আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৩-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

বরিশালে ইউপি চেয়ারম্যানকে গুলি করে হত্যা : আটক ৫

বরিশাল ব্যুরো
| প্রথম পাতা

বিশ্বজিৎ হালদার নান্টু

উজিরপুর উপজেলার জল্লা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও একই ইউপির চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ হালদার নান্টুকে (৪৪) গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টায় কারফা বাজারের নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তাকে গুলি করে পালিয়ে যায় মোটরসাইকেল আরোহী দুর্বৃত্তরা। ওই রাতে শেবাচিম হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নান্টুকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে নান্টু হত্যায় উত্তাল হয়ে উঠেছে জল্লা ইউনিয়ন। সেখানে শনিবার দিনভর বিক্ষোভ, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লাশ নিয়ে মিছিল করেন হাজার হাজার জনতা। বিক্ষুব্ধরা নান্টু হত্যার জন্য এমপি ইউনুস, তার পিএসসহ অনুসারীদের দায়ী করেছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গোটা এলাকায় বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ এ পর্যন্ত পাঁচজনকে আটকের পাশাপাশি পুলিশের দুই সদস্যকে ক্লোজ করেছে। এ ঘটনায় নান্টুর বাবা সুখলাল হালদার বাদী হয়ে উজিরপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।

স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার রাতে কারফা বাজারে ইউপি চেয়ারম্যান তার কাপড়ের দোকানে বসা ছিলেন। তখন বাজারে বিদ্যুৎ ছিল না। রাত সাড়ে ৮টার দিকে মোটরসাইকেলে করে দক্ষিণ দিক দিয়ে এসে কয়েকজন তার দোকানের সামনে নামে এবং খুব কাছ থেকে তাকে গুলি করে বাজারের পূর্বদিক দিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় চেয়ারম্যান নান্টু ও তার সহযোগী কারফা গ্রামের নীহার হালদার (৩৫) গুলিবদ্ধ হন। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে রাত ১০টার দিকে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে স্থানীয় এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস শেবাচিম হাসপাতালে গেলে উত্তেজিত কর্মীরা ঘটনার জন্য এমপিকে দায়ী করেন। একপর্যায়ে এ নিয়ে উজিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান ইকবালের সঙ্গে এমপি ইউনুসের বাকবিত-া হয়। তখন জল্লার শতাধিক নেতাকর্মী ইকবালের পক্ষ নিয়ে এমপি বিরুদ্ধে বক্তব্য দেন। পরে রাত ১২টার দিকে পুলিশের সহযোগিতায় এমপি শেবাচিম হাসপাতাল ত্যাগ করেন।
এদিকে শনিবার সকাল থেকে নান্টু হত্যার জেরে জল্লার সাধারণ মানুষ কারফা বাজারে জড়ো হন। তারা বাজারের সব দোকান বন্ধ করে খুনিদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করেন। শনিবার সকালে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নান্টু হত্যার প্রতিবাদে ও ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে কারফা বাজারে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী। এ সময় তারা সড়ক অবরোধ করে রাখেন। বেলা ১১টার দিকে বিক্ষুব্ধ কতিপয় লোক বাজারের ব্যবসায়ী সোহাগ সরদার, হরষিদ রায়সহ চারটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে হামলা করে ভাংচুর ও একটি ভবনে অগ্নিসংযোগ করে। ভাংচুর করা হয়েছে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি গাড়িও। 
বিকাল ৩টায় নান্টুর লাশ বরিশাল থেকে জল্লা আইডিয়াল কলেজ মাঠে নেওয়া হয়। সেখানে হাজার হাজার শোকার্ত নারী-পুরুষের ঢল নামে। এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি কারফা বাজারে পৌঁছান। তখনও সেখানে বিক্ষুব্ধরা খুনিদের বিচার দাবিতে সমাবেশ করছিলেন। তারা এমপি হাসানাতের কাছে খুনিদের বিচার দাবি করেন। এমপি হাসানাত খুনিদের বিচারের আশ^াস দেন।
উজিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান ইকবাল বলেন, গৌরনদী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আবু সাঈদ স্থানীয় এমপি ইউনুসের ব্যক্তিগত সহকারী। দলীয় কোন্দলের কারণে নান্টুকে খুন করা হয়েছে। হত্যার ১৫ দিন আগে থেকে ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা করা হয় বলে অভিযোগ করেন ইকবাল। এ ব্যাপারে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবির বলেন, নান্টু খুনের ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার কারণে ঘটনাস্থলের পাশের পুরুলিয়া পুলিশ ক্যাম্পের কর্তব্যরত এসআই মিজানুর রহমান ও এসআই এবি ইউসুফকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ ঘটনায় নান্টুর বাবা সুখলাল হালদার হত্যা মামলা করেছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে সিরাজ সিকদার, ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি সদস্য তাইজুল ইসলাম পান্না, আইয়ুব আলী, হরষিদ রায়সহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।