আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৪-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে না একাদশ নির্বাচন : অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
| অর্থ-বাণিজ্য

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত

একাদশ জাতীয় নির্বাচনকালীন পরিস্থিতি যেরকমই  হোক না কেন তা অর্থনীতির ওপর কোনো বিরূপ প্রভাব ফেলবে না বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। রোববার রাজধানীর  সোনারগাঁও হোটেলে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) নিয়ে দিনব্যাপী আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এ সম্মেলনের আয়োজন করে দ্য ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি)। সম্মেলনে ইউএন রেসিডেন্ট কোঅপারেশন অ্যান্ড ইউএনডিপি রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ মিয়া সেপো,  নেদার?ল্যান্ডের হেড অব সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গ্লোবাল রিপোর্টিং ইনিশিয়েটিভ (জিআরআই) পিয়েতরো বারতেজি, আইসিএমএবি’র প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ সেলিমসহ আরও অনেকে বক্তব্য রাখেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামী তিন মাস পর নির্বাচন। তাই এ সময়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা এমন একটা উপযুক্ত ব্যবস্থা গড়ে তুলেছি। এটা বজায় থাকবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের চলমান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি স্থবির হবে না। তাই এ সময় পরিবেশ যা-ই হোক না কেনো দেশের অর্থনীতিতে তার প্রভাব পড়বে না। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, আগামী ডিসেম্বরের পর নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করবে। আশা করছি এ সময় বাণিজ্য আরও বাড়বে। আমরা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ভালো করলেও দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক বণিজ্যে তেমনটা করতে পারছি না। তবে ব্যবসা-বণিজ্য সম্প্রসারণে বর্তমানে আমরা ভারত ও চীনকে বড় পার্টনার হিসেবে পেয়েছি। তাদের সঙ্গে ভালো সম্পর্কের জন্যই এটা সম্ভব হয়েছে। নেপাল এবং ভুটানের সঙ্গেও বাণিজ্য বাড়াতে কাজ করছে বাংলাদেশ। অন্যান্য দেশের সঙ্গেও বাণিজ্য বাড়াতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার সারা বিশ্বে বাণিজ্য সম্প্রসারণে কাজ করছে। এজন্য নতুন নতুন বাজার খোঁজা হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, দক্ষীণ এশীয় বাণিজ্যে ভারত ও চীন এগিয়ে আছে। নানা কারণে বাংলাদেশ ট্রেড ভলিউমে পিছিয়ে আছে। তবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা থাকলে আমরা সে ট্রেড ভলিউমে এগিয়ে যাব।
অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের প্রতিনিধি মিয়া সেপো বলেন, এসডিজি বাস্তবায়নে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা গুরুত্বপূর্ণ। এটা রক্ষায় আইসিএমএবি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই আইসিএমএবি কর্তৃক এ সম্মেলন আয়োজন করায় তাদের ধন্যবাদ জানাই।
সম্মেলনে মোহাম্মদ সেলিম জানান, বর্তমানে অর্থনৈতিক রিপোর্টিং বদলে যাচ্ছে। এখন ধীরে ধীরে ইন্টিগ্রেটেড ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং এবং সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্টিং ব্যবস্থা আসছে। এজন্য দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে হবে। বাংলাদেশ জাতিসংঘ প্রণীত এমডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। যার ফলে দেশটি মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় জাতিসংঘ ১৭টি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে, যা ২০৩০ সালের মধ্যেই অর্জন করতে প্রতিটি দেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এসডিজিগুলো হচ্ছে দারিদ্র্য, ক্ষুধা, সুস্বাস্থ্য, গুণগত শিক্ষা, বৈশ্বিক উষ্ণতা, লিঙ্গ সমতা, বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন, সাশ্রয়ী ও পরিচ্ছন্ন শক্তি, নগরায়ন, পরিবেশ ও সামাজিক ন্যায়বিচারসহ সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে বাংলাদেশ ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে উন্নীত হতে চায়। তাই টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দেশটি তার পলিসি প্রণয়নে পরিবর্তন এনেছে। এ প্রেক্ষাপটে পেশাগত হিসাববিদরা এসডিজির লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নে সরাসরি মুখ্য ভূমিকা পালন করছে।
সম্মেলনে বিভিন্ন খাতের সরকারি, বেসরকারি, বহুজাতিক, শিক্ষা, এনজিও, দাতা সংস্থা, বৈদেশিক দূতাবাসসমূহের প্রায় ৪০০ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন। সম্মেলনে ছয়টি কারিগরি অধিবেশনে দেশি ও বিদেশি প্রায় ৪০ জন বিশেষজ্ঞের ১৮টি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হবে। পরবর্তী সময় এসব বিষয়ের ওপর আলোচনা হবে বলে সম্মেলনে জানানো হয়।