আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৩-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

পঞ্চপন্থায় ঢুকছে ইয়াবা

টাস্কফোর্সের মাধ্যমে বন্ধের কাজ চলছে : পুলিশ

আলমগীর হোসেন
| প্রথম পাতা

কঠোর অভিযানের মাঝেও নানা কৌশলে মিয়ানমার থেকে আসছে ইয়াবার চোরাচালান 

মরণনেশা ইয়াবা ট্যাবলেটে ছেয়ে গেছে দেশ। ইয়াবার আগ্রাসন যেন দমানোই যাচ্ছে না। র‌্যাব-পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কঠোর অভিযানের মাঝেও নানা কৌশলে মিয়ানমার থেকে ইয়াবার চোরাচালান আনা হচ্ছে। অন্তত চার থেকে পাঁচটি পন্থায় মিয়ানমার থেকে ইয়াবার চোরাচালান আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এমন তৎপরতার পরিপ্রেক্ষিতে কক্সবাজারের পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, পুলিশ ও বিজিবিসহ অন্যান্য সংস্থা মিলে টাস্কফোর্সের মাধ্যমে ইয়াবার চোরাচালান বন্ধে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চলছে।

একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে ইয়াবার চালান আনতে হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠানো হচ্ছে। এ হুন্ডির টাকার বেশিরভাগই ঢুকছে দুবাই হয়ে। এছাড়া বিকাশের মাধ্যমে, নিত্যপণ্য, বৈধ ব্যবসার আড়ালে এবং সীমান্তবর্তী কিছু স্থানে দুই দেশের স্থানীয়দের যাতায়াতের মাধ্যমে ইয়াবার চোরাচালান বাংলাদেশে ঢুকছে। এ পঞ্চপন্থার বাইরে আরও একাধিক কৌশলে ইয়াবার চালান আসতে পারে।

র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহবুবুল আলম আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, মিয়ানমার থেকে ইয়াবার চোরাচালান আনার ক্ষেত্রে চক্রের হোতারা হুন্ডির মাধ্যমকেই সবচেয়ে বেশি বেছে নিচ্ছেন। অনেক সময় দুবাই হয়ে সেই হুন্ডির টাকা যাচ্ছে মিয়ানমারে। এছাড়া বিকাশসহ আরও কিছু মাধ্যমেও ইয়াবা কেনার টাকা যাচ্ছে মিয়ানমারে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত পরিচালক মজিবুর রহমান পাটোয়ারী আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, হুন্ডির মাধ্যমে ইয়াবার টাকা পাঠানোর খবরই বেশি জানা যায়। তবে বিকাশের মাধ্যমে, নিত্যপণ্য; যেমন ডিজেল, পেট্রল, সার ইত্যাদি মাধ্যমেও ইয়াবা আনা হয়ে থাকে বলে শোনা যাচ্ছে। সম্প্রতি চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে এ সংক্রান্ত একটি বৈঠকে নিত্যপণ্যের মাধ্যমে ইয়াবার চালান আনার বিষয়ে আলোকপাতও করা হয়। তবে এটি হয়তো খুব বেশি পরিমাণে নয়। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ-মিয়ানমারের দুর্গম কিছু সীমান্ত এলাকায় দুই দেশের স্থানীয়রা মাঝে মধ্যে যাতায়াত করে থাকেন। এ সময়ে ইয়াবার চালানের কিছু চক্র ওই স্থানীয়দের কাজে লাগিয়ে থাকে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (গোয়েন্দা) নজরুল ইসলাম সিকদার আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, নানা মাধ্যমকে ব্যবহার করে ইয়াবার গডফাদাররা মিয়ানমার থেকে চোরাচালান আনছেন। হুন্ডির বিষয়টি সবচেয়ে বেশি নজরে এলেও এর বাইরেও বিকাশের মাধ্যমে এবং স্থানীয় যাতায়াতের সুবিধাসহ নানাভাবে মিয়ানমারে ইয়াবার জন্য বাংলাদেশের টাকা ঢুকছে। তবে এসব বিষয়ে আরও সুনির্দিষ্টভাবে তথ্য পেতে কাজ চলছে।
একাধিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশি মুদ্রার মান মিয়ানমারের মুদ্রার চেয়ে অনেক বেশি। বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সমাজকে পঙ্গু করার ষড়যন্ত্র হিসেবে দেশের টাকা হুন্ডির মাধ্যমে ইয়াবার চোরাচালান কেনার জন্য মিয়ানমারে পাচার হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন অর্থনীতির ক্ষতি হচ্ছে, তেমনি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যুবসমাজও।
কর্মকর্তারা আরও জানান, হুন্ডি ছাড়াও মোবাইল ব্যাংকিং; যেমন বিকাশের মাধ্যমেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে ইয়াবার চালানের জন্য টাকা যাচ্ছে। অন্যদিকে একশ্রেণির বৈধ ব্যবসায়ী তাদের আমদানি-রপ্তানির আড়ালে ইয়াবার চালান আনছেন বলে গোয়েন্দাদের কাছে তথ্য আছে। এর বাইরেও ইয়াবার ক্ষেত্রে কৃষিপণ্য বা নিত্যপণ্যের বিনিময়ের ঘটনাও ঘটছে। এছাড়া সীমান্ত অ্যাক্ট ১৯৮২ অনুসারে কিছু এলাকায় অনেক সময় বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী স্থানীয়রা ওপারে যেতে পারছেন, আবার মিয়ানমারের নাগরিকরা এপারে আসতে পারেন। ফলে দুই দেশের স্থানীয় যারা যাতায়াত করছেন, তাদের একটি অংশের মাধ্যমেও ইয়াবা বা অর্থ আনা-নেওয়া করানো হচ্ছে বলে মনে করছেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।
এ প্রসঙ্গে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) ইকবাল হোসেন আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের কক্সবাজার অংশে পুলিশের কঠোর নজরদারি চলছে। ইয়াবার চোরাচালান প্রতিরোধে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। এ লক্ষ্যে পুলিশ-বিজিবিসহ অন্যান্য সংস্থা মিলে টাস্কফোর্সের মাধ্যমে ইয়াবার চালান বন্ধে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চলছে।