আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৩-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

জয়ে চোখ মারিয়াদের

স্পোর্টস রিপোর্টার
| খেলা

বাহরাইন জয় দিয়ে শুরু হয়েছিল লাল-সবুজ কিশোরীদের এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ চূড়ান্ত পর্ব মিশন।  দ্বিতীয়বার এশিয়ার বয়সভিত্তিক নারী ফুটবলের শীর্ষ পর্যায়ে খেলার স্বপ্নদ্বারে মারিয়া, মনিকা, আঁখি, রিতু, তহুরা, আনাই, আনুচিং, রুপনারা। ‘এফ’ গ্রুপ সেরা হয়ে দ্বিতীয় পর্বের সিঁড়িতে পা রাখতে কমলাপুর স্টেডিয়ামে আজ বিকাল সাড়ে ৩টায় শুরু হতে যাওয়া ম্যাচে ভিয়েতনামকে হারাতেই হবে স্বাগতিক কিশোরীদের; ব্যত্যয় হলেও দুটি সেরা রানার্সআপের একটি হয়ে দ্বিতীয় পর্বে খেলতে পারে। গ্রুপে দ্বিতীয় হওয়ার দৌড়ে গোলগড়ে শীর্ষে থাকলেও দেখতে হবে চিন-উজবেকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া-চীনা তাইপে, মিয়ানমার-ফিলিপাইন, ইরান-থাইল্যান্ড ম্যাচের ফল। তলানির দলের বিপক্ষে ফল বাদ দিয়ে থাইল্যান্ড (১৪), ফিলিপাইন (৫) ও চীনা তাইপের (৩) পয়েন্ট সমান ৬ হলেও গোলগড়ে শীর্ষে বাংলাদেশ (১৫)।
জয়েই চোখ স্বাগতিক কোচ গোলাম রব্বানী ছোটনের। বাড়তি চাপ নিতে নারাজ তিনি; গ্রুপের অন্য সব ম্যাচের মতো এটাও সমান গুরুত্ব পাচ্ছে তার কাছে। স্বাগতিক কোচের চোখে, ‘এখন পর্যন্ত সব কিছু নিজেদের পরিকল্পনা মতো করতে পারছি। আশা করি শেষটাও ভালো হবে। দর্শক মাঠে এসে যেভাবে উৎসাহ দিচ্ছেন, মেয়েদের মধ্যে ভালো করার প্রেরণা পাচ্ছে।’ প্রতিপক্ষ সম্পর্কে দেশের নারী ফুটবল ইতিহাস সেরা কোচের মূল্যায়ন, ‘ভিয়েতনাম ভালো দল, টুর্নামেন্টে এ পর্যন্ত গোছানো ফুটবলই খেলছে। ভালো কয়েকজন ফুটবলার আছে, যাদের স্কিল ভালো, দ্রুত গতিতে আক্রমণে ওঠে। রক্ষণও বেশ শক্ত। কিন্তু আমাদেরও সামর্থ্য আছে। মাঠে আমরা নিজেদের সেরা খেলাটা খেলতে চাই।’ অধিনায়ক মারিয়ার প্রতিশ্রুতি, ‘ঘরের মাঠে খেলা। দর্শকরা আমাদের মাঠে এসে উৎসাহ দেবেন এটুকুই চাওয়া। আমাদের সেরা খেলাটাই উপহার দেব।
বাংলাদেশ একবার চূড়ান্ত পর্ব খেললেও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভিয়েতনামের কাছে অধরা। ২০১১ আসরে গ্রুপ পর্বে সেরা হলেও বাদ পড়েছিল দ্বিতীয় পর্বে। এবারও গ্রুপের শেষ ম্যাচ খেলতে নামার আগ পর্যন্ত ভালো অবস্থানে তারা। স্বাগতিকদের বঞ্চিত করতে পারলে এক ধাপ এগিয়ে যাবে। তিন ম্যাচ পর দুই দলের পয়েন্ট (৬) ও গোলগড় (২৫/০) সমান হলেও প্রতিপক্ষ মাঠ বিবেচনায় ভিয়েতনামিরা গ্রুপের শীর্ষে আছে।
টুর্নামেন্ট শুরুর আগে গ্রুপে বাংলাদেশকে ফেভারিট বলেছিলেন গোল্ডেন গার্লসদের কোচ এনগুয়েন থি মাই ল্যান; তবে তাদেরও যে লক্ষ্য চূড়ান্ত পর্ব, আপাতত দ্বিতীয় পর্ব; দেখাচ্ছেন মাঠের খেলায়ও। খৃস্টপূর্ব ২১০ সালে চিনের ছিন রাজবংশের পতনের পর থেকে শত শত বছর ধরে চলা যুদ্ধের মধ্য দিয়ে জন্ম নেওয়া ভিয়েতনাম জাতির নারী কোচ জানানও, ‘আমরা এখানে একটা লক্ষ্য নিয়ে এসেছি। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত যা খেলেছি, তাতে সন্তুষ্ট। তবে শেষ ম্যাচে যে এর চেয়েও বেশি পরিশ্রম করতে হতে হবে মেয়েদের বলেছি।’
দুই দলই গ্রুপে নিজেদের গেল তিন ম্যাচে বড় পেয়েছে। বাহরাইন ১০-০, লেবানন ৮-০ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ৭-০ গোলে হারায় বাংলাদেশ। আর আমিরাতকে ৪-০, বাহরাইনকে ১৪-০ ও লেবাননকে ৭-০ গোলে হারিয়েছে বিশ্ব নারী ফুটবলে ৩৭ নম্বরে ভিয়েতনাম, এশিয়ায় সপ্তম; নারী ফুটবল খেলা শুরু করেছে নব্বই দশকে। সেখানে প্রতিকূল পরিস্থিতি পেরিয়ে বাংলাদেশি মেয়েরা আবার ফুটবল খেলতে শুরু করে ২০০৪ সালে। ১৪ বছরে বিশ্বের ১১২তম দেশ, এশিয়ায় ২২ নম্বরে। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উন্নতি করছে বাংলাদেশ। সে পথে আজ আরেকটা বাধা পেরোনোর দিন।