আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৪-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

ঔষধিগুণ অক্ষুণ্ন থাকে লাল চায়ে

ডা. মহসীন কবির
| সুস্থ থাকুন

ক্লান্ত শরীরের অলসতা দূর করে শরীর ও মনকে চাঙা রাখতে এই পটাশিয়াম ও ক্যাফেইনের তুলনা হয় না। অন্যদিকে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট আমাদের হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। মজার তথ্য হলো ভারত উপমহাদেশে ব্রিটিশ আমলে জনবহুল জায়গাগুলোতে ব্রিটিশ সরকার চায়ের ঔষধি গুণের নানা বিজ্ঞাপন লিখে আমাদের চা খাওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করত

সকালে ঘুম থেকে উঠে শহুরে বেশিরভাগ মানুষের প্রয়োজন পড়ে এক কাপ চা। সারা দিনে আমাদের অনেকেরই কয়েক কাপ চা পানের তৃষ্ণা জাগে মনে। বাইরে কাজের ফাঁকে অথবা অবসরে আমরা বেশি যে পানীয়টি খাই তা হলো চা। অনেকে আবার রুটিনমাফিক দিনে কয়েক কাপ চা খান। কাজে, মিটিংয়ে, আড্ডায় কিংবা অপেক্ষায় চায়ের কাপে চুমুক দেওয়া রীতিমতো নেশার মতো। এই চা আমাদের চুম্বকের মতো আকর্ষণ করে কেন তা কি আমরা জানি। কারণ চায়ে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ক্যাফেইন, পটাশিয়াম ও এন্টি অক্সিডেন্ট। এগুলো সবই শরীরকে চাঙা রাখতে সাহায্য করে। এছাড়াও চায়ের বিভিন্ন ঔষধি গুণ তো রয়েছেই। চায়ে পাওয়া যায় ফ্ল্যাভোনয়েড নামক উপাদান। এ  ফ্ল্যাভোনয়েডের ভেতর থাকে বিপুল মাত্রায় এন্টি অক্সিডেন্ট। এছাড়াও চায়ে রয়েছে পর্যাপ্ত পটাশিয়াম ও ক্যাফেইন। ক্লান্ত শরীরের অলসতা দূর করে শরীর ও মনকে চাঙা রাখতে এই পটাশিয়াম ও ক্যাফেইনের তুলনা হয় না। অন্যদিকে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট আমাদের হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। মজার তথ্য হলো ভারত উপমহাদেশে ব্রিটিশ আমলে জনবহুল জায়গাগুলোতে ব্রিটিশ সরকার চায়ের ঔষধি গুণের নানা বিজ্ঞাপন লিখে আমাদের চা খাওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করত। সেই সময় ইংরেজরা ভারতীয়দের চা পান করার জন্য বিনা পয়সায় চা পান করাত ও চায়ের বিজ্ঞাপন করত। সেই সময়কার চায়ের বিজ্ঞাপনগুলোতে লেখা থাকত চা পান করলে টাইফয়েড, কলেরা, বসন্ত, আমাশয়সহ নানা রোগের প্রতিকার হয়। পরে গবেষণায় দেখা গেছে, চা পান করলে কলেরা-টাইফয়েড ভালো না হলেও এতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যায় ও দেহের কোষের ক্ষয় রোধ হয়। 
তবে আমরা যারা নিয়মিত চা খাই তাদের অবশ্যই জানা প্রয়োজন, দুধ চায়ের চেয়ে লাল চা শরীরের জন্য বেশি কার্যকরী। সম্প্রতি ইউরোপিয়ান হার্ট জার্নালে বলা হয়েছে, লাল চা পান করলে মানুষের রক্তনালি ও ধমনির কার্যক্রম তাৎপর্যপূর্ণভাবে বৃদ্ধি পায়, কিন্তু চায়ে দুধ মেশালে চায়ের সুফল অনেক কমে যায়, কারণ রক্ত পরিবহনতন্ত্রের জন্য চায়ের উপকারিতার বিপরীতে কাজ করে এই দুধ। অন্যদিকে দুধ চায়ে দুধের প্রোটিন চায়ের অ্যান্টি অক্সিডেন্টের সঙ্গে মিশে যায় বলে চায়ের বেশিরভাগ ঔষধি গুণ নষ্ট হয়ে যায়। তাই বলা যায়, দুধ চা পান করার চেয়ে লাল চা পান করাই শরীরের জন্য বেশি  ভালো। তাই যারা চা পান করে শরীরে ঔষধি উপকার পেতে চান তারা অবশ্যই দুধবিহীন চা বা লাল চা পান করুন সেই সঙ্গে চাঙা শরীর ও মন নিয়ে সুস্থ থাকুন। 

ডা. মহসীন কবির 
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, লেখক ও গবেষক
ইনচার্জ, ইনস্টিটিউট অব জেরিয়েট্রিক মেডিসিন
বাংলাদেশ প্রবীণহিতৈষী সংঘ, ঢাকা