আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৪-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

কেশ পরিচর্যা

তনিমা রহমান
| আলোকিত ফ্যাশন

চুল সৌন্দর্যের অন্যতম একটি অংশ। ঘন কালো চুল সবার নজর কাড়ে। তাই চুল নিয়ে রচিত হয়েছে এত কবিতা, গান। কবি জীবনানন্দ দাশের ভাষায়Ñ ‘চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা’।
নন্দিত লেখক হুমায়ূন আহমেদের লেখা গানের ভাষায়Ñ
‘একটা ছিল সোনার কন্যা
মেঘ বরণ কেশ
ভাটি অঞ্চলে ছিল সেই কন্যার দেশ’
অনেকেই খুব কম পানি পান করে থাকেন। ফলে শরীর তো একে পানিশূন্য হয়ে পড়ে, তার ওপর মশলাদার খাওয়াদাওয়া। তাছাড়া এক-একটা ড্রেসের সঙ্গে মিলিয়ে হেয়ারস্টাইল করতে গিয়ে চুলের অনেক ক্ষতি হয়ে যায়। এ কারণে চুল ড্যামেজ ও রুক্ষ হতে দেখা যায়। একই সঙ্গে চুল পড়া তো আছেই।
তাই কীভাবে চুলের যতœ নিয়ে ঝলমলে সুন্দর চুল ফিরে পাবেন, তা নিয়েই আজকের আয়োজন। চলুন তাহলে জেনে নিই কীভাবে উজ্জ্বল ও মসৃণ চুলের অধিকারী হবেন।
চুলের যতœ 
গরম এখনও পুরোপুরি বিদায় নেয়নি। প্রকৃতিতে চলছে শরৎকাল। এই প্রচ- রোদ আবার ঝুম বৃষ্টি। এ সময়ের মিশ্র আবহাওয়া চুলের জন্য ক্ষতিকর। চুলের যতেœ এই প্যাক, সেই প্যাক আরও কত কী ব্যবহার করছেন! নিয়মিত পরিচর্যা ছাড়া এসব হেয়ার ট্রিটমেন্ট কোনো কাজেই আসবে না। উপায় একটাই, সঠিক যতœ এবং সাবধানতা অবলম্বন। 
শ্যাম্পু করুন সপ্তাহে তিন দিন 
এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকে। আর এতে মাথার ত্বক ঘামে; ফলে ব্যাকটেরিয়ার সৃষ্টি হয়, যা চুল ও মাথার ত্বকের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এজন্য অনেকেই প্রতিদিন চুলে শ্যাম্পু ব্যবহার করে থাকেন। 
কিন্তু প্রতিদিন শ্যাম্পু করায় মাথার ত্বকের প্রাকৃতিক তেলও ধুয়ে যায়। এই তেল চুলের জন্য অত্যন্ত উপকারী। তাই প্রতিদিন নয়, সপ্তাহে চুল পরিষ্কার করার জন্য তিন দিন শ্যাম্পুই যথেষ্ট।
স্কাল্পের চাই বিশেষ যতœ 
চুলে শ্যাম্পু তো করাই হয়; কিন্তু অনেকেই এ সময় ভালোভাবে মাথার ত্বক পরিষ্কার করার বিষয়টি ভুলে যান। চুলের সমস্যার শুরু হয় মাথার ত্বক থেকেই। তাই মাথার ত্বক অর্থাৎ স্কাল্প পরিষ্কার রাখা খুবই জরুরি। সপ্তাহে অন্তত এক দিন চুলে শ্যাম্পু করার সময় মাথার ত্বক ভালোভাবে ম্যাসাজ করে ধুয়ে নিতে ভুলবেন না।
কন্ডিশনার ব্যবহার


চুলে শ্যাম্পু করার পর অবশ্যই কন্ডিশনার ব্যবহার করা উচিত। তা না হলে মৌসুমি আর্দ্রতায় ত্বক ও চুল শুষ্ক হয়ে যেতে বাধ্য। তাই শ্যাম্পু ব্যবহারের পর কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। কন্ডিশনার বাহ্যিক দূষণ থেকেও চুলকে বাঁচাতে সাহায্য করে।
ভালোভাবে চুল মুছতে হবে
ভেজা চুল তোয়ালে দিয়ে পেঁচিয়ে রাখার অভ্যাস প্রায় সব মেয়েরই রয়েছে। তবে এমনটি না করাই ভালো। কেননা ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাসের সংক্রমণ হতে পারে। তাই ভেজা চুল তোয়ালে দিয়ে পেঁচিয়ে না রেখে ভালোভাবে মুছে বাতাসে শুকিয়ে নিতে হবে।
ভুল করেও ভেজা চুল বাঁধবেন না
একইভাবে ভেজা চুল কখনোই বেঁধে রাখবেন না। এতে খুব টাইট করে বা ভেজা চুল বেঁধে রাখলে চুলের গোড়া আলগা হয়ে চুল পড়া, খুশকি ও চুলে গন্ধ হওয়ার মতো ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে।
চুলে তেল দিন
শ্যাম্পু এবং কন্ডিশনারের পাশাপাশি নিয়মিত চুলে তেল লাগাতে হবে। আপনার পছন্দের যে কোনো তেল লাগাতে পারেন। এতে চুল ময়েশ্চাররাইজড থাকবে এবং ড্যামেজ এবং ডালনেস কাটিয়ে উঠবে।
প্রতিদিন চুলে তেল দেওয়াটা জরুরি নয়। তবে চুল স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ও ঝলমলে রাখার জন্য সপ্তাহে অন্তত এক দিন চুলের গোড়ায় এবং পুরো চুলে তেল লাগাতেই হবে। চুল শুষ্ক ও ভঙ্গুর হলে দুই দিন পরপর তেল ম্যাসাজ করা ভালো।
এই মৌসুমে ত্বকের বাড়তি যতœ নেওয়া জরুরি। ঘরোয়া উপায়ে ত্বক ও চুলের যতœ নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের কিছু সাধারণ বিষয় খেয়াল রাখলেই আপনার চুল থাকবে সারা বছর পরিষ্কার ও ঝলমলে।
চুলের যতেœ ঘরে তৈরি মাস্ক ব্যবহার
ঘরে বসেই চুলের যতেœ বেশকিছু হোমমেড হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন। নিচে কিছু হেয়ার মাস্ক তৈরির উপায় জানিয়ে দেওয়া হলো।
* একটি ছোট বোলে হাফ কাপ কোকোনাট মিল্ক, ১ টেবিল চামচ মধু, ২ টেবিল চামচ ভেজানো ওটস, ১ চা চামচ অ্যালোভেরা জেল নিয়ে মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণটি পুরো চুলে লাগিয়ে রাখুন ৪০ মিনিট। এরপর শ্যাম্পু এবং কন্ডিশনার লাগান।
* একটি বাটিতে ১টা ডিম, হাফ কাপ টক দই, ১ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল, ২ চা চামচ লেবুর রস নিয়ে মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণটি চুলে লাগিয়ে রাখুন ১ ঘণ্টা। এরপর শ্যাম্পু এবং কন্ডিশনার লাগিয়ে নিন।
গ্রন্থনা : তনিমা রহমান