আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২০-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

সংসদ নির্বাচন

ইসির প্রস্তুতি শুরু

আরিফুল ইসলাম
| প্রথম পাতা

মধ্য অক্টোবরে নির্বাচনকালীন সরকার
নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে নির্বাচনের তফসিল 
ডিসেম্বরের শেষভাগে ভোট 

নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল দিয়ে ডিসেম্বরের শেষভাগে ভোট করার প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। অন্যদিকে মধ্য অক্টোবরে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বর্তমান সরকার। 

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, সংসদ নির্বাচনের জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। এরই অংশ হিসেবে প্রাথমিক একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী নভেম্বরে শুরুতে তফসিল দিয়ে ১৬ থেকে ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে যে কোনো দিন ভোট করা যেতে পারে। আর নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে তফসিল দিলে ডিসেম্বরের ২৬ থেকে ২৯ তারিখের মধ্যে ভোট করা যেতে পারে। তবে তারিখের বিষয়ে কমিশন সভায় এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। কর্মপরিকল্পনাটি কমিশন বৈঠকে উঠানো হবে। সেখানে আলোচনা করে কমিশন অনুমোদন দেবে।

সূত্র জানায়, একাদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য আগামী রোববার থেকে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের অনুষ্ঠানিক ট্রেনিং শুরু হবে। এছাড়া নির্বাচনের জন্য সংসদীয় আসনের সীমানা, ভোটার তালিকা ও ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। 

একাদশ সংসদ নির্বাচনের ক্ষণ গণনা শুরু হওয়ার পর যে কোনো দিন তফসিল ঘোষণার জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। তিনি বলেন, ৩০ অক্টোবরের পর সংসদ নির্বাচনের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে যাবে। ৩০ অক্টোবরের পর যে কোনো সময় নির্বাচনি তফসিল ঘোষণা হতে পারে। নির্বাচন কমিশনই এ নিয়ে কমিশন সভায় সিদ্ধান্ত নেবে। ডিসেম্বরের শেষ দিকে ভোটের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন।

এদিকে নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে চলছে আলোচনা। কবে, কখন ও কাদের নিয়ে এ নির্বাচনকালীন সরকার হচ্ছে তা নিয়ে কৌতূহলও সর্বমহলে। এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর ওপরই নির্ভর করছে সবকিছু। একাদশ জাতীয় সংসদের জন্য অক্টোবরের মাঝামাঝি সময় আকারে ছোট একটি নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। মঙ্গলবার সচিবালয়ে সমসাময়িক ইস্যুতে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা হবে। এ সরকারে বাইরের কেউ আসবে না। তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করেছেন, টেকনোক্র্যাট কেউ আসবে না, আকারটা ছোট হবে। তবে জাতীয় পার্টি তাদের আরও দু-একজন অন্তর্ভুক্ত করতে বলেছে, অনুরোধ করেছে। সেটাও প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার, তিনি কতটা বিবেচনা করবেন, সেটা এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। এগুলো আলাপ-আলোচনার পর্যায়ে আছে। মন্ত্রিসভার আকার গেলবারের কাছাকাছি হবে বলেও জানান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।
সূত্র জানায়, বর্তমান দশম সংসদের প্রথম অধিবেশন হয়েছিল ২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি। সে হিসাবে বর্তমান সরকারের মেয়াদ ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারি শেষ হবে। আর ভোটের ৯০ দিনের ক্ষণগণনা শুরু হবে ৩০ অক্টোবর থেকে। ৩০ অক্টোবর থেকে ২৮ জানুয়ারির মধ্যে সংসদ নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে।
জানা যায়, মন্ত্রিসভার বর্তমান আকার ৫৩ জন। ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি ৪৯ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন করে এ সরকারের যাত্রা শুরু হয়েছিল; যার মধ্যে ২৯ জন মন্ত্রী, ১৭ জন প্রতিমন্ত্রী ও দুইজন উপমন্ত্রী।
সরকারের মেয়াদের শেষ বছরে মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণে তিনজন মন্ত্রী এবং একজন প্রতিমন্ত্রী শপথ নেন। এই চারজনকে নিয়ে মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৩। তাদের মধ্যে ৩৩ জন মন্ত্রী, ১৭ জন প্রতিমন্ত্রী এবং দুইজন উপমন্ত্রী। এছাড়া মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূতের দায়িত্বে আছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে আছেন আরও পাঁচজন।
বর্তমান সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও শরিক দলের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন, বিরোধী দল জাতীয় পার্টি, জাতীয় পার্টি-জেপি ও বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ)। তরিকত ফেডারেশন ও বিএনএফ ছাড়া অন্যরা সরকারের মন্ত্রিসভায় রয়েছে।
সূত্র জানায়, ২০১১ সালে সংবিধান সংশোধনের মধ্য দিয়ে বিলুপ্ত হয় তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার। এ বছর ৩০ জুন পাস হয় পঞ্চদশ সংবিধান সংশোধন বিল। এর মধ্য দিয়ে অবসান ঘটে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতির, ফলে দশম সংসদ নির্বাচন হয় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরাকরের অধীনেই। সংবিধান অনুযায়ী, সরকারের মেয়াদের শেষ ৯০ দিনের মধ্যে সাধারণ নির্বাচন হবে। ওই সময়ে সরকার থাকলেও তারা কেবল রুটিন কাজ চালিয়ে নেবে। 
সংবিধানে ভোটের সময় ও অধিবেশন : ‘নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময়’ এর বিষয়ে সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদের দফা ৩ এ (সংসদ সদস্যদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে) বলা হয়েছেÑ “(ক) মেয়াদ-অবসানের কারণে সংসদ ভাংগিয়া যাইবার ক্ষেত্রে ভাংগিয়া যাইবার পূর্ববর্তী নব্বই দিনের মধ্যে; এবং (খ) মেয়াদ-অবসান ব্যতীত অন্য কোন কারণে সংসদ ভাংগিয়া যাইবার ক্ষেত্রে ভাংগিয়া যাইবার পরবর্তী নব্বই দিনের মধ্যে: তবে শর্ত থাকে যে, এই দফার (ক) উপ-দফা অনুযায়ী অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত ব্যক্তিগণ, উক্ত উপ-দফায় উল্লিখিত মেয়াদ সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত, সংসদ সদস্যরূপে কার্যভার গ্রহণ করিবেন না।”
নির্ধারিত ৯০ দিনে সংসদের অধিবেশনের বাধ্যবাধকতাও নেই : “সংসদের অধিবেশন’ বিষয়ে সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের দফা ১ এ বলা হয়েছেÑ ১২৩ অনুচ্ছেদের (৩) দফার (ক) উপ-দফায় উল্লিখিত নব্বই দিন সময় ব্যতীত অন্য সময়ে যে, সংসদের এক অধিবেশনের সমাপ্তি ও পরবর্তী অধিবেশনের প্রথম বৈঠকের মধ্যে ষাট দিনের অতিরিক্ত বিরতি থাকিবে না: তবে আরও শর্ত থাকে যে, এই দফার অধীন তাঁহার দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক লিখিতভাবে প্রদত্ত পরামর্শ অনুযায়ী কার্য করিবেন।” এসব বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক নির্বাচন কমিশনার ছহুল হোসাইন বলেন, সংসদ নির্বাচনের অনেক নিকটে চলে এসেছে। আমি মনে করি, কমিশনের চূড়ান্তভাবে প্রস্তুতি থাকা উচিত। কারণ অক্টোবরের পর যে কোনো সময় নির্বাচন করতে হবে এ কমিশনকে। আর কমিশনের দিকে চেয়ে আছে দেশ। তাছাড়া আগের কমিশনের চেয়ে এই কমিশনের প্রতি প্রত্যাশাটা বেশি থাকবে সবার। তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়ে আমি কিছু বলতে চাই না। এটি সরকার এবং রাজনৈতিক দলের বিষয়।