আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২০-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

সড়কে থামছেই না অবৈধ যানবাহনের দাপট

অহরহ ঘটছে প্রাণহানি

আলোকিত ডেস্ক
| দেশ

সরকারি নির্দেশনা তোয়াক্কা না করে সড়ক-মহাসড়কে বেপরোয়াভাবে চলছে অবৈধ যানবাহন। কড়া নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও মহাসড়কে তিন চাকার অবৈধ বাহনের (থ্রি-হুইলার) দাপট বন্ধ হয়নি। মহাসড়কে রিকশাভ্যান, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, নসিমন-করিমনসহ তিন চাকার সব ধরনের যানবাহন চলাচলে আছে সরকারি নিষেধাজ্ঞা। এসবের কোনো তোয়াক্কাই নেই কক্সবাজার ও টাঙ্গাইলের বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কে। অভিযোগ উঠেছে, একশ্রেণির অসাধু ট্রাফিক পুলিশের টোকেনে চলছে এসব যানবাহন। এতে অহরহ ঘটছে প্রাণহানির ঘটনা। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর
টাঙ্গাইল : সরকারের কড়া নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধু সেতু-ঢাকা মহাসড়কে তিন চাকার বাহনের দাপট বন্ধ হয়নি। এছাড়া ট্রাফিক পুলিশের টোকেন নিয়েও মহাসড়কে চলছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা। আগে চালকদের হাতে পুলিশের টোকেন থাকতো আর এখন অটোরিকশাতেই লাগানো থাকে একটি স্টিকার। সরেজমিন দেখা গেছে, বঙ্গবন্ধু সেতু-ঢাকা মহাসড়কে এলেঙ্গা থেকে টাঙ্গাইল, বঙ্গবন্ধু সেতু, ভূঞাপুর, ঘাটাইল, টাঙ্গাইল শহর থেকে এলেঙ্গা, কালিহাতী, ভূঞাপুর, করটিয়া, তারটিয়া, বাসাইল, জামুর্কী-পাকুল্যা, মির্জাপুর থেকে গোড়াই শিল্পাঞ্চল, দেওহাটা, হাঁটুভাঙ্গা বিভিন্ন এলাকায় দিন-রাত সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা-ভ্যান-ভটভটি ও নসিমন-করিমন চলাচল করছে। কখনও কখনও ট্রাফিক ও হাইওয়ে পুলিশের তৎপরতায় থ্রি-হুইলারের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণে থাকলেও অধিকাংশ সময়ই চলাচল থাকছে অবাধ। বিশেষ করে ভোর থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত এবং রাত ৮টার পর থেকে বিনাবাধায় থ্রি-হুইলার বা কম গতির বাহন যাত্রী নিয়ে মহাসড়কে চলাচল করছে। টাঙ্গাইল বিআরটিএ’র (বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথোরিটি) হিসাব মতে, জেলায় নিবন্ধিত সিএনজিচালিত অটোরিকশা রয়েছে প্রায় চার হাজার। অথচ সংশ্লিষ্টদের মতে, এ সংখ্যা ন্যূনতম ২৫ হাজার। টাঙ্গাইল পৌরসভার তালিকানুযায়ী, দুই শিফটে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা রয়েছে মোট ৩ হাজার। অথচ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা দেখা যায় যত্রতত্র। এর সংখ্যা ন্যূনতম ১০ হাজার বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। এসব ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাও মাঝে মাঝে মহাসড়কে ওঠে পড়ছে।
টাঙ্গাইল নতুন বাসস্ট্যান্ড থেকে এলেঙ্গাগামী সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক মজনু মিয়া, আবদুল হালিম, রাশেদুর রহমানসহ অনেকেই জানান, মহাসড়কের পাশ দিয়ে বা বাইপাস দিয়ে পৃথক কোনো সড়ক নেই। যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দিতে না পারলে তাদের পরিবারের খাওয়া-দাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে। তাই ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়কে ওঠতে হয়। মাঝে মাঝে পুলিশ অটোরিকশা আটকালে টাকা দিয়ে রফা করতে হয়। কখনও অটোরিকশা থানায় নিলে ফিরিয়ে আনতে ন্যূনতম ৮ হাজার টাকা লাগে, তাই সড়কেই পুলিশের সঙ্গে রফা করা ভালো বলে মনে করেন তারা। টাঙ্গাইল ট্রাফিক বিভাগের ইন্সপেক্টর রফিকুল ইসলাম, গোড়াই হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ একেএম কাউছার ও হাইওয়ে পুলিশের এলেঙ্গা ফাঁড়ির এসআই রেজাউল জানান, মহাসড়কে কোনো প্রকার থ্রি-হুইলার বা তিন চাকার ধীরগতির বাহন চলাচল করতে দেয়া হচ্ছে না। ভাত খেলে ভাত পড়েÑ এর মতো দুই-একটা থ্রি-হুইলার সড়কে গিয়ে থাকতে পারে। তবে হাইওয়ে ও ট্রাফিক পুলিশ দিন-রাত মহাসড়কে দায়িত্ব পালন করছে, মহাসড়কে নির্বিঘœ যান চলাচল অব্যাহত রাখতে তারা বদ্ধ পরিকর।
কক্সবাজার : কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কে রিকশাভ্যান, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, নসিমন-করিমনসহ তিন চাকার সব ধরনের যানবাহন চলাচলে আছে সরকারি নিষেধাজ্ঞা। এসবের কোনো তোয়াক্কাই নেই কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের লিংক রোড থেকে চকরিয়া পর্যন্ত। মহাসড়কে এখনও ঝুঁকি নিয়ে চলছে তিন চাকার এসব যানবাহন। এতে প্রাণহানির ঘটনা অহরহ ঘটছে। সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে সেতু ও সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশে ২০১৫ সালের ১ আগস্ট থেকে মহাসড়ক ও আঞ্চলিক মহাসড়কে সব ধরনের তিন চাকার যানবাহন চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এরপর থেকে হাইওয়ে থানা, ট্রাফিক পুলিশ এমনকি সংশ্লিষ্ট এলাকার থানা পুলিশ নড়েচড়ে বসেছে। প্রতিনিয়ত মহাসড়কে চলে অভিযান। এতে তিন চাকার সিএনজি ট্যাক্সির মালিক ও চালকরা বিপাকে পড়ে যায়। তখন মহাসড়কে এসব পরিবহন চলাচল করা প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু বর্তমানে মহাসড়কগুলো তিন চাকার স্থানীয় যান ইজিবাইক (টমটম) ও নসিমনের দখলে চলে গেছে।
কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের লিংকরোড থেকে চকরিয়া পর্যন্ত তিন চাকার যান অবাধে চলাচল করছে। এরই মধ্যে ইজিবাইক (টমটম), সিএনজি ট্যাক্সি, রিকশা ও নসিমনের বিচরণ বেশি। মহাসড়কের লিংকরোড থেকে বাংলাবাজার ও খরুলিয়া পর্যন্ত প্রতিনিয়ত চলে তিন চাকার এসব যানবাহন। রামু বাইপাস সড়ক, পানিরছড়া, রশিদনগর, ঈদগাঁও, ডুলাহাজারা, মালুমঘাট ও চকরিয়া পর্যন্ত তিন চাকার যান চলছে মহাসড়কে। জানা যায়, দৈনিক প্রায় ৫ হাজার তিন চাকার যান কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলছে। তিন চাকার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ নসিমন। সেচ পাম্প দিয়ে তৈরি এ নসিমন ডিজেল দিয়ে চলে। এ কারণে ইট, বালু, সিমেন্ট, রড, ছোট-বড় গাছের গুঁড়িসহ বিভিন্ন মালামাল স্বল্প মূল্যে পরিবহন করা যায়। তাছাড়া এ বাহনটি আকারে ছোট হওয়ায় সব জায়গায় বিচরণ করতে পারে। ফলে অবৈধ এ বাহন খুব দাপট নিয়ে চলছে মহাসড়কে। খরুলিয়া এলাকার ইজিবাইক (টমটম) চালক নবী হোসেন বলেন, মহাসড়কে তিন চাকার গাড়ি না চালানোর ওপর নির্দেশ আছে জানি। তারপরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সংসার চালাতে মহাসড়কে উঠতে হচ্ছে। কারণ অলিগলিতে যাত্রী কম পাওয়া যায়। মহাসড়কে অনেকেরই আগ্রহ থাকে টমটম নিয়ে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে। সিএনজি ট্যাক্সিচালক হোসেন আহমদ বলেন, বিকল্প রাস্তার ব্যবস্থা না থাকায় অনেক সময় মহাসড়ক ব্যবহার করতে হয়। রামু তুলাবাগান হাইওয়ে থানার ওসি মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, মহাসড়কে তিন চাকার যান নিয়ন্ত্রণে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রতিনিয়ত টমটম, সিএনজি ট্যাক্সি ও নসিমন জব্দ করা হচ্ছে। কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কস্থ চকরিয়া মালুমঘাট হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আলমগীর হোসেন বলেন, আমার নিয়ন্ত্রণে থাকা মহাসড়কে বলতে গেলে তিন চাকার যান চলে না। নিয়মিত অভিযানের কারণে কমে গেছে। ১০ দিনে ৫০টির অধিক তিন চাকার যান জব্দ করেছি।