আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৩-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

চামড়ার রপ্তানি আয় কমেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
| অর্থ-বাণিজ্য

দুর্দিন চলছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানিমুখী খাত চামড়ায়। ধারাবাহিকভাবে কমছে এ খাতের রপ্তানি আয়। অথচ রপ্তানি বাড়াতে ২০১৭ সালে চামড়াকে বর্ষপণ্য ঘোষণা করা হয়, তবে তা তেমন কাজে আসেনি। বরং আগের চেয়ে আয় আরও কমছে। চলতি অর্থবছরের (২০১৮-১৯) প্রথম দুই মাসেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। জুলাই-আগস্টে আগের বছরের (২০১৭-১৮) প্রথম দুই মাসের তুলনায় রপ্তানি কমেছে প্রায় ২৬ শতাংশ, পূরণ হয়নি এ সময়ের লক্ষ্যমাত্রাও। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
ইপিবির সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, এ বছরের প্রথম দুই মাসে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৮ কোটি ৯৭ লাখ ডলার। এর বিপরীতে আয় হয়েছে ১৮ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার। এ হিসেবে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আয় কম হয়েছে ৩.৫৩ শতাংশ। আবার গেল অর্থবছরের জুলাই-আগস্টে এ খাতের আয় ছিল ২৪ কোটি ৮১ লাখ ডলার। সে হিসাবে ওই অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় খাতটির আয় কমেছে ২৬.২৬ শতাংশ।
ইপিবির তথ্যমতে, বাংলাদেশ থেকে প্রক্রিয়াজাত চামড়া, চামড়ার তৈরি জুতা বা পাদুকা এবং চামড়াজাত পণ্য যেমনÑ ব্যাগ, জ্যাকেট, হাতমোজা, ওয়ালেট, বেল্ট, মানিব্যাগ ইত্যাদি রপ্তানি হয়। এ তিন উপখাতের সব কটিতেই আয় কমেছে দুই মাসে। এর মধ্যে প্রক্রিয়াজাত চামড়ায় ৩ কোটি ১০ লাখ ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আয় হয়েছে ২ কোটি ৪৯ লাখ ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৭.৪৯ শতাংশ কম এবং আগের বছরের একই সময়ের চেয়েও ৩২.৪২ শতাংশ কম। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে আয় ছিল ৩ কোটি ৩২ লাখ ডলার।
চামড়াজাত পণ্যে ৫ কোটি ৭৩ লাখ ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আয় হয়েছে ৩ কোটি ১৭ লাখ ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪৪.৭০ শতাংশ কম। একইসঙ্গে আগের বছরের একই সময়ের চেয়েও ৬২.২৮ শতাংশ কম। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে আয় ছিল ৮ কোটি ৪১ লাখ ডলার।
চামড়ার পাদুকায় ১০ কোটি ১২ লাখ ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আয় হয়েছে ১২ কেটি ৮৭ লাখ ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৭ শতাংশ বেশি। তবে গেল অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় আয় কমেছে ১.৫১ শতাংশ। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে আয় ছিল ১৩ কোটি ৭ লাখ ডলার। চলতি অর্থবছরে এ খাত থেকে রপ্তানি আয়ের মোট লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১১২ কোটি ৪০ লাখ ডলার। আর গেল অর্থবছরে পুরো সময়ে আয় হয়েছিল ১০৮ কোটি ৫৫ লাখ ডলার, যদিও ওই বছরের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৩৮ কোটি টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থবছরেও খাতটির আয় ছিল ১২৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার। রপ্তানিকারকরা বলছেন, বিশ্বে চামড়াজাত পণ্যের বাজার ২২ হাজার কোটি ডলারের বেশি। এ বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব খুবই কম। এ ক্ষেত্রে অন্যতম বাধা পরিবেশগত ক্ষতি ও নেতিবাচক শ্রম পরিবেশ। তবে সরকারের নীতিনির্ধারকরাও এর প্রতি গুরুত্ব দিয়ে রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে সাভারের চামড়া পল্লিতে ট্যানারি স্থানান্তর করেন। তবে ২০০৩ সালে সাভারের চামড়া শিল্পের কাজ শুরু হলেও সিইটিপি এখনও পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হয়নি।
চামড়া খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়ার দরপতন চলছে। ফলে এ খাত থেকে রপ্তানি আয় কমছে। এছাড়া সাভারে এখনও পরিবেশবান্ধব শিল্পনগরী গড়ে ওঠেনি। পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থা নিশ্চিত না করার কারণেই আমদানিকারকরা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন, এতে কমছে রপ্তানি, ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে চামড়া শিল্প। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়বে চামড়া শিল্প। তাই রপ্তানি আয় ধরে রাখতে শিগগিরই সাভারের চামড়া পল্লির কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি), অবকাঠামোসহ শ্রমিকদের আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।
এদিকে চামড়া শিল্পের এ দূরবস্থার জন্য ট্যানারি মালিকরা দায়ী করছেন বৈশ্বিক বাণিজ্য যুদ্ধের। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ দূরবস্থার জন্য দায়ী করা হচ্ছে শিল্প মন্ত্রণালয়কে। চামড়া শিল্প নগরীর অবকাঠামো উন্নয়নের দায়িত্বে মন্ত্রণালয়ের সংস্থা বিসিক তাদের কাজ ঠিকমতো করছে না। রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজ, সিটিপি নির্মাণ শেষ হয়নি। এমনকি বরাদ্দ পাওয়া প্লটের মালিকানাও ট্যানারি মালিকদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। শুধু সিটিপি চালু না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি ও ফ্রান্সসহ অনেক দেশ চামড়া আমদানি বন্ধ করে দিয়েছে।