আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২০-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

চলতি অর্থবছরের দুই মাসে

রপ্তানিতে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি প্রকৌশল ও পাট পণ্যে

নিজস্ব প্রতিবেদক
| অর্থ-বাণিজ্য

রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১৮ কোটি ৩১ লাখ ডলার। বিপরীতে রপ্তানি হয়েছে ১৩ কোটি ১১ লাখ ডলার

চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে রপ্তানিতে পিছিয়ে পড়েছে প্রকৌশল ও পাট পণ্য। এছাড়া একই সময়ে রপ্তানি কমেছে ক্যামিকেল পণ্য। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সর্বশেষ রপ্তানি পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। 

রপ্তানির পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই ও আগস্ট মাসে পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১৮ কোটি ৩১ লাখ ডলার। বিপরীতে রপ্তানি হয়েছে ১৩ কোটি ১১ লাখ ডলার। ফলে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রপ্তানি কম হয়েছে ২৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১০৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার, যেখানে গেল অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছিল ১০২ কোটি ৫৫ লাখ ডলার। পাট খাতের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত কাঁচাপাট, পাটের সুতা, পাটের ব্যাগ ও অন্যান্য পণ্যের রপ্তানির ক্ষেত্রে কোনোটিই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি।
কাঁচা পাট রপ্তানির ক্ষেত্রে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ২ কোটি ৫৩ লাখ ডলার। রপ্তানি হয়েছে ১ কোটি ৯৬ লাখ ডলার। ফলে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রপ্তানি ২২ দশমিক ৫১ শতাংশ কম হয়েছে। চলতি অর্থবছরে কাঁচা পাট রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৫ কোটি ডলার।  আগের অর্থবছরে কাঁচা পাট রপ্তানি হয়েছিল ১৫ কোটি ৫৬ লাখ ডলার। পাটের সুতা ও টুইন রপ্তানির ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রপ্তানি কম হয়েছে ২৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে পাটের সুতা ও টুইন রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১১ কোটি ৬৪ লাখ ডলার। বিপরীতে রপ্তানি হয়েছে ৮ কোটি ৩৪ লাখ ডলার। আগের ২০১৭-১৮ অর্থবছরের একই সময়ে পাটের সুতা ও টুইন রপ্তানি হয়েছিল ১০ কোটি ৬০ লাখ ডলার। ফলে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে পাটের সুতা ও টুইন রপ্তানি কমেছে ২১ দশমিক ৩৮ শতাংশ।
পাটের ব্যাগ রপ্তানির ক্ষেত্রেও একইভাবে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। জুলাই ও আগস্ট মাসে পাটের ব্যাগ রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ২ কোটি ১৯ লাখ ডলার। বিপরীতে রপ্তানি হয়েছে ১ কোটি ৩৮ লাখ ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৩৭ দশমিক ১ শতাংশ কম। চলতি অর্থবছরে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৩ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরে পাটের ব্যাগের রপ্তানি হয়েছিল ১২ কোটি ২৮ লাখ ডলার।
পাট ও পাট পণ্যের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত অন্যান্য পণ্যের রপ্তানির ক্ষেত্রেও রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। এই সময়ে পাটের অন্যান্য পণ্যের রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১ কোটি ৯৪ লাখ ডলার। বিপরীতে রপ্তানি হয়েছে ১ কোটি ৪৮ লাখ ডলার। চলতি অর্থবছরে অন্যান্য পণ্যের রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১১ কোটি ৫০ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছিল ৯ কোটি ৯৩ লাখ ডলার। আগের ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জুলাই আগস্ট সময়ে পাটের অন্যান্য পণ্যের রপ্তানি হয়েছিল ১ কোটি ৫৬ লাখ ডলার। ফলে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে পাটের অন্যান্য পণ্যের রপ্তানি কমেছে ৫ দশমকি ৪৯ শতাংশ।
পাট ও পাট পণ্যের পাশাপাশি রপ্তানির ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি তালিকাভুক্ত প্রকৌশল খাত। জুলাই আগস্ট সময়ে এ খাতের রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৫ কোটি ৯৪ লাখ ডলার। রপ্তানি হয়েছে ৪ কোটি ৮৯ লাখ ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ কম। চলতি অর্থবছরে প্রকৌশল পণ্যের রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৫ কোটি ২০ লাখ ডলার। আগের ২০১৭-১৮ অর্থবছরে প্রকৌশল পণ্যের রপ্তানি হয়েছিল ৩৫ কোটি ৫৯ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের জুলাই ও আগস্ট মাসে প্রকৌশল পণ্যের রপ্তানি হয়েছিল ৪ কোটি ৭৫ লাখ ডলার। ফলে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে প্রকৌশল পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে ২ দশমিক ৮৮ শতাংশ।
প্রকৌশল পণ্যের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকা আয়রন স্টিলের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই আগস্ট সময়ে আয়রন স্টিলের রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৬৭ লাখ ৫ হাজার ডলার। বিপরীতে রপ্তানি হয়েছে ৬৭ লাখ ৬ হাজার ডলার। তবে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রপ্তানি বেড়েছে ৭৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ। আগের অর্থবছরের একই সময়ে আয়রন স্টিলের রপ্তানি হয়েছিল ৩৯ লাখ ডলার।  
ইপিবির সর্বশেষ রপ্তানির পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, কপারওয়ার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। জুলাই আগস্ট সময়ে এই পণ্যের রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৯২ লাখ ডলার। বিপরীতে রপ্তানি হয়েছে ৬০ লাখ ডলার। ফলে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৩৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ কম অর্জিত হয়েছে। স্ট্যানলেস স্টিল রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫২ দশমিক ৯৪ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে এ পণ্যের রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৬ লাখ ডলার। বিপরীতে রপ্তানি হয়েছে ১০ লাখ ডলার। চলতি অর্থবছরে স্ট্যানলেস স্টিলের রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪০ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছিল ৪৩ লাখ ডলার। প্রকৌশল যন্ত্রাংশ রপ্তানির পরিসংখ্যানে দেখা গেছে উল্লিখিত সময়ে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। চলতি অর্থবছরের জুলাই আগস্ট সময়ে প্রকৌশল যন্ত্রাংশ রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৬৭ লাখ ডলার। বিপরীতে রপ্তানি হয়েছে ৬২ লাখ ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৭ দশমিক ৭০ শতাংশ কম। চলতি অর্থবছরে প্রকৌশল যন্ত্রাংশ রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছিল ৪ কোটি ১৩ লাখ ডলার। বৈদ্যুতিক পণ্য রপ্তানির হিসাবে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে রপ্তানি হয়েছে ১ কোটি ১৪ লাখ ডলার। যেখানে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ কোটি ৪ লাখ ডলার। ফলে উল্লিখিত সময়ে বৈদ্যুতিক পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৯ দশমিক ১৮ শতাংশ বেশি অর্জিত হয়েছে। বাইসাইকেল রপ্তানি উল্লিখিত সময়ে কমেছে ৩৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বাইসাইকেল রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১ কোটি ৫৩ লাখ ডলার। যেখানে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১ কোটি ৫৩ লাখ ডলার। চলতি অর্থবছরে বাইসাইকেল রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯ কোটি ১০ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরে বাইসাইকেল রপ্তানি হয়েছিল ৮ কোটি ৫৭ লাখ ডলার।