আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৫-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

দেশি ভেড়ার উন্নয়ন ও সংরক্ষণে কাজ চলছে জোরেশোরে

নিজস্ব প্রতিবেদক
| অর্থ-বাণিজ্য

খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার বারোয়ানি বাজারে ভেড়ার মাংস বিক্রয় কেন্দ্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘সমাজভিত্তিক ও বাণিজ্যিক খামারে দেশি ভেড়ার উন্নয়ন ও সংরক্ষণ প্রকল্পের (কম্পোনেট-বি)’ (২য় পর্যায় ও ২য় সংশোধিত) কাজ চলছে জোরেশোরে। এরই মধ্যে এ প্রকল্পের সিংহভাগ কাজ শেষ হয়েছে। চলতি বছরের মধ্যেই এ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। দেশের ৬৪ জেলার ৪৮০ উপজেলায় এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে প্রান্তিসম্পদ অধিদপ্তর। 
জানা যায়, ২৮ কোটি ৭৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘সমাজভিত্তিক ও বাণিজ্যিক খামারে দেশি ভেড়ার উন্নয়ন ও সংরক্ষণ প্রকল্প নেওয়া হয় ২০১২ সালের ১ জুলাই। দুই ধাপে সংশোধিত এ প্রকল্পের বর্তমান ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩ কোটি ৯০ লাখ টাকায়। এ প্রকল্পের লক্ষ্য ধরা হয় ‘প্রাণিজ আমিষের উৎপাদন বৃদ্ধি ও দারিদ্র্যবিমোচন’। এছাড়া প্রকল্পের সাতটি উদ্দেশ্যে রয়েছে। এগুলো হলো ভেড়া পালনে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে ভেড়ার উৎপাদন বৃদ্ধি করা, ভেড়া পালনে খামারিদের সচেতনতা সৃষ্টি করা ও উদ্যোক্তা তৈরির প্রচেষ্টা নেওয়া, কম্পোনেন্ট-এ থেকে গবেষণার মাধ্যমে প্রাপ্ত টেকনোলজি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে খামারিদের মধ্যে স্থানান্তর করা, ভেড়া পালনের মাধমে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং দারিদ্র্যবিমোচনে সহায়ক ভূমিকা পালন করা, পশম ও মাংসের বাজার বৃদ্ধি করার জন্য দেশি ভেড়া পালনে প্রশিক্ষণ ও প্রচারের ব্যবস্থা নেওয়া, ভেড়ার স্বাস্থ্য উন্নয়নের সহায়তা হিসেবে টিকা, কৃমিনাশক ও জরুরি ওষুধ এবং ঘাস সরবরাহের ব্যবস্থা নেওয়া এবং তিনটি ডেমনস্ট্রেশন ভেড়ার খামার স্থাপনের মাধ্যমে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ক্যাপাসিটি বিল্ডআপ করা।
জানা যায়, এরই মধ্যে এ প্রকল্পের আওতায় তিনটি ডেমনস্ট্রেশন ভেড়ার খামার নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন ওইসব খামারে ভেড়া পালন ও খামারিদের মাঝে প্রজননক্ষম ভেড়া বিতরণ কার্যক্রম চলছে। প্রতিটি খামারে ৮০টি ভেড়া-ভেড়ি নিয়ে কার্যক্রম শুরু হলেও এ পর্যন্ত তিনটি খামার থেকে সরকার নির্ধারিত মূল্যে ৩৯৫টি ভেড়া-ভেড়ি খামারিদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত দেশের ৬৪ জেলার ১২৮ উপজেলায় ১২৮ কন্ট্রাক্ট গ্রোয়িং খামার উন্নয়ন করা হয়েছে। এছাড়া ৬৪ জেলার ৪৮০ উপজেলায় ১৩ হাজার ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামার উন্নয়ন করা হয়েছে। ১৩ হাজার ভেড়ার খামারিকে ভেড়া পালন, স্বাস্থ্য, খাদ্য, বাসস্থান ও রোগ-প্রতিরোধ ব্যবস্থাপনাবিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। ৬ হাজার ভেড়ার খামারিকে রিফ্রেসার্স ট্রেনিং প্রদান করা হয়েছে। ভেড়া পালনে মানুষকে উদ্বুদ্ধ ও আগ্রহী করার নিমিত্তে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরাধীন ৫০০ ভিএফএ-কম্পাউন্ডারকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। ৩০০ মাংস বিক্রেতাকে ভেড়ার মাংস ভেড়া হিসেবে বিক্রি এবং মাংসের গুণাগুণ সম্পর্কে জানানো ও উদ্বুদ্ধকরণের জন্য প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এবং ভেড়ার খামারে কর্মরত ৩০০ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। ২ ব্যাচ (চীন, মঙ্গোলিয়ায় এবং অস্ট্রেলিয়ায়) বিদেশে স্টাডিট্যুর সম্পন্ন করা হয়েছে। ১ লাখ ৫০ হাজার মুদ্রণসামগ্রী (বুকলেট, লিফলেট, ফোল্ডার, ফেস্টুন, পোস্টার) বিতরণ করা হয়েছে।
বিভিন্ন বেসরকারি টিভি চ্যানেল, রেডিও, সংবাদপত্র এবং ম্যাগাজিনে ভেড়ার মাংস জনপ্রিয়করণের জন্য বিজ্ঞাপন, আরডিসি, ডকুমেন্টারি, টকশো, নাটিকা, জারিগান ইত্যাদি প্রচার ও প্রকাশ করা হয়েছে।
বাংলাদেশে ১০ লাখ জরুরি ওষুধ ও টিকা ভেড়া পালনকারীদের মাঝে সরবরাহ করা হয়েছে।
ভেড়ার খামারিদের পুরস্কার প্রদান ও দরিদ্র খামারিদের ভেড়ার শেড নির্মাণে ৮৩ লাখ ৩৩ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। তিন পার্বত্য জেলার ২৫ উপজেলায় ৫০০ নির্বাচিত সুফলভোগীর মাঝে বিনামূল্যে ১ হাজার ৫০০ ভেড়া বিতরণ করা হয়েছে। যার থেকে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৯৫৭ বাচ্চা উৎপাদন হয়েছে।
এদিকে, অপেক্ষাকৃত কম কোলেস্টেরল, অধিক প্রোটিন, ক্যালরি, জিঙ্ক, ফসফরাস ও আয়রনযুক্ত, নরম রসাল বিশেষ গন্ধহীন মাংসটিকে নিজ পরিচয়ে ভেড়ার মাংস হিসেবেই বিক্রি করার আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। সম্প্রতি খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার বারোয়ানি বাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে ভেড়ার মাংস বিক্রয় কেন্দ্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। মন্ত্রী বলেন, এক খাদ্যপণ্যকে অন্য নামে ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করা আইনত দ-নীয়। তাই ভেড়ার মাংসকে নিজ পরিচয়েই বিক্রি করতে হবে। মন্ত্রী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে পশু জবাইয়ের আগে তা পরীক্ষা এবং মাংস বিক্রেতাদের যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সুস্থ ও নীরোগ পশুর নিরাপদ মাংস উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিতকরণের বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করেন। এ ব্যাপারে তিনি ভোক্তাসাধারণের সচেতনতার ওপরও জোর দেন।