আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৫-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

সামার ওপেন ব্যাডমিন্টন

প্রাইজমানি না পেয়ে হতাশ এলিনা

স্পোর্টস রিপোর্র্টার
| খেলা

শাপলা আক্তার ও এলিনা সুলতানা বছর পাঁচেক একসঙ্গে খেলেছেন নিট কনসার্ন ব্যাডমিন্টন ক্লাবে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের ব্যাডমিন্টনে ঘোর প্রতিপক্ষ; খেলছেন দুটি ভিন্ন ক্লাবে জাতীয় চ্যাম্পিয়ন শাপলা আনসারে, দুইবারের চ্যাম্পিয়ন এলিনা সেনাবাহিনীতে। জাতীয় বা সামার ওপেনে দুইজনের দ্বৈরথ মানেই প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঝাঁঝ। যেমনটা গেল জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপের এককে দেখা গেছে, প্রথম সেট এলিনা জিতলেও শেষ পর্যন্ত ২-১ এ জিতে শাপলা। এবার সামার ওপেনের ফাইনালেও দারুণ জমেছিল শাপলা-এলিনার দ্বৈরথ। ১৯-২০ পয়েন্টে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ২৪-২৪ পয়েন্টে জিতে এলিনা। কিন্তু হাঁটুর চোটে দ্বিতীয় সেটে কোর্ট ছাড়েন কাওয়াসাকি ব্যাডমিন্টন ক্লাবের শাপলা। সামার ওপেনে একক মুকুট থাকল খুলনার মেয়ে এলিনার। গেল বছর শাপলাকে ২-০ সেটে হারিয়ে ফিরে পেয়েছিলেন সামারের রাজত্ব। সেবার মাস খানেক আগে চিকুনগুনিয়া কাটিয়ে খেলেছিলেন, এবার খেললেন মালয়েশিয়ায় লেভেল টু কোর্স শেষ করে মাত্র তিন দিনের অনুশীলনে। তবে ‘প্রস্তুতি যাই হোক চ্যাম্পিয়ন হব, আত্মবিশ্বাস ছিল’Ñ জানান গেল মার্চে ২৮ এ পা রাখা এলিনা।
র‌্যাঙ্কিং টুর্নামেন্ট সামারে নারী এককে রাজত্ব ধরে রাখতে পেরে দারুণ খুশি এলিনা; তবে আড়ালে আছে অপ্রাপ্তির হতাশা। ২০১৭ সামারে চ্যাম্পিয়ন হয়ে ১০ হাজার টাকা প্রাইজমানি পেলেও এবার পেয়েছেন ট্রফি! আরেকটা দ্বৈতে নাবিলাকে নিয়ে সতীর্থ বৃষ্টি-রেহানাকে হারিয়ে। যে দুটি নিয়ে পল্টন শহীদ তাজউদ্দিন ইনডোর স্টেডিয়ামে কাল বিকালে ঘুরে বেড়িয়েছেন স্বামী সাবেক জাতীয় চ্যাম্পিয়ন এনায়েত উল্লাহকে নিয়ে। এলিনার কথা, ‘এত টাকা খরচ করে প্রশিক্ষণ নিচ্ছি, র‌্যাকেট-জুতার পেছনে বছরে ব্যয় হয় লাখ দেড়েক টাকা। সেখানে একটি ট্রফির জন্য খেলতে হচ্ছে। শাটলারদের আগ্রহ বাড়াতে ফেডারেশনের উচিত প্রাইজমানি দেওয়া।’ তার চোখে ব্যাডমিন্টনে ১০ বছর খুব বেশি বাড়েনি, প্রতি বছর এক-দুজন নতুন প্রতিভা আসে, কিন্তু পরিচর্যা না পাওয়ায় হারিয়ে যায়।’ ২০০২ সালে শাটল-র‌্যাকেট ভুবনে পা রাখলেও জাতীয় চ্যাম্পিয়ন মাত্র দুইবার ২০১০ ও ২০১৪ সালে। সামার ওপেনে এককে পাঁচবার, দ্বৈতে চারবার। নেপাল ওপেনে ২০১৬ ও ২০১৮ সালে দ্বৈত; ২০১৬ সালে মিশ্র দ্বৈতে ব্রোঞ্জপদক পেয়েছেন এলিনা। বিমান, নিট কনসার্ন ঘুরে সেনাবাহিনীতে ঘাঁটি গেড়েছেন তিনি; এনায়েতকে নিয়ে গড়ে তুলেছেন এনালিনা ব্যাডমিন্টন একাডেমি, যেখানে ৪০ শাটলারকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন তারা ছাড়াও লিমন, সানি, শিপন ও ফাহাদ। পুরুষ এককে হয়েছে রীতিমতো চমক; শুধু চ্যাম্পিয়ন নয়, ফাইনালই খেলেছে দুই নতুন মুখ, সিলেটের গৌরব সিং ও মঙ্গল সিং। শেষ পর্যন্ত চাচাতো ভাইকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন গৌরব।