আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২০-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

ভাসমান পদ্ধতিতে সবজি চাষে নতুন সম্ভাবনা

নূরে-আলম রনি, নরসিংদী
| সুসংবাদ প্রতিদিন

পানির ওপর বাঁশের মাচায় কচুরিপানা দিয়ে স্তূপ তৈরি করে ভাসমান পদ্ধতিতে সবজি চাষ করে দিন বদল করেছেন নরসিংদীর সদর উপজেলার নজরপুর ইউনিয়নের আলিপুর গ্রামের কৃষক হেলাল খান। এ পদ্ধতিতে লাউ, ধুন্দল, ঝিঙ্গা, চিচিঙ্গা, করলা, শসা, ঢ্যাঁড়সসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করে তিনি সফল হয়েছেন। রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ছাড়া জৈব পদ্ধতিতে এ সবজি চাষ হওয়ায় বাড়তি খরচ নেই। তাছাড়া বিষমুক্ত হওয়ায় বাজারে এসব সবজির চাহিদা থাকায় বাড়তি দামও পাওয়া যায়। হেলালের দেখাদেখি চলতি বছর একই পদ্ধতিতে সবজি চাষ করে সফল হয়েছেন তার ভাই কাইয়ুম খান। দুই ভাইয়ের সফলতা ভাসমান পদ্ধতিতে সবজি চাষে নতুন সম্ভাবনার স্বপ্ন দেখাচ্ছে চরাঞ্চলের অন্য কৃষকদের। কৃষি বিভাগ বলছে, বর্ষা মৌসুমে ভাসমান পদ্ধতিতে সবজি চাষ বাড়ানোর মাধ্যমে কৃষককে স্বাবলম্বী করে তোলার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্ষা মৌসুমে নরসিংদী সদর উপজেলার চরাঞ্চলের চার ইউনিয়নের বেশিরভাগ জমিই পানিতে তলিয়ে থাকে। নির্দিষ্ট সময়ের পর ধান ছাড়া চাষ করা যায় না কোনো ধরনের সবজি। পরীক্ষামূলকভাবে নজরপুর ইউনিয়নের আলিপুর গ্রামের কৃষক হেলাল খানের ভাসমান পদ্ধতিতে সবজি চাষ পাল্টে দিয়েছে সে দৃশ্যপট।
হেলাল খান বলেন, ‘কৃষি জমিগুলো বছরের ছয় মাস পানিতে তলিয়ে থাকায় বেকার বসে থাকতে হতো। কৃষি বিভাগের পরামর্শে ২০১৬ সালে বাঁশ দিয়ে একটি মাচা তৈরি করে তার ওপর ৮-৯ ফুট উঁচু করে কচুরিপানার স্তূপ তৈরি করি। এ স্তূপে বিভিন্ন ধরনের সবজির আবাদ করে ভালো ফল পাই। ১৫ হাজার টাকা ব্যয়ে একটি বেড থেকে ৭০ হাজার টাকার মতো সবজি বিক্রি করেছি। চলতি বছর ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে আরও ৫টি সবজি বেড তৈরি করেছি এবং আশাব্যঞ্জক ফলন পাচ্ছি।’ কাইয়ুম খান বলেন, ‘ভাইয়ের সফলতায় আমিও ভাসমান পদ্ধতিতে সবজি চাষে উদ্বুদ্ধ হয়েছি। সার ও কীটনাশক খরচ না থাকায় এ পদ্ধতিতে সবজি চাষ লাভজনক। তাছাড়া বিষমুক্ত হওয়ায় বাজারেও বাড়তি দাম ও চাহিদা রয়েছে এসব সবজির।’
নরসিংদী সদরের নজরপুর ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শামীম ভূঁইয়া বলেন, ভাসমান পদ্ধতিতে সবজি চাষে দুই কৃষকের সফলতা দেখে এলাকার অন্য কৃষকরাও উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। আগ্রহী এসব কৃষককে এ পদ্ধতিতে সবজি চাষের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।