আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৩-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

আকরামের ব্যাখ্যা

স্পোর্টস রিপোর্টার
| খেলা

টুর্নামেন্টের মাঝপথে হুট করেই ইমরুল কায়েস ও সৌম্য সরকারকে আরব আমিরাতে ডেকেছে বাংলাদেশ দল। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে গতকালই আমিরাতে উড়ে গেছেন ইমরুল-সৌম্য। প্রশ্ন হলো, হুট করেই একসঙ্গে দুইজন ওপেনারকে ডেকে পাঠানো কেন? একদিক থেকে কারণটা স্পষ্টই। এশিয়া কাপে বাংলাদেশের উদ্বোধনী একেবারেই নিষ্প্রভ।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৩৭ রানের বিশাল জয়ের ম্যাচটাও বাংলাদেশের ওপেনিং জুটি ভেঙেছিল মাত্র ১ রানে। শূন্য রানেই আউট হয়েছিলেন লিটন দাস। ওই ম্যাচ দিয়েই আবার এশিয়া কাপ শেষ হয়ে গেছে বাংলাদেশের ওপেনিংয়ের প্রধান স্তম্ভ তামিম ইকবালের।
আফগানিস্তান ও ভারতের বিপক্ষে পরের দুই ম্যাচেই তাই ওপেনিং করেছেন লিটন দাস ও নবাগত নাজমুল হোসেন শান্ত। কিন্তু দুইজনেই ব্যর্থ। দুই ম্যাচেই বাংলাদেশের ওপেনিং জুটি ভেঙেছে দলীয় ১৫ রানে। তার চেয়েও বড় কথা, একজন আউট হলেও অন্যজন দলকে টেনে নিয়ে যেতে পারেননি। বরং দুই ম্যাচেই দুইজনেই আউট হয়েছেন যুগপৎ। আফগানিস্তনের বিপক্ষে লিটন করেন ৬ ও নাজমুল ৭ রান। শুক্রবার ভারতের বিপক্ষে সুপার ফোরের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দুইজনেই করেছেন সমান ৭ রান করে। তাই বলে একসঙ্গে দুইজন ওপেনারকে ডাকতে হবে? ব্যাকআপ খেলোয়াড় হিসেবে দলে যাদের নেওয়া হয়েছে, তাদের একজনের ওপরও আস্থা রাখা যেত না? এসব প্রশ্নেরই উত্তর দিয়েছেন আমিরাতে দলের সঙ্গে থাকা বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান আকরাম। বলেন, ‘তামিম চোটে পড়ার কারণে আমাদের ওপেনিং জুটিতে নড়বড়ে অবস্থা। এক ম্যাচেও আমরা ওপেনিং জুটিতে ভালো পারফরম্যান্স পাইনি।’ তাই বলে একসঙ্গে দুইজনকে ডাকা কেন? আকরাম বলেন, ‘ম্যানেজমেন্ট একজনকে ডাকার কথাই বলেছিল। কিন্তু আমরা ঝুঁকি না নিয়ে টিম ম্যানেজমেন্ট এবং বোর্ডপ্রধানের সঙ্গে আলোচনা করেই ইমরুল ও সৌম্যকে আনছি।’
দলে থাকা ব্যাকআপ খেলোয়াড়দের ওপর আস্থা রাখার প্রশ্নে আকরাম বুঝিয়ে দিলেন, ব্যাকআপ হিসেবে যারা সুযোগ পেয়েছে, তারা আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি, ‘আমরা কিন্তু এসব চিন্তা করে আগেই দলে একজন বাড়তি ব্যাকআপ খেলোয়াড় নিয়ে এসেছি। যাদের ব্যাকআপ হিসেবে নিয়ে এসেছি, ওরাও ভালো খেলোয়াড়। ওদের দারুণ সুযোগ ছিল। লিটন তিনটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছে। শান্ত দুটি ম্যাচ খেলেছে। কিন্তু ওরা রান করতে পারেনি। স্বাভাবিকভাবেই আমাদের এমন পরিকল্পনা করতে হয়েছে।’ কিন্তু যাদের ডাকা হয়েছে, তারাও ব্যর্থতার কারণেই দল থেকে বাদ পড়েছেন। বাদ পড়ার পর এমন কোনো ক্যারিশমাই তারা দেখাননি, তাদের গিয়েই সমস্যার সমাধান করে ফেলবেন। আকরাম এ বিষয়ে কিছু না বললেও অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা কিন্তু সরাসরিই প্রশ্ন তুলেছেন। স্পষ্ট করেই বলেন, ‘ওরাও কিন্তু পারফর্ম করতে না পারার কারণেই দল থেকে বের হয়েছে। আবার এসে এ ধরনের টুর্নামেন্টের এত চাপ নিয়ে আমি জানি না, ওরা টেকনিক্যালি কতটা কাজ করেছে। জানি না, যে সমস্যার কারণে দল থেকে বাদ পড়েছিল, সেগুলো ঠিক করে আসছে কি না।’
যাই হোক, টিম ম্যানেজমেন্টের ডাকে সারা দিয়ে ইমরুল-সৌম্য গতকাল সন্ধ্যায়ই আমিরাতে উড়ে যান। আকরামের যুক্তি মতো আমিরাতে গিয়ে আজকেই তাদের ম্যাচ খেলার জন্য মাঠে নেমে পড়ার কথা। আগামীকালই যে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সুপার ফোরের পরের ম্যাচ বাংলাদেশের। ইমরুল-সৌম্য পারবেন টিম ম্যানেজমেন্টের আস্থার প্রতিদান দিয়ে ওপেনিং সমস্যার সমাধান দিতে?