আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২০-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

বিকল্প আশ্রয়ের খোঁজে ৩০০ পরিবার

তিস্তায় ভাঙন

আবদুর রহমান মিন্টু, রংপুর
| দেশ

তিস্তার ভাঙনে বিলীন গঙ্গাচড়ার শঙ্করদহতিস্তর চরশঙ্করদহের অফিজ মিয়া। জায়গা-জমি ঘরবাড়ি সবই ছিল। কিন্তু চার থেকে পাঁচ বছরে জায়গা জমি, ঘরবাড়ি সবই গেছে রাক্ষুসী তিস্তার পেটে। বর্তমানে তিনি লালমনিরহাট জেলার কাকিনায় অন্যের জমিতে বসবাস করছেন। একই গ্রামের মোক্তার আলী। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে তিনিও এখন নিঃস্ব। গত চার থেকে পাঁচ বছরে কয়েক দফা বন্যায় তিস্তার ভাঙনে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের শঙ্করদহ গ্রামটি বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। তিস্তার ভাঙনে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, আশ্রয়ণ, পুকুরসহ ৩০০ পরিবারের বাড়িঘর তিস্তায় বিলীন হয়েছে। সরেজমিন শঙ্করদহ গ্রামে গিয়ে জানা যায়, নতুনভাবে নির্মিত শঙ্করদহ আদর্শগ্রামে যাওয়ার একমাত্র রাস্তাটি বন্যায় ভেঙে গেছে। এরই মধ্যে এলাকার একমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শঙ্করদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। প্রবল বন্যার কারণে লোকজন ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির কিছুই রক্ষা করতে পারেনি। শঙ্করদহ আশ্রয়ণ কেন্দ্রটিসহ পুকুর ও মসজিদটি আর নেই। সবমিলে বিধ্বস্ত শংকরদহ গ্রাম। গঙ্গাচড়ার মহিপুরে লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদ থেকে দ্বিতীয় তিস্তা সেতু পেরিয়ে প্রায় দুই কিলোমিটার পশ্চিম দিকে দুর্গম চরশঙ্করদহ। ওই চরে যাওয়ার পথে দেখা যায়, বন্যার পানি কমে গেলেও সেখানে সহজে যাওয়ার কোনো পথ নেই। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শঙ্করদহ আশ্রয়ণ কেন্দ্রে থাকতো ৩০টি পরিবার। আশ্রয়ণ কেন্দ্রটি ভেঙে যাওয়ার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করছেন। অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, ওই গ্রামের ফজলু, নুরজামাল, স্বপন, হাফিজার থাকে নদীর ধামুর এলাকার বাঁধের পাড়ে। জলিল থাকে চেংডোবা, দেলদার থাকে গান্নারপাড়ে। এ রকমভাবে ভাঙনকবলিত পরিবারগুলো উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে অবস্থান করছেন। এলাকার ইউপি সদস্য আবদুল মোন্নাফসহ লোকজন জানান, শঙ্করদহ গ্রামে প্রায় ৪০০ পরিবারের বাস ছিল। এবারের বন্যাসহ তিস্তার ভাঙনের কারণে ৩০০ পরিবারই এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। লক্ষ্মীটারী ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল হাদী বলেন, তিস্তার ভাঙনে স্কুল, মসজিদ ও আশ্রয়ণ কেন্দ্র কিছুই নেই। শঙ্করদহ এলাকাটি এখন বিরানভূমি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান বলেন এখন বর্ষা মৌসুম।  শুষ্ক মৌসুমে প্রকল্প গ্রহণ করে শঙ্করদহ বাঁধ নির্মাণ করা হবে।