আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২০-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

প্রচ- তাপপ্রবাহ

খুলনায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটে গ্রাহকরা দিশেহারা

মুহাম্মদ নূরুজ্জামান, খুলনা
| নগর মহানগর

খুলনাঞ্চলে লোডশেডিং না থাকলেও বিদ্যুৎ বিভ্রাট রয়েছে। বিদ্যুতের ঘন ঘন আসা-যাওয়ায় প্রচ- গরমে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বিদ্যুৎ গ্রাহকরা। ভোর থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের ছন্দপতন হচ্ছে। সঞ্চালন ব্যবস্থায় ত্রুটি ও ট্রান্সফর্মার ওভার লোডেড হওয়ার কারণে বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। সম্প্রতি দক্ষিণাঞ্চলে হঠাৎ করে তাপমাত্রা বেড়ে গেছে। প্রচ- তাপপ্রবাহের কারণে এ অঞ্চলের বাসিন্দারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, খুলনায় বিদ্যুতের গ্রাহক রয়েছেন ২ লাখ ৬ হাজার ৬৭৫ জন। এ বিদ্যুৎ গ্রাহকদের জন্য চারটি বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্র রয়েছে। ফিডার রয়েছে ৭১টি। এর মধ্যে গ্রাহক ফিডার ৪৮টি এবং এক্সপ্রেস ফিডার ২৩টি। বিতরণ লাইন রয়েছে ১ হাজার ৫ কিলোমিটার। ট্রান্সফর্মার রয়েছে ১ হাজার ৩৪৩টি। এসব ট্রান্সফর্মার ওভার লোডেড এবং সঞ্চালন লাইনের ত্রুটির কারণে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিচ্ছে। বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভ্রাটও বেড়ে যায়। এতে গ্রাহকদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
খালিশপুর বঙ্গবাসী মোড় এলাকার বাসিন্দা সোহাগ বলেন, সকাল ৭টা থেকে শুরু করে দুপুর পর্যন্ত সাত থেকে আটবার বিদ্যুৎ চলে যায়। ১০ থেকে ১৫ মিনিট বন্ধ থেকে ফের চলে আসে। এত ঘন ঘন বিদ্যুৎ যাওয়া এবং ভোল্টেজ আপ-ডাউন করার কারণে ফ্রিজ, টিভি, ফ্যান, লাইটসহ ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে। এছাড়া গরমের কারণে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
নগরীর টুটপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, গেল এক সপ্তাহ ধরে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট মেশিন চালাতে না পেরে ব্যবসায় লোকসান গুনতে হচ্ছে।
ওজোপাডিকোর সূত্র জানায়, মঙ্গলবার খুলনাসহ দক্ষিণের ২১ জেলায় বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি ছিল না। ১ হাজার ৬৭২ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহও একই ছিল। তবে সকাল থেকেই নগরীর বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দেয়। এর মধ্যে ডিভিশন-২ এর আওতায় কমিশনার ফিডারে ট্রান্সমিটারের ফিউজ সংক্রান্ত সমস্যার কারণে সকাল ৯টা ১০ মিনিটে বিদ্যুৎ চলে যায়। আসে ৯টা ২৫ মিনিটে। কৃষি কলেজ ফিডারে বেলা ১১টা ৫ মিনিট থেকে ১১টা ৩১ মিনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। একই ফিডারে দুপুর পৌনে ১টা থেকে ১টা ১০ মিনিট পর্যন্ত, স্টেডিয়াম ফিডারে দুপুর ১টা থেকে সোয়া ১টা পর্যন্ত, সন্ধ্যা ৭টা ১০ থেকে ৭টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত, বাগমারা ফিডারে দুপুর ১২টা ৪০ মিনিট থেকে ১টা ১০ মিনিট পর্যন্ত, নতুন বাজার ফিডারে দুপুর ১টা ৫ মিনিট থেকে ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত, দোলখোলা ফিডারে দুপুর ২টা ২৫ মিনিট থেকে ২টা ৪৮ মিনিট পর্যন্ত, আদদ্বীন এক্সপ্রেস ফিডারে বিকাল ৫টা ৫১ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৭টা ২১ মিনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। এছাড়া নগরীর রয়েল মোড় এলাকা, খালিশপুর সেন্ট্রাল ফিডারসহ বিভিন্ন স্থানে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ঘন ঘন বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়।
বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুল হক বলেন, ট্রান্সমিটারের উন্নয়ন কাজের জন্য কিছু সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়। বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-৪ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ট্রান্সমিটারের ফিউজসহ নানা ত্রুটি দেখা দিচ্ছে। এছাড়া ওভারলোডের কারণে বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দেয়। এসব রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কাজ করতে হয়। আর এ উন্নয়ন কাজের জন্য বিদ্যুতের সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়।
খুলনা আবহাওয়া অফিস সূত্র জানায়, বুধবার খুলনায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫, সাতক্ষীরায় ৩৬, যশোরে ৩৬ ও বাগেরহাটে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত কয়েকদিন ধরে একই ধরনের তাপমাত্রা বিরাজমান থাকায় গরম বেড়েছে। একই সঙ্গে রোদের প্রখরতাও রয়েছে।