আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২০-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

টাকার বিনিময়ে স্মার্ট কার্ড বিতরণ ঠেকাতে হবে

গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ

| সম্পাদকীয়

জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসী কাজে অর্থায়ন, বিদেশে অর্থ পাচারসহ গুরুতর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সরকার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র বা স্মার্ট আইডি কার্ড প্রকল্প হাতে নেয়। এক্ষেত্রে সরকার সফলতার সঙ্গে দেশব্যাপী অসংখ্য স্মার্ট কার্ড বিতরণ করলেও বিভিন্ন সময়ে স্মার্ট কার্ড বিতরণ কার্যক্রমে নিয়োজিত কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। দেখা যায়, সরকারের পক্ষ থেকে যেখানে বিনা টাকায় স্মার্ট কার্ড বিতরণের কথা, সেখানে টাকার বিনিময়ে স্মার্ট কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে। আলোকিত বাংলাদেশে প্রকাশ, বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় টাকার বিনিময়ে স্মার্ট কার্ড বিতরণের অভিযোগ উঠেছে। স্মার্ট কার্ড বিতরণকালীন গ্রাহকপ্রতি ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করেছেন উপজেলা নির্বাচন অফিসে অস্থায়ী নিয়োগ পাওয়া ডাটা এন্ট্রি অপারেটররা। সংগত কারণেই এ নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে সেখানকার গ্রাহকদের মধ্যে।
উল্লেখ্য, উপজেলাটির ছয়টি ইউনিয়নে মোট স্মার্ট কার্ড গ্রহীতার সংখ্যা ১ লাখ ৪ হাজার ১৭১। উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রমতে, এ পর্যন্ত ৮৭ হাজার ৫০৪ জনের মধ্যে স্মার্ট কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দিয়ে ডাটা এন্ট্রি অপারেটর নিয়োগ দিয়ে গেল ৯ মে স্মার্ট কার্ড বিতরণ শুরু হয়, যা শেষ হওয়ার কথা ২৪ জুন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্ড বিতরণ শেষ না হওয়ায় অস্থায়ী এবং পারিশ্রমিক ছাড়াই দুজন অপারেটর নিয়োগ দেওয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে, এ বিনা পারিশ্রমিকের অপারেটররাই কার্ড প্রদানের নামে টাকা গ্রহণ করছেন। 
জাতীয় পরিচয়পত্র হলো বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য একটি বাধ্যতামূলক নথি, যা ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার পর নথিভুক্ত হতে হয়। ব্যক্তিগত কিংবা রাষ্ট্রীয় নানা কাজে এ পরিচয়পত্র নাগরিকদের প্রয়োজন হয়। এটি না থাকলে অনেক সময় নাগরিকদের বিপন্ন অবস্থায় পড়তে হয়। তাই এটা প্রদানের ক্ষেত্রে কেউ যদি গাফিলতি করেন কিংবা প্রদানের নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এছাড়া স্মার্ট কার্ড প্রদান কার্যক্রমে কেন বিনা পারিশ্রমিকে অপারেটর নিয়োগ দেওয়া হলো, তা-ও খতিয়ে দেখা দরকার। দেশে আইডি কার্ড সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হলো বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। এভাবে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা গ্রহণ নির্বাচন কমিশনসহ সব সরকারি কার্যক্রমকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে। স্মার্ট কার্ড প্রদানে টাকা নেওয়া বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি এ সংক্রান্ত সব অনিময়ম বন্ধে এখনই ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।