকার পরও দামে কমছে না। মাদারীপুরের বিভিন্ন এলাকার হাটবাজারে ইলিশের দামে পার্থক্য রয়েছে। ১ কেজি ৩০০ থেকে ১ কেজি ৪০০ গ্রাম পরিমাণ মাছের পাইকারি দাম ১ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার টাকা, ১ কেজি থেকে ১ কেজি ২০০ গ্রাম পর্যন্ত ১ হাজার ৫০০ টাকা, ৫০০ গ্রাম মাছের দাম ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, ৩টায় ১ কেজি হয় এরকম মাছের দাম ৫০০ এবং জাটকার দাম ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। 
শহরের ইটেরপুল বাজারে মাছ কিনতে আসা মেহেদী হাসান বলেন, বাজারে মাছের পরিমাণ ভালো। কিন্তু দাম বেশি। গেল বর্ষা মৌসুমের তুলনায় বর্তমানে মাছের দাম অনেক বেশি। প্রায় প্রতিটি মাছে ডিম রয়েছে। সরকার যদি ডিমওয়ালা মাছগুলো এখন থেকেই ধরা নিষিদ্ধ করত, তাহলে আগামী বছরে প্রচুর ইলিশ পাওয়া যেত। মস্তফাপুর বাজারে সকালে মাছ কিনতে আসা হাবিব হাওলাদার বলেন, ৫ থেকে ৬ পিস মাছে ১ কেজি হয়, এরকম ইলিশের দাম কিছুটা কম হওয়ায় নিম্ন আয়ের মানুষ ইলিশের স্বাদ নিতে পারছেন। বড় ইলিশের দাম অন্যান্য সময়ের চেয়ে একটু কম। এ সময়টায় একটু বেশি বড় ইলিশ পাওয়া যায়। তবে প্রায় প্রতিটি ইলিশ মাছের পেটে ডিম রয়েছে। মাছের খুচরা বিক্রেতা বাচ্চু খন্দকার বলেন, মোকামে ইলিশ মাছ এখন বেশি। প্রচুর পরিমাণে ইলিশ আসছে আড়তগুলোয়। আগের চেয়ে কিছুটা কম দামেই এখন ইলিশ বিক্রি হচ্ছে। হাটবাজারে এখন অন্য মাছের চেয়ে ইলিশ বেশি উঠছে, বিক্রিও হচ্ছে বেশি। বেশিরভাগ মাছে ডিম রয়েছে। মাদারীপুর সদর উপজেলার পুরান বাজার মৎস্য আড়তের ব্যবসায়ী দিদার হোসেন বলেন, আমি ৩৫ বছর ধরে ইলিশ মাছের ব্যবসা করি। শহরের সবচেয়ে বড় মাছের বাজার হচ্ছে এটা। এখানে পদ্মার ইলিশ বেশি পাওয়া যায়। বর্তমানে যে মাছগুলো বাজারে আসছে তার বেশিরভাগ মাছের পেটে ডিম রয়েছে। অন্য সময়ের তুলনায় মাছ বেশি উঠলেও দামও অনেক বেশি। পদ্মার মাছ ছাড়াও বরিশাল ও চাঁদপুর অঞ্চল থেকে এখানে ইলিশ আসে।
মাদারীপুর পরিবেশবাদী সংগঠন ফ্রেন্ডস অব নেচারের নির্বাহী পরিচালক রাজন মাহমুদ বলেন, এখন বাজারে যে ইলিশ মাছ পাওয়া যাচ্ছে তার বেশিরভাগ মাছের পেটে ডিম রয়েছে। সরকার ডিমওয়ালা মাছ ধরা বন্ধ রাখে অক্টোবর মাসে ১২ থেকে ১৫ দিন। পুরো অক্টোবর ইলিশ ধরা বন্ধ রাখতে পারলে পরে তা দ্বিগুণ-তিনগুণ হয়ে যেত। শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান আহম্মেদ বলেন, ইলিশ মাছের প্রজনন মৌসুম কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। এখন বাজারে যেসব ইলিশ পাওয়া যায় তার বেশিরভাগে ডিম রয়েছে। সরকার অক্টোবর মাসের প্রথম দিকে ইলিশ ধরা নিষেধ করে। সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে পুরো অক্টোবর মাস পর্যন্ত ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করা হলে সামনের মৌসুমে প্রচুর ইলিশ মাছ পাওয়া যেত। ইলিশ ধরা নিষিদ্ধের সময় বাড়ানোর জন্য আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলব। মাদারীপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবদুস সাত্তার বলেন, মাদারীপুরের বাজারগুলোয় ইলিশের বেশ সরবরাহ রয়েছে। তাছাড়া পদ্মা নদীতেও জেলেদের জালে বেশ ইলিশ ধরা পড়ছে। আর এ কারণেই বাজারগুলোয় ইলিশের দামও তুলনামূলক কম। প্রতি বছর অক্টোবর মাসে ২২ দিন সব ধরনের ইলিশ মাছ ধরা নিষেধ থাকলেও এখনও আমাদের কাছে কোনো চিঠি আসেনি ডিমওয়ালা মাছ ধরা নিষেধ কবে থেকে। তিনি আরও বলেন, এখন যে মাছে ডিম পাওয়া যায়, সেই মাছের পরিপূর্ণভাবে ডিম ছাড়ার সময় আসেনি। আর ডিমওয়ালা মাছ ধরা কবে থেকে নিষেধ করবে তা নির্ধারণ করবে মৎস্য গবেষণা কেন্দ্র।