আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৩-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে নতুন রেকর্ড

সাইফুদ্দিন তুহিন, চট্টগ্রাম
| নগর মহানগর

চট্টগ্রাম বন্দরে ২৪ ঘণ্টায় কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে রেকর্ড গড়ছে প্রতি বছরই। শুক্রবার ২৪ ঘণ্টায় ১০ হাজার ৭৩২ (প্রতিটি ২০ ফুট দৈর্ঘ্যরে) কনটেইনার হ্যান্ডল করা হয়। ২০১৭ সালের ২১ জুলাই হ্যান্ডল করা হয় ৯ হাজার ৮৮৭ কনটেইনার। চলতি বছরের শেষ দিকে এসে সেই রেকর্ড অতিক্রম করল বন্দর। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দ্রুত কনটেইনার হ্যান্ডল করতে বন্দর কর্তৃপক্ষ, ব্যবহারকারী এবং বার্থ অপারেটর সবারই অবদান আছে। নতুন আরও যন্ত্রপাতি সংযোজন হলে ২৪ ঘণ্টায় কনটেইনার হ্যান্ডলে নতুন রেকর্ড গড়া হবে। এতে দেশে-বিদেশে বাড়বে বন্দরের সুনাম।
এ ব্যাপারে বন্দরের সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) জাফর আলম জানান, কনটেইনার হ্যান্ডল বাড়লে বন্দরে জট কমে। আমদানি বেড়ে যাওয়ায় কনটেইনার ওঠানামাও বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই কনটেইনার হ্যান্ডলে গতি আনতে জোর দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যবহারকারী বিশেষ করে ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন।
বন্দর সূত্র জানায়, বন্দরের কনটেইনার ধারণক্ষমতা বেড়েই চলেছে। কয়েক বছর আগেও বন্দর ইয়ার্ডে কনটেইনার ধারণক্ষমতা ছিল ৩৬ হাজারের কিছু বেশি। এখন সেই ধারণক্ষমতা বেড়ে ৪৯ হাজার ১৮টিতে পৌঁছে গেছে। শনিবার ছিল ৩৭ হাজার কনটেইনার, যা ধারণক্ষমতার চেয়ে অন্তত ১২ হাজার কনটেইনার কম। ইয়ার্ডে খালি কনটেইনার আছে সাড়ে তিন হাজারের বেশি। এসব কনটেইনার হ্যান্ডল আগের চেয়ে কম। তাই এখনই কিছুটা বেশি। ফুল কনটেইনার লোড (এফসিএল) ধারণক্ষমতা ৩৩ হাজার ছাড়িয়েছে। শনিবার ছিল ২৭ হাজার কনটেইনার, যা ধারণক্ষমতার চেয়ে অন্তত ছয় হাজার কম। রিফার কনটেইনারও ধারণক্ষমতার কম আছে বন্দর ইয়ার্ডে।
বন্দরের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, গিয়ারলেস ভ্যাসেল (ক্রেনবিহীন জাহাজ) থেকে কনটেইনার হ্যান্ডল করতে গ্যান্ট্রি ক্রেনের প্রয়োজন। এরই মধ্যে বন্দরে বিদেশ থেকে একাধিক গ্যান্ট্রি ক্রেনের সরবরাহ পৌঁছে গেছে। আরও তিনটি গ্যান্ট্রি ক্রেনের সরবরাহ পৌঁছাবে শিগিগরি। গ্যান্ট্রি ক্রেন ছাড়াও কনটেইনার দ্রুত হ্যান্ডলে সহায়ক আরও যন্ত্রপাতি পৌঁছবে চট্টগ্রাম বন্দরে। এরপর চলমান যন্ত্রপাতি সংকট আর থাকবে না।
চট্টগ্রাম বন্দরের এক বার্থ অপারেটর জানান, বন্দরে নতুন নতুন যন্ত্রপাতি সংযোজন হচ্ছে। সেইসঙ্গে কনটেইনারে পণ্য আমদানিও বাড়ছে। কনটেইনার সংখ্যা বাড়তে থাকায় হ্যান্ডল ইকুইপমেন্টের চাহিদা বাড়ছে। এ মুহূর্তে বন্দর ইয়ার্ডে পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি নেই। কনটেইনার হ্যান্ডলে গতি ধরে রাখতে এবং ভবিষ্যতের চাহিদা সামাল দিতে আরও যন্ত্রপাতি সংযোজন করা দরকার।
পরিবহন বিভাগ সূত্র জানায়, বন্দরে জেটি, বহির্নোঙর মিলিয়ে মোট পণ্যবাহী জাহাজ আছে ৯৪টি। এর মধ্যে কাজ শুরুর অপেক্ষায় অর্থাৎ পণ্য খালাস শুরুর জন্য প্রস্তুত আছে ৫৮টি জাহাজ। বাকি ৩৬ জাহাজ থেকে পুরোদমে পণ্য ওঠানামার কাজ চলছে। পণ্য খালাস শেষ পর্যায়ে আছে অন্তত ১০ জাহাজের। এসব জাহাজ শিগগিরই চট্টগ্রাম বন্দর ত্যাগ করবে।