আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৩-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

শ্রীপুরে সামাজিক বনায়নে নানা অভিযোগ

| চিঠিপত্র

সামাজিক বনায়ন উত্তরবঙ্গে শুরু হওয়া এক নবধারা। সময়ের ব্যবধানে তা আজ ছড়িয়েছে প্রায় দেশজুড়ে। গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা ভাওয়ালগড় ধারণ করে হয়েছে শ্যামল। শ্যামল শ্রীপুর বনদস্যুদের কবলে পড়ে বন হারিয়ে যখন শ্রীহীন হয়ে পড়ছিল, ঠিক তখনই শ্রীপুরেও শুরু হয় সামাজিক বনায়ন। অন্যান্য এলাকার মতো উপজেলার শিমলাপাড়া ফরেস্ট অফিসের আওতায় শুরু হয় বনায়ন। ক্ষুধা, দারিদ্র্য, কর্মসংস্থান, কাঠের চাহিদা পূরণ, সবুজ বনায়নসহ নানামুখী উপকারের কারণে বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে সামাজিক বনায়ন। স্থানীয় জনসাধারণের সম্পৃক্ততায় সামাজিক বনায়নের ফলে গাছের চারাগুলো বৃক্ষে রূপান্তরিত হয়। ২০০৪ সালের রোপিত বনের প্রথম লট এ বছর বিক্রি করা হয়। স্থানীয় মানুষ ১৪ বছর পাহারা দিয়ে, যতœ করে এ গাছগুলোকে পরিপক্ব করে তোলেন। তবে অভিযোগ উঠেছে, বিক্রীত কাঠের মূল্য থেকে যে লভ্যাংশ পাওয়ার কথা ছিল, তা অনেকেই এখনও পাননি। এমনকি টাকা পাওয়ার নিশ্চয়তাটুকুও নেই। প্রতিটি লটে এক হেক্টর জমি রয়েছে। সেখানে ছয় বা সাতজন স্থানীয় লোক সম্পৃক্ত হলেও তার প্রতিনিধি নির্ধারণ করা হয়েছে একজনকে, যা ফরেস্ট কর্মকর্তাদের পছন্দমতো হয়েছিল। সেই একজন বিশেষ ব্যক্তির সঙ্গে বনপ্রহরীদের যোগসাজশে টাকা পাওয়ার অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বৃক্ষ কর্তন শেষে প্রতিটি প্লটে ফের গাছের চারা রোপণের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এতে প্রতিটি চারার মূল্য ও রোপণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ টাকা করে, যা এই দরিদ্র মানুষগুলোকে বহন করতে বাধ্য করা হয়েছে। এমনকি প্রতিটি প্লট ফের লিপিবদ্ধ করতে প্লটপ্রতি ২৫ হাজার টাকা করে জমা দিতে বলা হচ্ছে, আর কেউ এ টাকা দিতে না চাইলে তার অংশ অন্য কাউকে দিয়ে দেওয়া হবে বলে শাসাচ্ছে বনপ্রহরীরা। একটি প্লটের ছয় বা সাতজনের কাছ থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকার অধিক দাবি করছে বনপ্রহরীরা। এর প্রতিবাদ করলে তারা যখন বদলি হয়ে সিমলাপাড়া বিট অফিস থেকে অন্যত্র চলে যাবে, তখন মামলা দিয়ে যাবে বলেও হুমকি দিচ্ছে। ফরেস্ট অফিসের কর্মচারীদের এহেন ব্যবহার সামাজিক বনায়নের প্রধান উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করছে। মানুষ নিরুৎসাহিত হয়ে পড়ছে এ বনায়নের প্রতি। এতে ব্যাহত হতে পারে সামাজিক বনায়ন, চারাগুলোও বৃক্ষে পরিণত হওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। বন বিভাগের অনেক জমি বেদখল অবস্থায় পড়ে আছে, যা উদ্ধার করে বনায়ন হতে পারে। জমি উদ্ধারে তেমন তৎপরতা নেই বন কর্মকর্তাদের। এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা প্রশাসন ও সামাজিক বনায়নের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করেন স্থানীয়রা। 

প্রকৌশলী সাব্বির হোসেন 
শ্রীপুর, গাজীপুর