আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২১-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

মাছুম বিল্লাহ

উচ্চশিক্ষা কমিশন গঠনের মাধ্যমে কাক্সিক্ষত পরিবর্তন আসবে তো?

| সম্পাদকীয়

উচ্চশিক্ষার গুণগত পরিবর্তন, মানোন্নয়ন, গবেষণার বিস্তৃতি ও প্রচলিত গবেষণাকর্মের উন্নয়ন এবং সর্বোপরি আন্তর্জাতিক পরিম-লে আমাদের উচ্চশিক্ষাকে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে নতুন কিছু পদক্ষেপ অবশ্যই নিতে হবে। প্রচলিত পদ্ধতিতে উচ্চশিক্ষা যেন থিতিয়ে পড়েছে 

 

আমাদের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোয় অব্যাহত জঞ্জাল সৃষ্টি করা হচ্ছে আর পিছিয়ে পড়ছে শিক্ষা ও গবেষণা। এরই মাঝে একটি সুখবর শোনা যাচ্ছে। সেটি হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নাম পরিবর্তন করে উচ্চশিক্ষা কমিশন করার প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। বিষয়টি এরই মধ্যে সচিব কমিটির অনুমোদন পেয়েছে। সম্ভবত জাতীয় সংসদে বিষয়টি পাস হওয়ার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া যাবে। উচ্চশিক্ষার গুণগত পরিবর্তন, মানোন্নয়ন, গবেষণার বিস্তৃতি ও প্রচলিত গবেষণাকর্মের উন্নয়ন এবং সর্বোপরি আন্তর্জাতিক পরিম-লে আমাদের উচ্চশিক্ষাকে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে নতুন কিছু পদক্ষেপ অবশ্যই নিতে হবে। প্রচলিত পদ্ধতিতে উচ্চশিক্ষা যেন থিতিয়ে পড়েছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, গবেষণা ও জ্ঞানার্জনের স্থলে চলছে অস্ত্রবাজি, টেন্ডারাজি, হল দখল, মিটিং, মিছিল আর রাতে নিরীহ শিক্ষার্থীদের ঘুম থেকে জাগিয়ে মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করানো ও ভীতি প্রদর্শন করা। আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় এগুলো হঠাৎ কোনো ঘটনা নয়, এগুলো চলছে দীর্ঘদিন ধরে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর যেন নতুন করে বিষয়গুলো আরও গতি পায়। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় মানেই যেন এই বিষয়গুলো মুখ্য আর পড়াশোনা ও পরীক্ষা গৌণ ব্যাপার, আর গবেষণা সে তো বিরল কোনো বিষয়। শিক্ষকদের রাজনীতিতে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ গবেষণাকর্মকে স্যালুট জানিয়েছে অনেক আগেই। আর তাই বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে ২০০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় নেই। অত্যন্ত দুঃখের বিষয়! কিন্তু এ দুঃখটা করবে কে? শিক্ষার্থীরা, শিক্ষকরা, নাকি বিশ্ববিদ্যালয় অথরিটি, শিক্ষা মন্ত্রণালয় না পুরো দেশ? মূলত সবাই। কিন্তু আমরা কি কোনো ধরনের দুঃখ প্রকাশ কারুর কাছ থেকে দেখেছি? দেখিনি। এত গেল রাষ্ট্র পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থা। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কী অবস্থা? কয়েক মাস আগে দেশের ৭০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকা- পর্যবেক্ষণ ও তদন্ত করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছিল। সেখানে দেখা গেছে, ২৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে সনদ বাণিজ্য, ভর্তি বাণিজ্য, অর্থ আত্মসাৎ, মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্ব, কর ফাঁকি এবং জঙ্গিবাদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। মান নির্ণয়ের কথা চিন্তা না করে এতগুলো (১০৩) প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়ার মানে কী? এটির পেছনেও নিশ্চয়ই কোনো উদ্দেশ্য আছে। সেটি কাদের অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে, তা দেখলেই বোঝা যায়। কিছু কিছু প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থা কোচিং সেন্টারের মতো হয়েছে। এগুলোর কোনো প্রয়োজন আছে কি? যদি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় দেশে প্রয়োজনই হয়, তাহলে নর্থসাউথ, আইইউবি, ব্র্যাক, ইস্টওয়েস্ট, সাউথইস্ট ইত্যাদি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো কয়েকটি ছোট বিশ্ববিদ্যালয় মিলে একেকটি ভালো মানের বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা যেতে পারে। 
জানা যায়, ২০১৭ সালের ১৩ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ১৪৮তম সভায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়নের ক্ষেত্রে একটি নীতিমালার খসড়া চূড়ান্ত করা হয়। এর ব্যাকগ্রাউন্ড হচ্ছে জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বেতনকাঠামো নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়। ফলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে মঞ্জুরি কমিশন দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি অভিন্ন নীতিমালা গঠনের লক্ষ্যে ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। ওই কমিটি একটি খসড়া প্রস্তাব তৈরি করে। আমরা জানি, ছয়টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম দেখভাল করার জন্য ১৯৭০-এর দশকে ইউজিসি গঠন করা হয়েছিল। দেশে বর্তমানে ৪১টি সরকারি ও ১০৩টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এগুলো দেখভাল করা কার্যত ইউজিসির পক্ষে প্রায় অসম্ভব। জনবল স্বল্পতা, আর্থিক অসংগতি এবং আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে ইউজিসির কর্মকা- খুব একটা কার্যকরী নয়। জানা যায়, বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে ২০১৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন তার নাম পরিবর্তন করে এবং প্রশাসনিক সক্ষমতা বাড়িয়ে ‘উচ্চশিক্ষা কমিশন’ গঠনের খসড়া প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছিল। নানা স্তরে পরিবর্তন, পরিমার্জন ও পর্যালোচনার মাধ্যমে সেটিই এখন বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। সচিব কমিটি এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে উচ্চশিক্ষা কমিশনে রূপান্তরের কাজে অনুমোদন দিয়েছে।
বর্তমানে প্রচলিত যে পদ্ধতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয় তাতে স্বচ্ছতার জায়গাটি প্রশ্নের মুখোমুখি অবস্থায় আছে। একজন শিক্ষার্থী একটি বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণি পেলেন বা প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হলেন, তিনি ওই বিভাগের শিক্ষক হবেনÑ এটি মোটামুটি ঠিক ছিল বা এভাবেই চলে আসছিল। কিন্তু এখন যেটি হয়, তা হচ্ছে যিনি প্রথম শ্রেণি পেলেন, তিনি কি শুধুই মেধার জোরে প্রথম শ্রেণি পেয়েছেন নাকি অন্য কোনো বিষয় এর সঙ্গে জড়িত আছে? যেমন শিক্ষকদের সন্তুষ্ট করা, শিক্ষক যে দলের সেই দলের অন্তর্ভুক্ত হওয়া ইত্যাদি বিষয় চলে এসেছে। আবার প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়েও যদি দলের শিক্ষকদের মন গলাতে না পারেন, তাহলে তাকে অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে কিংবা বাইরের কোনো চাকরি খুঁজতে হয় নয়তো বিদেশে পাড়ি জমাতে হয়। একটি বিভাগ যে একজন মেধাবী শিক্ষার্থী তথা ভবিষ্যৎ মেধাবী শিক্ষককে হারালো এ নিয়ে কারুর কোনো চিন্তা বা মাথাব্যথা থাকে না, তাদের আসল উদ্দেশ্য থাকে নিজের দলকে শক্তিশালী করা, দলকে ভারী করা, সেই উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে কি না, তাই তারা বিবেচনা করেন। 
আবার পার্টি বা ব্যক্তিগতভাবে কোনো প্রভাবশালী শিক্ষকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়তে পারলে দেখা যায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম বা মেধাবী কোনো শিক্ষার্থীকে বাদ দিয়ে তার অনেক পরের কোনো শিক্ষার্থীকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে এ বিষয়গুলো যেমন ঠিক নয় আবার কেউ কেউ প্রস্তাব করেছেন যে, প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কলেজ পর্যায়ের (সরকারি ও বেসরকারি) সবক্ষেত্রেই লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়েও তাই করা উচিত। এ বিষয়টির সঙ্গে আমি একমত নই। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক জ্ঞানের আধার, তিনি যে পর্যায়ের শিক্ষকই হোন না কেন (লেকচারার, অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর, অ্যাসোসিয়েট প্রফেসব কিংবা প্রফেসর) তিনি নিজেই একটি প্রতিষ্ঠান। তার জ্ঞান, গবেষণা, জানার পরিধি, পরিচিতি, চরিত্র সবই হতে হবে আলাদা। সেটি দুই ঘণ্টার বা তিন ঘণ্টার লিখিত পরীক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখে দিলে হবে না। তবে এটিও ঠিক যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের শিক্ষার্থীরাই প্রশাসন, পুলিশ, কাস্টমসহ অন্যান্য ক্যাডারের অফিসার হন, দেশকে পরিচালনা করেন, তাদের শিক্ষার্থীরাই মন্ত্রী হন, তাই তাদের দেশের প্রশাসনসহ সবধরনের জ্ঞান থাকতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে দেখেছি সব শিক্ষকের এ বিষয়টি থাকে না, ফলে মেধাবী শিক্ষার্থীরা তাদের পছন্দ করেন না। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের নিজের গবেষণা, নিজের বিষয়ে অগাধ পা-িত্য তো থাকতেই হবে, তারপরও দেশ, জাতি ও বিশ্ব সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা থাকতে হবে। বর্তমানকালের পাবিলক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অনেকের মধ্যেই এগুলোর ঘাটতি রয়ে গেছে। অনেক শিক্ষক রয়েছেন, যারা নিজ বিষয়ের বাইরের খবর রাখেন না। এসব বিষয় মাথায় রেখে ইউজিসিকে এমনভাবে সাজানো হবে, যাতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীর পার্টির চেয়ে প্রকৃত জ্ঞান ও দক্ষতাকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রস্তাবতি উচ্চশিক্ষা কমিশন এ বিষয়ে কতটা কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে পারবে, সে বিষয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে। তা না হলে শুধু নাম পরিবর্তন করে তো আমরা মান আশা করতে পারি না। 
একজন শিক্ষক বলেছেন, পিএইচডি ডিগ্রি ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়া যাবে না। এখানেও প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। বর্তমানকালের পিএইচডি মানে একটি ডিগ্রি নেওয়া, তা যেনতেন প্রকারেই হোক না কেন। পিএইচডি মানে ‘প্রকৃত গবেষণা করার ক্ষমতা অর্জন করা’ বিষয়টি যেন এখন আর নেই। পিএইচডি ছাড়া প্রমোশন দিতে ঝামেলা; তাই একটি সার্টিফিকেট অর্জন করা। তিনি বিভাগে, শিক্ষার্থীদের জন্য, তার বিষয়ে, দেশে এবং বৈশ্বিক পরিম-লে কী অবদান রাখছেন, কীভাবে রাখছেন সেটিই মুখ্য। তিনি একটি সনদ অর্জন করেছেন কি না, সেটি গৌণ ব্যাপার। আপনি গবেষণা করেননি, গবেষণা জানেন না, পদ্ধতি জানেন না, কাট-পেস্ট করে একটি থিসিস জমা দিলেন, কমিটি আপনাকে একটি পিএইচডি ডিগ্রি দিয়ে দিল, আপনি নামের আগে ড. লেখা শুরু করলেন। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। প্রকৃত অর্থেই তাদের বিভাগ, প্রতিষ্ঠান, সমাজ, দেশ ও বৈশ্বিক পরিম-লে অবদান রাখতে হবে, তাদের একটি ডিগ্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। ইদানীং আমরা পত্রপত্রিকায় ভুয়া পিএইচডির হিড়িক দেখতে পাচ্ছি। কারণ প্রমোশনের জন্য, সামাজিক মর্যাদার জন্য এখন অনেকেই এ সার্টিফিকেটটি অর্জন করছেন। এ সার্টিফিকেট অর্জন করা কি সবসময় প্রকৃত জ্ঞান বিতরণের কথা বলে?
দেশে এতগুলো বিশ্ববিদ্যালয় প্রয়োজন কি না, এগুলোর মান কীরকম হবে, মান যে নেমে গেছে, সেটি উত্তরণের উপায় কী ইত্যাদি বিষয় বর্তমানে ইউজিসির পক্ষে পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনের গতিবিধি-প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ ও পরিশীলনের জন্য কার্যকরী কোনো কাঠামো নেই। আইনগত সমস্যা থাকায় ইউজিসি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শুধু অনুরোধ ও সুপারিশ করতে পারে। এর বেশি কিছু করতে পারে না। করতে গেলে স্বায়ত্তশাসনের অজুহাত ওঠে। এসব বিচারে ইউজিসিকে উচ্চশিক্ষা কমিশনে রূপান্তর করা সময়ের দাবি। ইউজিসির কোনো নির্বাহী ক্ষমতা নেই। তবে প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী উচ্চশিক্ষা কমিশনের যেসব ক্ষমতা থাকার প্রস্তাব করা হয়েছে, সেগুলো হচ্ছে কমিশনের সুপারিশ কোনো বিশ্ববিদ্যালয় যুক্তিসংগত সময়ের মধ্যে প্রতিপালন না করলে কমিশন প্রয়োজনে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের যে-কোনো কোর্স বা প্রোগ্রামের অনুমোদন বাতিল বা স্থগিত করাসহ শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ রাখার নির্দেশনা দান করতে পারবে। এমনকি যে-কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুকূলে প্রস্তাবিত বা অনুমোদিত মঞ্জুরি স্থগিত করাসহ অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে। বর্তমানে সাধারণত কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে থাকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সরকার। কমিশন দরিদ্র, মেধাবী ও অর্থিক সাহায্যপ্রার্থীদের বৃত্তি বা শিক্ষাসহায়তা প্রদানের জন্য এক বা একাধিক ট্রাস্ট ফান্ড গঠনসহ, উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে অধিকতর দক্ষতা ও গতিশীলতার প্রয়োজনে সময়ে সময়ে পরামর্শক ও উপদেষ্টা নিয়োগ করতে পারবে। প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, কমিশনে একজন চেয়ারম্যান ও রাষ্ট্রপতি নিয়োগকৃত পাঁচজন পূর্ণকালীন সদস্য থাকবেন। তারা চার বছরের জন্য নিয়োগ পাবেন। এর বাইরে ১২ জন খ-কালীন সদস্য থাকবেন। কমিশন আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন উচ্চশিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে পাঠদান ও মূল্যায়ন পদ্ধতির আধুনিকায়নে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে উদ্বুদ্ধ করতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করবে। 
আমরা যা কিছুই করি না কেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সরাসরি রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তির বলয় থেকে বেরিয়ে আসতেই হবে। আজ সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রেই যে অনাচার, দুর্নীতি, অমানবিকতা দেখতে পাচ্ছি তার অনেক কারণের মধ্যে আমাদের মূল কারণ দেশের ভবিষ্যৎ কর্ণধার ও নেতৃত্বকে অর্থাৎ শিক্ষার্থী সমাজকে প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত করতে না পারা। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যখন রাজনৈতিক খেলায় মেতে ওঠে তখন আমরা কাদের কাছ থেকে প্রকৃত শিক্ষা ও নিরপেক্ষতা আশা করব? দেশের বৃহত্তর স্বার্থে আমাদের সবার উচিত অন্তত এ জায়গাটিকে সবধরনের বিশৃঙ্খলা থেকে মুক্ত রাখা। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে উচ্চশিক্ষা কমিশনে রূপান্তরের মাধ্যমে আমরা কি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে জঞ্জালমুক্ত করে প্রকৃত শিক্ষালয়ে পরিবর্তন করতে পারব? 

মাছুম বিল্লাহ
ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচিতে কর্মরত
ই-মেইল : [email protected]