আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৫-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

তহুরায় মুগ্ধ সালাহউদ্দিন

স্পোর্টস রিপোর্টার
| খেলা

‘হোয়্যার ইজ নাম্বার টেন’Ñ পরশু ভিয়েতনামকে হারিয়ে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ নারী ফুটবলের দ্বিতীয় পর্বে পা রাখা কিশোরীদের সঙ্গে ক্যাম্পে থাকা ৩৯ খেলোয়াড়কে অনুপ্রেরণা দিতে ১০ হাজার টাকা করে তুলে দেওয়ার পর কাল শেষ পর্যায় একজনকে খুঁজছিলেন বাফুফে সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন। ছোটখাটো গড়নের তহুরা খাতুন উঠে দাঁড়াতেই দেশের ফুটবলের কিংবদন্তি ‘বসো, বসো’ বলে জানালেন, ‘আমি তো তোমার খেলা দেখে বোকা হয়ে গেছি। তুমি বল নিয়ে কীভাবে বক্সে ঢুকছিলে বিদ্যুৎগতিতে, আসলে এটাই গোল করার আসল সাহস। তোমার খেলা দেখে আমি মুগ্ধ।’ দেশের ফুটবলের সবচেয়ে বড় তারকার স্বীকৃতি পেয়ে আপ্লুত আন্তর্জাতিক বয়সভিত্তিক পর্যায়ে ৫ হ্যাটট্রিক করা ময়মনসিংহের কিশোরী। গত আগস্টে ভুটানে অনূর্ধ্ব-১৫ সাফে সর্বোচ্চ গোলদাতা, পরশু ঢাকায় শেষ হওয়া বাছাইপর্বে করেছে ৩ গোল। কেউ একজন বলেন, ডিফেন্ডার আঁখি তো কায়সার হামিদের মতো খেলে।’ বাফুফে সভাপতির কথাÑ ‘না, আঁখি খেলে স্পেনের স্টপার জেরার্ড পিকের মতো। ভিয়েতনামের বিরুদ্ধে আঁখিকে কোনো পরিশ্রমই করতে হয়নি। ভিয়েতনাম তো কোনো অ্যাটাকই করতে পারেনি।’
গ্রুপ পর্বে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য ২৩ জন। তবে সালাহউদ্দিন পুরস্কার দিয়েছেন ক্যাম্পে থাকা ৩৯ মেয়েকেই। ১০ হাজার টাকা হয়তো বড় নয়; টাকা আড়াল করে সালাহউদ্দিনের কথাগুলো সামনে আনলে দেশের নারী ফুটবলারদের জন্য বড় কিছুই। কাল বিকালে বাফুফে ভবনে তেমনই কিছু অনুপ্রেরণাদায়ক কথা শোনালেন সালাহউদ্দিন, যিনি বাংলাদেশ ও সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি। তার প্রতিটি কথা ছিল মেয়েদের প্রশংসায় ভরা। মেয়েরা এ টুর্নামেন্টের জন্য প্রায় ১০ মাস ধরে অনুশীলন করেছেন, পরিশ্রম করেছেন। এ সাফল্য তাদের পরিশ্রমেরই ফল। বাফুফে সভাপতি শুরুতে বলেন, ‘আমি আসলে তোমাদের অভিনন্দন জানাতে এসেছি। ভিয়েতনামসহ কয়েকটি ম্যাচ দেখেছি। তোমরা সুন্দর ফুটবল খেলেছ। আমি অনেক কিছু না বুঝলেও ফুটবলটা একটু বেশি বুঝি। ২০ বছর খেলেছি, আমি তো তোমাদের জাতভাই। আমি বুঝি তোমাদের উন্নতি। বল কন্ট্রোল, পাসিং, পজিশন, ফিটন টেকনিক্যাল- এতটা ছেলেদের দলও উন্নতি করেনি।’
সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে মেয়েদের আরও কঠোর পরিশ্রমের পরামর্শ দিয়ে বাফুফে সভাপতির মন্তব্য, ‘অনুশীলনের বিকল্প নেই। কষ্ট ছাড়া ফুটবল হয় না। মেসি-রোনালদো সেরা ফুটবলার। তারা কঠোর পরিশ্রম করেন। তারা মাঠে যে সুন্দর ফ্রি-কিকগুলো নেন, তা অনুশীলনের ফল। তোমরা নিশ্চয়ই একদিন এশিয়ার অন্যতম সেরা দল হবে।’
আন্তর্জাতিক ফুটবলে লাল-সবুজ পতাকা ওড়াচ্ছেন মেয়েরা। কিন্তু ঘরোয়া খেলা নেই! লিগ প্রসঙ্গ উঠেছে বারবার, কালও কথা বলতে হলো ঘরোয়া লিগ নিয়ে। বাফুফে সভাপতি জানালেন, ‘দুটি বিষয় রয়েছে এখানে। চেষ্টা করছি মেয়েদের লিগ শুরু করতে। দুই-একটা ক্লাব ছাড়া তেমন সাড়া পাচ্ছি না। তিনটা-চারটা দল নিয়ে হাস্যকর কিছুও করতে চাই না। তবে লিগ খুব দরকার। ক্লাবগুলোকে বোঝাচ্ছি। আরেকটা টেকনিক্যাল সমস্যা হলোÑ ক্লাবগুলো যখন লিগ খেলবে তখন মেয়েরা সেখানে চলে যাবে। ওরা কিছু পয়সা পাবে, তা আমিও চাই। কিন্তু ঠিকমতো পরিচর্যায় না থাকলে আমি তো রেজাল্ট দিতে পারব না।’
বাছাইয়ে গ্রুপ সেরা মারিয়াদের লক্ষ্য আগামী বছর ২৩ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় পর্ব; বাংলাদেশ ছাড়াও খেলবে চীন, লাওস, ইরান, অস্ট্রেলিয়া, মিয়ানমার, ভিয়েতনাম ও ফিলিপাইন। তারা দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলবে। সেমিফাইনালিস্টরা উত্তর কোরিয়া, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও স্বাগতিক থাইল্যান্ডের সঙ্গে মূল পর্ব খেলবে।
আপাতত ভাবনা অনূর্ধ্ব-১৮ সাফ। থিম্পুতে সাফের নতুন এ টুর্নামেন্ট শুরু হবে ২৮ সেপ্টেম্বর। অনূর্ধ্ব-১৬ দলের ১৩ জনের সঙ্গে অনূর্ধ্ব-১৮ দলের ১০ ফুটবলার নিয়ে আগামীকাল ভুটানের বিমানে উঠবেন কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন। বাফুফে সভাপতির প্রতিশ্রুতিÑ ‘ভুটান জয় করে ফিরতে পারলে আরও পুরস্কার পাবে’।