আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৫-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

মোবাইল ব্যাংকিংয়ে আন্তঃলেনদেন সুবিধা চালুর তাগিদ মন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
| অর্থ-বাণিজ্য

দেশের তৃণমূল পর্যায়ে ডিজিটাল সেবা পৌঁছে দিচ্ছে সরকার। ২০১৯ সালের জুনে এমন কোনো ইউনিয়ন পাওয়া যাবে না যেখানে ইন্টারনেট সংযোগ থাকবে না

দেশে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের (এমএফএস) ক্ষেত্রে আন্তঃসংযোগ ব্যবস্থা চালু করে গ্রাহককে আন্তঃলেনদেন সুবিধা প্রদানে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি তাগিদ দিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ এবং তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। সোমবার সকালে রাজধানীর প্যানপ্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে মেটলাইফ ফাউন্ডেশন ও মাইক্রোসেভের যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশে আই থ্রি কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়। সেখানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। আয়োজকরা জানান, আই থ্রি কর্মসূচির ফলে ব্যাংক হিসাবহীন ৫০ শতাংশ মানুষের কাছে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
আয়োজকরা জানান, পৃথিবীতে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর ৮ শতাংশ বাংলাদেশি। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আর্থিক সেবায় যুক্ত আছে বাংলাদেশের ৫ কোটি মানুষ। ব্যাংক এখনও মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছতে পারেনি। ৬০ শতাংশ মানুষ ব্যাংকিং সুবিধার আওতার বাইরে। নারীদের ক্ষেত্রে এটি ৬৫ শতাংশ।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. হুমায়ুন কবিরের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী বলেন, ‘মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আন্তঃলেনদেন সুবিধা দ্রুত চালু করা উচিত। তাহলে এক প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক অন্য প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে টাকা লেনদেন করতে পারবেন, যেমনটা আমরা এখন ব্যাংকগুলোর মধ্যে করতে পারি।’
মোস্তাফা জব্বার বলেন, দেশের তৃণমূল পর্যায়ে ডিজিটাল সেবা পৌঁছে দিচ্ছে সরকার। ২০১৯ সালের জুনে এমন কোনো ইউনিয়ন পাওয়া যাবে না যেখানে ইন্টারনেট সংযোগ থাকবে না। প্রযুক্তিতে দেশের উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবনী বিষয়গুলোকে যেন স্থায়ী রূপ দেওয়া যায়, সেটি নিয়ে সরকার কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও ছিলেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) প্রেসিডেন্ট সৈয়দ আলমাস কবির ও মেটলাইফ বাংলাদেশের মহাব্যবস্থাপক সৈয়দ হাম্মাদুল করিম। এছাড়াও ব্যাংকার, ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, মোবাইল ফোনভিত্তিক আর্থিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, ফিনটেক (ফিন্যান্সিয়াল টেকনোলজি) উদ্যোক্তাসহ এ খাতের শতাধিক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে মাইক্রোসেভের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে আই থ্রি কর্মসূচির অধীনে বিদ্যমান উদ্যোগগুলোর ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়। সম্ভাব্য সুযোগ শনাক্ত, প্রযুক্তি ব্যবহার, বাংলাদেশে আর্থিক অন্তর্র্ভুক্তির কর্মসূচিতে অবদান রাখার ব্যাপারে বিশেষজ্ঞরা আলোচনা করেন।