আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৪-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

অবৈধ বাংলাদেশিদের ‘উইপোকা’ বলে বিতর্কে অমিত শাহ

আলোকিত ডেস্ক
| প্রথম পাতা

ভারতে ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ ভারতে বসবাসকারী অবৈধ বাংলাদেশিদের ‘উইপোকা’র সঙ্গে তুলনা করে দাবি করেছেন, এক এক করে তাদের সবার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে। কিছুদিন আগেই বিজেপির আর এক প্রভাবশালী নেতা রাম মাধব কথিত অবৈধ বিদেশিদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে বলে ঘোষণা করেছিলেন, এখন রাজস্থানের একটি জনসভায় স্বয়ং বিজেপি 

সভাপতি বাংলাদেশিদের উইপোকা বলে আক্রমণ করলেন।
ভারতের বিরোধী দলগুলো মনে করছে, নির্বাচনের আগে ¯্রফে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই বিজেপি আবার এই অবৈধ বিদেশিদের ইস্যু খুঁচিয়ে তুলতে চাইছেÑ যদিও বিজেপি সে অভিযোগ মানতে নারাজ। প্রায় সাড়ে চার বছর আগে ভারতে ভোটের প্রচারে নেমে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘোষণা করেছিলেন, ক্ষমতায় এলে তার সরকার অবৈধ বাংলাদেশিদের লোটাকম্বল নিয়ে ফেরত পাঠাবে। তবে দিল্লিতে বিজেপি সরকার গড়ার পর এ নিয়ে আর কোনো সাড়াশব্দ শোনা যায়নি, কিন্তু এখন নির্বাচনের ছয় সাত মাস আগে আবার সেই একই ধরনের কথা শোনা যাচ্ছে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের মুখে। খবর বিবিসির
শনিবার রাজস্থানের গঙ্গাপুরে এক জনসভায় বিজেপি প্রেসিডেন্ট অমিত শাহ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ‘দীমক’ বা উইপোকা বলে অভিহিত করে বলেন, এরা ভারতীয় যুবকদের রুটিরুজি বা চাকরি কেড়ে নিচ্ছে, গরিবের খাবারে ভাগ বসাচ্ছে। আমি আজই ঘোষণা করছি, আগামী বছর মোদি সরকার ক্ষমতায় এলে এদের প্রত্যেককে বেছে বেছে ভোটার তালিকা থেকে বের করে দেওয়া হবে। কিছুদিন আগেই বিজেপি নেতা রাম মাধব ঘোষণা করেছেন, আসামের নাগরিক তালিকা থেকে যাদের নাম বাদ পড়বে তাদের বাংলাদেশে ডিপোর্ট করাটাই তাদের দলের নীতি। কথিত অবৈধ বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে বিজেপির আচমকা এভাবে তেড়েফুঁড়ে ওঠাটা ভোটের ভাবনা থেকেই, এ কথা অবশ্য মানছেন না দলের পলিসি রিসার্চ সেলের অনির্বাণ গাঙ্গুলি। তিনি বলছিলেন, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের এই অবস্থান কিন্তু জনসঙ্ঘের সময় থেকেই। ইতিহাস ঘাটলে দেখবেন জনসঙ্ঘ এই ইস্যুতে বহু প্রস্তাব নিয়েছে, আশির দশকে জনসঙ্ঘ থেকে যখন বিজেপি স্থাপিত হলো তখন থেকে বিজেপিও এই ইস্যুতে সরব। কাজেই এটা নতুন কিছু নয়। তবে হ্যাঁ, ক্ষমতায় আসার পর জাতীয় নাগরিক-পঞ্জি বা এনআরসির দাবিকে আমরা লজিক্যাল কনক্লুশনে নিয়ে গেছি। কারণ যারা অর্থনৈতিক কারণে বা নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য ভারতে আসছেন তাদের কারণে আমাদের আসাম-নাগাল্যান্ডের মতো বহু রাজ্যে রিসোর্সের ওপর প্রবল চাপ পড়ছে।
বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মালদা জেলা থেকে প্রায় দশ বছর ধরে নির্বাচিত কংগ্রেসের এমপি মৌসম বেনজির নূর মনে করেন ‘দেশের স্বার্থ-ফার্থ’Ñ এসব একদম বাজে কথা! তিনি বলেন, সামনে ভোট আসছে; তাই এটি আসলে ধর্মের নামে মেরুকরণ করে গোটা বিষয়টির মাধ্যমে রাজনৈতিক ভোটব্যাংক তৈরির চেষ্টা। তা যদি না হতো, তাহলে এখন নয়Ñ অনেক আগেই তারা ইস্যুটি তুলতেন।
নূর আরও বলেন, মালদা থেকেও বহু বাংলাভাষী মুসলিম কাজের খোঁজে ভারতের নানা প্রান্তে যান, এখন অবৈধ বাংলাদেশি খোঁজার হিড়িকে আক্রমণের নিশানা করা হচ্ছে তাদেরও। আমাদের জেলারই লোক আফরাজুলকে গত  বছরের ডিসেম্বরে রাজস্থানে পিটিয়ে, পুড়িয়ে মারা হয়েছিল। মালদা থেকে যে অভিবাসী শ্রমিকরা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছেন, তাদের অনেককেই আসলে বাংলাদেশি বলে হেনস্থা করা হচ্ছে। তারা যে মালদারই বাসিন্দা ও ভারতের নাগরিক, সেটি প্রমাণ করতে আমরা রেসিডেন্ট সার্টিফিকেটও দিয়ে থাকি; কিন্তু এরপরও এ ধরনের হামলা চলছেই। আসলে এভাবেই বিজেপি বিভাজনের রাজনীতির মাধ্যমে দেশটা ভাগ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন মৌসম নূর।