আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৩-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

ব্যাটসম্যানদের দায়িত্ব নিয়ে খেলতে হবে : মাশরাফি

স্পোর্টস রিপোর্টার
| খেলা

এশিয়া কাপে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১৩৬ রানে হেরে যাওয়ার পর শুক্রবার সুপার ফোরের ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে ৭ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ। দুই ম্যাচেই বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয়। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১১৯ রানে ও ভারতের বিপক্ষে ১৭৩ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। শুক্রবার ম্যাচ শেষে টাইগার দলপতি মাশরাফি বিন মুর্তজা বলেন, ব্যাটসম্যানদের দায়িত্ব নিয়ে খেলতে হবে।
শুক্রবার ম্যাচ নিয়ে মাশরাফি বিন মুর্তজা বলেন, ‘অবশ্যই দুটি ম্যাচে হার হতাশার। এটা কেউই চায়নি। বিশেষ করে এ ম্যাচের ফলটা একটু বেশি হতাশার। কারণ, গেল ম্যাচের তুলনায় আজকের (ভারতের বিপক্ষে) ম্যাচটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু আজকেও আমাদের ব্যাটিংয়ে ধস নেমেছে। 
শুরু থেকেই আমরা উইকেট হারিয়েছি। ...ব্যাট করার জন্য উইকেট খারাপ ছিল না। আমরা ২৫০ থেকে ২৬০ করতে পারতাম। কিন্তু আমরা নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়েছি। পরে ব্যাট করাটা হয়তো ভালো হতো। ২৬০ থেকে ২৭০ রান করার মতো উইকেট এটি।’ টাইগার অধিনায়ক যোগ করেন, ‘আপনি যদি ১৭০ রান করেন তাহলে সেটি বোলারদের জন্য ডিফেন্ড করা খুবই কঠিন। ব্যাটসম্যানদের দায়িত্ব নিয়ে খেলতে হবে। বিশেষ করে ব্যাক টু ব্যাক ম্যাচে রান করতে ব্যর্থ হওয়ার পর।’
তামিমের অবর্তমানে গেল দুই ম্যাচে ওপেন করেন নাজমুল হোসেন শান্ত। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১৭ বলে করেছিলেন ৭। ভারতের বিপক্ষে ৭ রান করেন এ তরুণ ব্যাটসম্যান। শোচনীয় ব্যর্থতা লিটনের ব্যাটেও। এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচে কোনো রানই করতে পারেননি। পরের দুই ম্যাচে যথাক্রমে ৬ ও ৭। ওপেনিং জুটির এ ব্যর্থতাকে বড় করে দেখছেন মাশরাফি, ‘পরপর দুই ম্যাচে দ্রুত উইকেট পড়ে গেছে। এর ফলে মিডল অর্ডারের ওপর চাপ পড়ছে। দ্রুত উইকেট পড়ে যাওয়ার পর দরকার ছিল দেখেশুনে এগোনো। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে যেমনটা হয়েছিল। এ উইকেটে ২৫০ রান কোনো ব্যাপার নয়। কিন্তু আমরা পারিনি।’ বাংলাদেশের সামনের ম্যাচ আফগানিস্তানের বিপক্ষে। এ ম্যাচটিকেও মাশরাফি কঠিন বলেন, ‘পরবর্তী ম্যাচ শক্ত দলের বিপক্ষে, যাদের ভালো বোলার রয়েছে। আমাদের ভালো ব্যাট করতে হবে।’
ওপেনিংয়ে শান্ত-লিটনের ব্যর্থতার কারণে বাংলাদেশ থেকে জরুরি ভিত্তিতে উড়িয়ে নেওয়া হচ্ছে দুই ওপেনার সৌম্য সরকার ও ইমরুল কায়েসকে। সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করা হয়েছিল, এ দুজন দলের সঙ্গে যোগ দিলে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কিনা দল? মাশরাফি জানালেনÑ তিনি আসলে ব্যাপারটা জানেনই না। দলে দুইজন নতুন সদস্য যোগ দিচ্ছেন অথচ অধিনায়ক জানেন না! ব্যাপারটা একজন অধিনায়কের জন্য বিব্রতকরই, ‘আমি আসলে জানি না যে তারা আসছে। আমি মাঠের মধ্যে ছিলাম...। এ কারণে আমি জানি না।’ সৌম্য ও ইমরুল এসে ওপেন করলে ও পরিস্থিতি তাদের জন্যও সহজ হবে বলে মনে করেন না মাশরাফি, ‘ভালো না করার কারণেই তারা বাদ পড়েছেন। আমি জানি না তাদের যে টেকনিক্যাল ভুলগুলো ছিল সেটা শুধরে তারা আসছেন কিনা। তারা এসেই যে ভালো ভালো কিছু করবেন, সেটা আমার মনে হয় না। এখানে এসে পরিস্থিতি মানিয়ে নেওয়া সহজ হবে বলে মনে হয় না আমার।’
ভারতের কাছে বড় হারের পরও ফাইনালের সম্ভাবনা দেখছেন মাশরাফি। বলেছেন, ‘এ ম্যাচটি আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু আমরা পারিনি। তারপরও বলব, আমাদের সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়নি। আমাদের এখনও টুর্নামেন্টে ফেরার সুযোগ আছে। একটা ভালো দিনেই সব বদলে যেতে পারে। পরের ম্যাচে আফগানিস্তানকে হারাতে পারলে ফাইনালে ওঠার ফিফটি ফিফটি একটা সম্ভাবনা তৈরি হবে। এরপর পাকিস্তানের সঙ্গে ম্যাচে জিতলে ভালো সুযোগ থাকবে (ফাইনালের)।’