আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২১-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

পদ্মা-মেঘনায় ইলিশের আকাল

চাঁদপুরে বিক্রি হচ্ছে সাগরের মাছ

শওকত আলী, চাঁদপুর
| দেশ

চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় ভরা মৌসুমেও দেখা মিলছে না ইলিশের। নদীতে ইলিশ না পেয়ে খালি হাতেই ফিরছেন জেলেরা। চাঁদপুর নৌ-সীমানায় কোনো বড় আকারের ইলিশ ধরা পড়ছে না বলে জানান তারা। জেলেরা জানান, এখন ইলিশের ভরা মৌসুম চলছে। অন্যান্য বছরে এ সময়ে পদ্মায় অনেক ইলিশ পাওয়া গেলেও এবার তা নেই। চাঁদপুরের নদ-নদীতে সারা দিনেও তেমন ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। সাগরে আহরিত মাছে ভরপুর এখন চাঁদপুর মাছঘাট। গত কয়েক দিনে হাজার হাজার মণ ইলিশ বিক্রির জন্যে বিভিন্ন আড়তে আসে। এর সবগুলোই সাগরের। সরেজমিন জানা যায়, মাছের আকার, তাজা ও বরফ দেওয়ার হিসেবে মাছের দাম উঠানামা করছে। ঘাটে দাম কম হবে আশায় অনেকে মাছ কিনতে এসে দাম শুনে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। এখনও মধ্যম আকারের ইলিশের কেজি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। তবে ছোট আকারের ইলিশের কেজি সাড়ে ৩০০ থেকে সাড়ে ৪০০ টাকা। এক থেকে দেড় কেজি ওজনের ইলিশের কেজি ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা। ছোট রব চোকদারের আড়তের কাছে মাছ বিক্রেতা খন্দকার মুকবুল হোসেন বলেন, ভর সিজন (ভরা মৌসুম) হওয়া সত্ত্বেও ইলিশের দাম তুলনামূলকভাবে কমেনি। বৃহস্পতিবার দুপুরে চাঁদপুর ঘাটে প্রচুর ইলিশ দেখা যায়। হাজী আ. মালেক খন্দকার, মিজানুর রহমান কালু ভূঁইয়া, শবেবরাত হাজী, ইকবাল ব্যাপারী, কুদ্দুছ খাঁ ও উত্তমদের আড়তে হাতিয়া ও দৌলত খাঁ এলাকার প্রচুর ইলিশ ক্রয়-বিক্রয় হয়েছে। নান্টু কাদির, দেলু খাঁ, আনোয়ার গাজী, খালেক, ছানা, বাবুল হাজী, মালেক খন্দকারসহ আরও অনেকেই মাছ আড়ত থেকে কিনে প্যাকেট করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠিয়েছেন। দৌলত খাঁর মাছের ব্যাপারী ইউসুফ ও হাতিয়ার মফিজ মাঝি জানান, ১৩ থেকে ১৪ মণ মাছ খন্দকারের আড়তে দিয়েছেন এবং ২৩ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি করেছেন। এসব ইলিশ সাগরের। ভোলার নদীতে এখন তুলনামূলক ইলিশ মাছ নেই। ইলিশ মাছের দাম কেন কমছে না জানতে চাইলে চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী শবেবরাত সরকার জানান, শুক্রবার চাঁদপুর ঘাটে এক থেকে দেড় হাজার মণ ইলিশ ক্রয়-বিক্রয় হয়েছে। মাছের দামও আগের থেকে কমেছে। বুধবার ১৬ হাজার থেকে ১৮ হাজার টাকা মণ দরে অর্থাৎ ৫০০ থেকে সোয়া ৫০০ টাকা কেজিতে ইলিশ বিক্রি হয়েছে। সমিতির পরিচালক খালেক ব্যাপারী জানান, লোকাল নদীর মাছ না পাওয়ায় চাঁদপুর ঘাট গোয়ালন্দ হয়ে গেছে। এখানে সব মাছ সাগরের। অভিযানের আগে সাগরের কিছু মাছ চাঁদপুর আসছে। চাঁদপুরের নদীতে ইলিশ ধরা না পড়ায় আমরা ব্যবসায়ীরা এখন তেমন সুবিধায় নেই।