আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২১-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

ভূমিকম্পে কম্পিত দেশ

বিশ্বজিত রায়
| সম্পাদকীয়

নিকট অতীতে নেপাল ও ইটালির লন্ডভন্ড কম্পন পরিস্থিতি সেখানে কান্না ও আর্তনাদের জন্ম দিয়ে দেখিয়ে দিল এর তীব্রতা কতটা কঠিন। অকালে ঝরে গেছে অসংখ্য মানুষের জীবনপ্রদীপ। ক্ষতযন্ত্রণা নিয়ে এখনও কাতরাচ্ছে দুর্ঘটনাকবলিত জায়গা। যদি ইটালির মতো একটি উন্নত দেশের ভূকম্পন-পরবর্তী প্রায় ৩০০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়, তাহলে বাংলাদেশের অবস্থা কতখানি প্রকট আকার ধারণ করবে, তা বুঝিয়ে বলার প্রয়োজন নেই। তাই সময় এখন সাবধান হওয়ার

 

ওই ভূমিকম্প! ভূমিকম্প! তখন সকাল প্রায় ১১টা। আচমকা দুলতে থাকে কর্মস্থলে বসা চেয়ারটি। ভেবে উঠতে পারছিলাম না, আসলে ভূমিকম্প না শারীরিক দুর্বলতাজনিত অস্বাভাবিক কিছু তাড়া করছিল। না, অল্পক্ষণের মধ্যেই টের পেলাম ভূকম্পন অনুভূত হচ্ছে। সুনামগঞ্জের অদূরে গ্রাম্য একটি বাজারে অবস্থান করায় ভূমিকম্পের আতঙ্ক তেমনটা চোখে পড়েনি। কারণ গ্রামের মানুষ এমনিতেই একটু দুর্যোগপ্রবণ। তারা অল্পতে ঘাবড়ে যেতে রাজি নয়। এক্ষেত্রে শহুরে মানুষগুলো একেবারে আলাদা। কর্মখাতিরে দীর্ঘদিন শহরে থাকার সুবাদে দেখেছি ভূকম্পন হলে শহুরে মানুষগুলো কীভাবে আতঙ্কিত হয়ে দিগি¦দিক ছোটাছুটি করতে থাকে। বহুতল ভবনে অবস্থান করা ওই মানুষগুলো তাড়াহুড়ো করে নিচে নামতে গিয়ে কেউ কেউ গুরুতর আহতও হন। আবার আতঙ্কে হার্টঅ্যাটাক করে মৃত্যুর ঘটনাও শোনা যায়। কিন্তু সে ক্ষেত্রে গ্রামাঞ্চল বেশ ব্যতিক্রম। সেখানে ভূমিকম্প অনুভূত হলেও যেন তারা কর্মস্থলে নিশ্চল।
ভূকম্পন ঝাঁকুনিতে কিছুটা বিচলিত হয়ে চেয়ার থেকে উঠে উঁকি মেরে দেখলাম সবাই কর্মব্যস্ত। পাশের দোকানে জিজ্ঞেস করলামÑ কীরে ভূমিকম্প টের পাসনি? বললÑ হ্যাঁ, পাইছি পাইছি। তবে সেটা তেমন উদ্বেগজনক ছিল না। মার্কেটের অন্যপ্রান্তে বসা পঞ্চাশোর্ধ্ব দুজনকে বললাম, ভূমিকম্প হচ্ছে তো! তারা কোনো কথা বলছেন না, বসে বসেই মুখে বিড়বিড় করে যেন উপরওয়ালার নাম জপ করছেন। কিন্তু কারও মধ্যে উৎকণ্ঠিত ভাব লক্ষ করা যায়নি। শহর ও গ্রামের ভূকম্পন অনুভূত সময়ের পার্থক্য খুঁজতে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের চেয়ে শহরের মানুষ বেশি ভূকম্পন ভীতু। কারণ সেখানে ঝুঁকিটা অনেক বেশি। সুরম্য অট্টালিকায় বসবাস করা শহুরে মানুষগুলো মারাত্মক ঝুঁকি নিয়েই জীবনযাপন করছেন। তাই তাদের মধ্যে আতঙ্কটা একটু বেশিই কাজ করে। ভূতাত্ত্বিক গবেষণায় গ্রামের চেয়ে শহরগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। অধিক মাত্রার ভূমিকম্প হলে লন্ডভন্ড হয়ে যাবে শহরের বেশিরভাগ বাড়িঘরÑ এমনটাই জানিয়েছেন ভূবিদরা। যদি কখনও ৭ মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়, তখন কী হবেÑ সেটা ভেবে দেখতে হবে। সে ক্ষেত্রে বহুতল ভবন নির্মাণে সরকারকে কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে হবে।
আবারও ভূমিকম্প নাড়া দিয়ে গেল। ১২ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। কম্পনটি কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী ছিল। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ভারতের আসামে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫.৪। এ সময় বহুতল ভবনে মানুষ বেশ দুলনি অনুভব করে। এটা সাম্প্রতিক সময়ের দ্বিতীয় ভূমিকম্প। এর আগে ৯ সেপ্টেম্বর ৩.৮ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়। ভূমিকম্পের ঘনমাত্রা নিশ্চয়ই চিন্তনীয় ব্যাপার। ২০১৭ কিংবা চলতি বছর ভূকম্পনের মাত্রা তেমনটা না থাকলেও ২০১৬ সালের শুরুটাই ছিল ভূমিকম্প উৎকণ্ঠতায়। ৪ জানুয়ারি ভোরে ঘুমাচ্ছন্ন মানুষকে জাগিয়ে দেয় ৬ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প! তখন প্রাণ যায় ছয়জনের। পরবর্তীটা ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টা ৫৫ মিনিটে ৬ দশমিক ৯ মাত্রা, ২৩ আগস্ট সকালে ৫ দশমিক ৩ মাত্রা এবং পরদিন ২৪ আগস্ট সারা দেশে ৬ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। জানা যায়, এ বছরটিতে ৮ মাসে সারা দেশে এমন ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে ১৪ বার। ২০১৫ সালে ৩০ বারেরও বেশি। গেল ১৫ বছরে সাড়ে ৫০০ বারের বেশি ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে বাংলাদেশে। ঘন ঘন এমন ভূকম্পনে ভূতত্ত্ববিদ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা এরই মধ্যে সতর্ক করে বলেছেন, দেশের অভ্যন্তরে কিংবা কাছাকাছি কোনো উৎপত্তিস্থল থেকে মাঝারি, মাঝারি-উঁচু কিংবা তীব্র মাত্রায় ভূমিকম্প আঘাত হানার আশঙ্কা জোরালো হয়ে উঠছে। যদি তাই ঘটে, সে ক্ষেত্রে রাজধানী ঢাকা, বন্দরনগরী চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, উত্তরাঞ্চলসহ দেশের বিরাট অংশজুড়ে ত্রুটিপূর্ণ ও অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত হাজার হাজার ভবন ভূমিসাৎ হয়ে যেতে পারে। এতে মৃত্যুর মিছিল ও সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা হবে অকল্পনীয়।
২০০৯ সালে ঢাকা সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ভবনগুলো নিয়ে চালানো জরিপে দেখা যায়, যদি ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প হয়, তাহলে ৩ লাখ ২৬ হাজার ভবনের মধ্যে ৭২ হাজার ভবন তাৎক্ষণিক ধসে পড়বে। একেবারে অক্ষত থাকবে খুব কমসংখ্যক ভবন। এছাড়া গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির লাইনে বিস্ফোরণ ঘটে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। আমেরিকার কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আর্থ-অবজারভেটরির যৌথ গবেষণায় বলা হয়, ভারতীয়, ইউরেশীয় এবং বার্মার গতিশীল ভূপাটাতনের (টেকটোনিক প্লেট) সংযোগস্থলে বাংলাদেশের অবস্থান। এখানে বাংলাদেশ অঞ্চলে দু-দিক থেকেই শক্তিশালী ভূমিকম্পের উপযোগী শক্তি ভূস্তরে অনবরত জমা হয়েছে। এতে দুটি বড় ধরনের ভূমিকম্পের আশঙ্কার মধ্যেই রয়েছে বাংলাদেশ। এর মাত্রা হতে পারে রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ৫ থেকে ৮ পর্যন্ত। তা ছাড়া বাংলাদেশের ভেতরে ও কিনারের দিকে ১৩টি ভূ-ফাটল (ফল্ট) লাইন রয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভূমিকম্প জোন বা বলয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। (সূত্র : বা. প্র. ২৫.০৮.১৬)।
কখন যে কোন বিভীষিকাময় মুহূর্তের অবতারণা হবে, তা কেউ বলতে পারে না। অধিক মাত্রার ভূকম্পন যদি ধেয়ে আসে বাংলাদেশের ওপর, তাহলে মানবিক বিপর্যয়ের চরম পরিণতি বরণ করতে হবে বাংলাদেশকে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াল এ থাবা থেকে বাঁচতে প্রয়োজন যথেষ্ট প্রস্তুতির। সামাজিক সচেতনতার পাশাপাশি সরকারকে দুর্যোগ মোকাবিলায় ব্যাপক প্রস্তুতির দিকে অগ্রসর হতে হবে। ভূমিকম্প চলাকালীন মানুষকে কী ধরনের সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে সে সম্পর্কে সম্যক ধারণাসহ আতঙ্কিত না হয়ে বরং নিজেদের সংযত রাখার সময়োপযোগী পরামর্শ তুলে ধরতে হবে।
বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও ভারতে ৯ মাত্রার ভূমিকম্পের আশঙ্কা করছেন গবেষকরা। তবে এ আঘাত কখন আসতে পারে, সে ব্যাপারে সঠিক ধারণা দিতে পারছেন না কেউ। বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন, পৃথিবীর বৃহত্তম বদ্বীপটির নিচে যে দুটি টেকটোনিক প্লেট আছে এবং টেকটোনিক প্লেট দুটির মাঝে যে ফল্ট লাইন আছে, তা থেকে তৈরি হওয়া ভূমিকম্পের ফলে ব্যাপক বন্যা ও নদীর গতিপথও পরিবর্তিত হয়ে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, যেহেতু বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও ভারতের এ অঞ্চলে ৪০০ বছর ধরে শক্তি সঞ্চয় হচ্ছে, ফলে তা যে-কোনো সময় রিখটার স্কেলে ৯ মাত্রার মতো শক্তিশালী একটি ভূমিকম্প তৈরি করতে পারে। গবেষক দলের প্রধান নিউইয়র্কের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ববিদ মাইকেল স্টেকলার টমসন বলেন, ওই ধরনের ভূমিকম্প কবে ঘটতে পারে, সে পূর্বাভাস আরও গবেষণা না করে দেওয়া সম্ভব নয়। তবে এতে মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। কবে আসবে সেটা নিশ্চিত বলা না গেলেও ভূমিকম্প যে আসছে সেটা নিশ্চিত। ২০০৪ সালে যে ফল্ট লাইন তৈরি হয়েছিল, তার ফলে সৃষ্ট সুনামিতে ২ লাখ ৩০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। সেই একই ফল্ট লাইনে নতুন এ ভূমিকম্পের আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা। (সূত্র : জনকণ্ঠ, ২৫.০৮.১৬)।
ভূমিকম্প একটি প্রকৃতিগত দুর্যোগ। এতে কারও কোনো হাত নেই। যে-কোনো সময় যে-কোনো পরিস্থিতিতে প্রবল পরাক্রমশালী রূপে অশান্ত হয়ে উঠতে পারে প্রাকৃতিক দৃশ্যপট। পৃথিবীর যে-কোনো প্রান্তে বয়ে যেতে পারে প্রকৃতির এ অশুভ আচরণ। যে বৈরিতা বাসযোগ্য ভূখ-কে লন্ডভন্ড করে প্রাণ হরণের মতো মারাত্মক প্রতিঘাত সৃষ্টিতে ভয়াবহ ভূমিকা রাখবে। প্রকৃতি আগ্রাসনে জননিরাপত্তা যেমন বিঘিœত হয়, তেমনি তার আশীর্বাদে বসুন্ধরা ফিরে পায় প্রাণচাঞ্চল্য সুজলা-সুফলা, শস্যশ্যামলা রেশ। এটা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই যেÑ প্রকৃতিই আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছে, গড়েছে বাসযোগ্য নিরাপদ পৃথিবী। আর প্রকৃতি অসংযত হওয়ার অন্যতম অন্তরায় মানুষ। আমরা আমাদের নিজস্ব স্বার্থে প্রকৃতিবিরোধী সব অপকর্ম বেশ জোরোশোরে পরিচালনা করছি। বৃক্ষনিধন, বনজঙ্গল উজাড়, নদীনালা ভরাট, পাহাড়-টিলা কর্তন, যত্রতত্র স্থাপনা নির্মাণ এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়ির উচ্ছিষ্ট বর্জ্য নিঃসরণসহ নানা কারণে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব প্রকৃতিকে বৈরিতার পথ বাতলে দিচ্ছে। শুধু বাংলাদেশেই নয়, পৃথিবীব্যাপী চলছে পরিবেশ দূষণের বিকৃত মহড়া। তবে বাংলাদেশের মানুষ এক্ষেত্রে একটু বেশি পারদর্শী। পৃথিবী আঁকড়ে ধরা মানুষ যদি পরিবেশ বিপর্যয়ের অযাচিত আক্রমণ থেকে বেরিয়ে না আসে, তাহলে দিন দিন বাড়তে থাকবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের অশনি তৎপরতা। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে প্রকৃতির প্রতি সদয় হতে হবে আমাদের। প্রতিটি মানুষকে প্রকৃতিবন্ধু হিসেবে গড়ে তুলতে হবে নিজেদের। কারণ ভূমিকম্পের মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ।
ভূকম্পন এমন একটি দুর্যোগ কাউকে নড়াচড়ার সুযোগ দিতে রাজি নয় সে। বন্যা-খরা, ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাস, বজ্রবৃষ্টি এগুলো আগাম সতর্কবার্তা দিলেও ভূমিকম্পের কাছে সে সুযোগ নেই। অকস্মাৎ নাড়িয়ে ক্ষতচিহ্ন রেখে যায় সর্বত্র। বিশেষ করে শহুরে মানুষের জন্য ভূমিকম্প একটি সাংঘাতিক দুর্যোগ হিসেবে পরিগণিত। অপরিকল্পিত নগরায়ণে বসবাস করা নগরবাসী সর্বদা ভোগেন সেই আতঙ্কে। সহসা তেড়ে আসা এ কম্পন থেকে নিরাপদ নয় কোনো শহর। যদি সাড়ে ৮-৯ মাত্রার কম্পন অনুভূত হয় এ দেশে, তাহলে মৃত্যুপুরীতে পরিণত হবে বাংলাদেশ। এ মহামারি বিপর্যয় থেকে মুক্তি পেতে হলে যতটুকু সম্ভব কম্পন সহনশীল নগরী গড়ে তোলা খুবই দরকার। ঝুঁকিপূর্ণ যত স্থাপনা আছে সময় থাকতে সবগুলোকে সিলগালা করে নিরাপত্তার বিষয়টি সুনিশ্চিত করতে হবে। মনে রাখা প্রয়োজন, ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় ইট-সিমেন্টে তৈরি বড় বড় অট্টালিকা। এমন অসংখ্য স্থাপনার মধ্যে অনুপযোগী বিল্ডিং অপসারণে যদি সরকার আন্তরিক না হয়, তাহলে প্রলয়ংকরী তা-ব ব্যাপক আকারে ঘটাবে জনমৃত্যু। তখন শোক প্রকাশ ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল কর্তাব্যক্তিদের কাছে।
ঘন ঘন ভূমিকম্প কিংবা বিশেষজ্ঞ মহল বারবার জানিয়ে দিচ্ছে, যে-কোনো সময় বড় আকারে আঘাত আনতে পারে এ দুর্যোগ। যে তা-বে ধ্বংসলীলায় পরিণত হবে চারপাশ। নিকট অতীতে নেপাল ও ইটালির লন্ডভন্ড কম্পন পরিস্থিতি সেখানে কান্না ও আর্তনাদের জন্ম দিয়ে দেখিয়ে দিল এর তীব্রতা কতটা কঠিন। অকালে ঝরে গেছে অসংখ্য মানুষের জীবনপ্রদীপ। ক্ষতযন্ত্রণা নিয়ে এখনও কাতরাচ্ছে দুর্ঘটনাকবলিত জায়গা। যদি ইটালির মতো একটি উন্নত দেশের ভূকম্পন-পরবর্তী প্রায় ৩০০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়, তাহলে বাংলাদেশের অবস্থা কতখানি প্রকট আকার ধারণ করবে, তা বুঝিয়ে বলার প্রয়োজন নেই। তাই সময় এখন সাবধান হওয়ার। সরকারকে যেমন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিধানে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণে আগ্রহী হতে হবে, তেমনি জনগণকে প্রকৃতির প্রতি জোরজবরদস্তি চালানো থেকে বিরত থাকতে হবে। আসুন আমরা নিজেরা সতর্ক হই এবং সবাই মিলে গড়ে তুলি ভাবনাহীন এক সুন্দর বাসযোগ্য পৃথিবী। 

 বিশ্বজিত রায়
কলামিস্ট
[email protected]