আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২১-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

বাংলাদেশ ব্যাংক রেমিট্যান্স অ্যাওয়ার্ড পেলেন ৩৭ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান

নিজস্ব প্রতিবেদক
| অর্থ-বাণিজ্য

আজ প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের রোল মডেলÑ তা আপনাদেরই অবদান, আমি তার পক্ষ থেকে তার অনুমতি না নিয়েই আপনাদের অভিনন্দন জানাচ্ছি : অর্থমন্ত্রী

প্রবাসী বাংলাদেশিদের উৎসাহিত এবং অনুপ্রাণিত করতে পঞ্চমবারের মতো বাংলাদেশ ব্যাংক রেমিট্যান্স অ্যাওয়ার্ড-২০১৭ প্রদান করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ বছর পাঁচটি ক্যাটাগরিতে মোট ৩৭ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে রেমিট্যান্স অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। এগুলো হলো ২৯ জন ব্যক্তি, পাঁচ ব্যাংক ও তিনটি প্রবাসী বাংলাদেশি মালিকানাধীন এক্সচেঞ্জ হাউজ। বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ ব্যাংক ট্রেনিং একাডেমিতে বাংলাদেশ ব্যাংক রেমিট্যান্স অ্যাওয়ার্ড-২০১৭ প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কামরুন নাহার আহমেদ ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আহমেদ মুনিরুছ সালেহিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এসএম মনিরুজ্জামান।

প্রবাসীরা যাতে বিনা খরচে দেশে টাকা পাঠাতে পারেন সে ব্যাপারে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, এখন প্রবাসীদের ফি দিয়ে টাকা পাঠাতে হয়। ফি দিয়ে যাতে পাঠাতে না হয় তার একটি প্রস্তাব আমরা বিবেচনা করছি। যারা রেমিট্যান্স পাঠান তাদের একটা কস্ট আছে। তাদের কীভাবে সে খরচ দেওয়া যায় তা নিয়ে কাজ চলছে। আশা ছিল, স্কিমটি কিছু দিনের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে পারব। তবে আমি নিশ্চিত নই যে, এটি করে যেতে পারব কিনা। তবে ভবিষ্যৎ সরকার তা এগিয়ে নেবে। তিনি বলেন, যখন পাকিস্তান ছিল তখনও রেমিট্যান্স আসতো। আনার জন্য কিছু ব্যবস্থা ছিল। বন্ড অ্যান্ড পারচেস ছিল। কিন্তু তখন আসা ওই রেমিট্যান্সের প্রভাব অর্থনীতি ও মুদ্রানীতিতে তেমন ভালো ছিল না। এখনও অনেকেই বলেন, আগের ওই পদ্ধতির কথা। আমি এটার ঘোর বিরোধী। আমি শক্তভাবে এর আপত্তি করি।
প্রবাসীদের উদ্দেশে মুহিত বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের শুধু অভিনন্দন দেওয়ায় ঠিক নয়। অভিনন্দন তাদের প্রাপ্য। তার চেয়ে বড় কথা, তারা অর্থনীতির ভিত মজবুত করছেন। আজ প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের রোল মডেলÑ তা আপনাদেরই অবদান, আমি তার পক্ষ থেকে তার অনুমতি না নিয়েই আপনাদের অভিনন্দন জানাচ্ছি।
গভর্নর ফজলে কবির বলেন, বাংলাদেশের বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য গত অর্থবছরে ১৪ থেকে ২৫ শতাংশ আমদানি বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই তুলনায় বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি বৃদ্ধি পায়নি। এ আমদানি-রপ্তানি ভারসাম্য বজায় রাখতে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি জানান, গত অর্থবছরে প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স সংগ্রহ করেছে; যা আগের অর্থবছরের তুলনায় অনেক গুণ বেশি। বর্তমানে বাংলাদেশের জিডিপি ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ। আমরা আশা করি, আগামী বছর ৮ শতাংশ জিডিপি অর্জনে বিদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। হুন্ডি ব্যবস্থা রুখে দিতে এজেন্ট ব্যাংকিং এবং মোবাইল ব্যাংকিং থেকে সাবধান থাকার পরামর্শ দেন গভর্নর। এছাড়ও সব প্রবাসীদের বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর আহ্বান জানান তিনি।