আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২০-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

সেমিনারে গৃহায়নমন্ত্রী

পরিবেশ রক্ষায় ইটভাটা তুলে দেওয়া উচিত

নিজস্ব প্রতিবেদক
| নগর মহানগর

রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বুধবার ‘পোড়া ইটের বিকল্প কংক্রিট ব্লক’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ষ আলোকিত বাংলাদেশ

পরিবেশ রক্ষায় ২০২০ সালের মধ্যে দেশ থেকে ইটভাটা তুলে দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেছেন, জমির উপরিভাগের মাটি ব্যবহার করে যেভাবে ইট তৈরি করা হচ্ছে তাতে পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই ইট ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে ইটভাটার ওপর বেশি বেশি কর আরোপ করতে হবে। একই সঙ্গে ২০২০ সালের মধ্যে সব ইটভাটা বন্ধ করা উচিত। ইটের পরিবর্তে হলগ্রাম বা কংক্রিটের ব্যবহার বাড়াতে হবে।

বুধবার সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘পোড়া ইটের বিকল্প কংক্রিট ব্লক’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরাম এ সেমিনারের আয়োজন করে।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ রেডিমিক অ্যান্ড কংক্রিট অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী মো. আবদুল আউয়াল।
মন্ত্রী ১০ বছরের জন্য ব্লক তৈরি কারখানাকে শুল্কমুক্ত রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যদি ইটের ব্যবহার বন্ধ করে ব্লক বা কংক্রিটের ব্যবহার বাড়াতে হয় তাহলে ১০ বছরের জন্য সব ব্লক তৈরি কারখানার ওপর ডিউটি ফ্রি করতে হবে। তিনি বলেন, ইটের খোয়ায় নির্মিত রাস্তার স্থায়িত্ব অনেক কম। তাই ইটের খোয়ার পরিবর্তে পাথরের চিপস দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করতে হবে। 
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে মো. আবদুল আউয়াল বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তথ্য তুলে ধরে বলেন, দেশে এখন বছরে কম করে হলেও ১৭ দশমিক ২ বিলিয়ন পিস ইট তৈরি হচ্ছে। প্রতি মিলিয়ন ইট তৈরিতে পোড়াতে হচ্ছে ২৪০ মিলিয়ন টন কয়লা। 
কয়লার পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে বনভূমি ধ্বংস করে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ ও বাঁশ। ইটভাটাগুলো থেকে বছরে কম করে হলেও ৯ দশমিক ৮ মিলিয়ন টন কার্বন-ডাই-অক্সাইড নির্গত হচ্ছে বায়ুম-লে; যা দেশের মোট কার্বন-ডাই অক্সাইড নির্গমনের প্রায় ২৩ শতাংশ। 
সঙ্গে যোগ হচ্ছে কার্বন মনোঅক্সাইড ও সালফার ডাইঅক্সাইডের মতো বিষাক্ত গ্যাস।
এ সময় তিনি আয়োজক সংগঠনের পক্ষ থেকে বেশকিছু সুপারিশ তুলে ধরেন।