আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৩-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

পশ্চিমবঙ্গ কংগ্রেসের সভাপতি পদে সোমেন মিত্র

আলোকিত ডেস্ক
| আন্তর্জাতিক

ভারতের লোকসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য কংগ্রেসের রাজনীতিতে বিরাট পরিবর্তন নিয়ে এসেছে ভারতীয় কংগ্রেস নেতৃত্ব। পশ্চিমবঙ্গের কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীকে সরিয়ে ওই পদে আনা হয়েছে প্রবীণ কংগ্রেস নেতা ও সাবেক রাজ্য সভাপতি সোমেন মিত্রকে।
শুক্রবার কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতা অশোক গেহলটের স্বাক্ষরিত একটি বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়েছে। তবে অধীর চৌধুরীকে প্রচার কমিটির চেয়ারম্যান পদে রাখা হয়েছে।
অধীর চৌধুরী কংগ্রেসের পোড়খাওয়া এক নেতা। মুর্শিদাবাদের সংসদ সদস্য। কট্টর মমতাবিরোধী হিসেবে পরিচিত। পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের সঙ্গে কংগ্রেসের জোট করার তীব্র বিরোধী ছিলেন তিনি; বরং বাম দলের সঙ্গে সমঝোতা করে জোট বাঁধার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন তিনি।
সোমেন মিত্রও কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা। ১৯৯২ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত তিনি রাজ্য কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন মমতা। মমতা রাজ্য কংগ্রেসের সভাপতি পদে দাঁড়িয়ে হেরেছিলেন সোমেন মিত্রের কাছে। এরপরই মমতা ১৯৯৮ সালে কংগ্রেস ছেড়ে গঠন করেন তৃণমূল কংগ্রেস। পরে অবশ্য লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস খারাপ ফল করলে এর দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়ে তিনি সভাপতির পদ ছেড়ে দেন। সোমেন মিত্র ২০০৮ সালে আবার কংগ্রেস ছেড়ে গঠন করেন প্রগতিশীল ইন্দিরা কংগ্রেস। কিন্তু তাতে হালে পানি না পেয়ে ২০০৯ সালে তিনি যোগ দেন তৃণমূলে। ওই বছরই লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটে তিনি ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রে জয়ী হন। তার ছেড়ে আসা শিয়ালদহের বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের টিকিটে উপনির্বাচনে জয়ী হন সোমেন মিত্রের স্ত্রী শিখা মিত্র। ২০১১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে শিখা মিত্র ফের জয়ী হন তৃণমূলের টিকিটে। তৃণমূলে যোগ দিয়ে সোমেন মিত্র ফের ২০১৪ সালে তৃণমূল ত্যাগ করে ফিরে আসেন কংগ্রেসে। সোমেন মিত্র নতুন পদে যোগ দিয়ে শুক্রবার কংগ্রেস কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়ে দেন, কংগ্রেস কার সঙ্গে জোট করবে, আর কার কার সঙ্গে জোট করবে না, এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার মালিক কংগ্রেসের হাইকমান্ড। তবে তিনি যে বাম দলের সঙ্গে জোট করার পক্ষে হাত বাড়িয়ে নেই, সে ইঙ্গিতও তিনি এদিন দিয়েছেন। সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা।