আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৪-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

রোহিঙ্গা ফেরতে ধীরগতি বোঝা হবে বাংলাদেশের

বিশেষজ্ঞদের অভিমত

আলোকিত ডেস্ক
| শেষ পাতা

মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সহিংসতার কারণে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন যদি পরিকল্পিতভাবে ত্বরিতগতিতে সম্পন্ন না হয়, তাহলে তা দেশের অর্থনীতি, পরিবেশ এবং সমাজের ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। খবর বাসসের।
ঢাকায় বিশ্বব্যাংকের মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, বর্তমানে খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা, আশ্রয়, পানি ও স্যানিটেশনসহ জরুরি প্রয়োজনগুলো দাতাদের সহায়তায় পূরণ করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সাম্প্রতিক প্রতিবেদন উল্লেখ করে তিনি বলেন, দাতাদের সহায়তা যদি হ্রাস পায়, তাহলে বাংলাদেশের ওপর রোহিঙ্গাদের বোঝা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। ধারণা করা হচ্ছে, কর্তৃপক্ষ দেশীয় ও বিদেশের সম্পদ থেকে এসব চাহিদা পূরণ করবে। আগামী ছয় বছরে অভ্যন্তরীণভাবে উচ্চসুদে প্রায় ৪৪০ বিলিয়ন টাকা সংগ্রহ করতে হবে। অন্যদিকে, বিদেশ থেকে ১ বিলিয়নের কিছু বেশি মার্কিন ডলার ছাড়হীন শর্তে ঋণ নিতে হবে। এ ছাড়াও বর্ধিত চাহিদা মেটাতে আমদানি প্রবৃদ্ধি ৮ থেকে ৯ শতাংশে বৃদ্ধি পেতে পারে।
যুক্তরাজ্যের বর্নমাউথ ইউনিভার্সিটির সিনিয়র লেকচারার মেহেদি চৌধুরী বলেন, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বাংলাদেশে অবস্থান দেশটির সরকারের ওপর বিরাট আর্থিক বোঝা হিসেবে চেপে বসেছে।
বিভিন্ন পর্যায়ে ক্যাম্পগুলোর ব্যবস্থাপনার জন্য বাংলাদেশ সরকারের বার্ষিক ব্যয় দাঁড়াবে ১৫ দশমিক ২৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ১ হাজার ৭০০ মার্কিন ডলার মাথাপিছু আয়ের বাংলাদেশের জন্য এটি বিরাট একটি অঙ্ক বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, মিয়ানমারের নিপীড়িত রোহিঙ্গারা এর আগেও ১৯৭৮, ১৯৯২ এবং ২০১২ সালে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। তবে ২০১৭ সালের আগস্ট মাস থেকে মিয়ানমারের বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা ব্যাপক হারে এবং সর্বাধিক সংখ্যক প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।