আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৫-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

শ্রবণশক্তি হারানোর ঝুঁকিতে রাজধানীবাসী

শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে

| সম্পাদকীয়

রাজধানীতে শব্দদূষণের মাত্রা বেড়েই চলেছে। শ্রুতিহীনতাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে এ শহরের বাসিন্দারা। চিকিৎসকদের মতে, ৬০ ডেসিবল শব্দে সাময়িকভাবে শ্রবণশক্তি নষ্ট হতে পারে। আর ১০০ ডেসিবলে চিরতরে শ্রবণশক্তি হারানোর ঝুঁকি থাকে। অথচ রাজধানী ঢাকার অনেক জায়গাতেই শব্দের তীব্রতা ১০৭ ডেসিবলের উপরে ওঠে। আলোকিত বাংলাদেশে প্রকাশ, পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) এ বছরের জানুয়ারিতে ঢাকা মহানগরীর ৪৫টি স্থানের শব্দদূষণের মাত্রা পরিমাপ করে দেখেছে, ঢাকার নীরব এলাকাগুলোয় দিনে শব্দের মাত্রা থাকে ৮৩.৩ থেকে ১০৪.৪ ডেসিবল। আবাসিক এলাকায় দিনে ৯২.২ থেকে ৯৭.৮ ডেসিবল এবং রাতে ৬৮.৭ থেকে ৮৩.৬ ডেসিবল। মিশ্র এলাকায় দিনে ৮৫.৭ থেকে ১০৫.৫ ডেসিবল এবং রাতে ৮৫.৭ থেকে ১০৬.৪ ডেসিবল। বাণিজ্যিক এলাকায় দিনে শব্দের মাত্রা ৯৪.৩ থেকে ১০৮.৯ ডেসিবল। 
শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে অনেক দিন ধরেই সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করছে। এরই কার্যক্রম হিসেবে ২০০৬ বিধিমালার আওতায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকাকে নীরব, আবাসিক, মিশ্র, বাণিজ্যিক বা শিল্প এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে শব্দের মানমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। নির্দেশনা দেওয়া হয়, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কোনো এলাকায় শব্দের সর্বোচ্চ মানমাত্রা অতিক্রম করতে পারবে না। কিন্তু আইন ও বিধিবিধান থাকলেও সেগুলোর প্রয়োগ না থাকায় রাজধানীতে শব্দদূষণের মাত্রা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। উল্লেখ্য, কানের যত রোগ রয়েছে তা সাধারণত শব্দের আঘাতে বাড়ে। শব্দদূষণের ফলে কানের টিস্যুগুলো বিকল হয়ে পড়ে। তখন আক্রান্ত ব্যক্তি স্বাভাবিক শব্দ শুনতে পান না। বলা যায়, শব্দদূষণে শ্রবণশক্তি কমে আসে, বধির হওয়ার মতো অবস্থার সৃষ্টি হয়, মাথাব্যথা, খিটখিটে মেজাজ, বিরক্তিবোধ, বদহজম, অনিদ্রাসহ নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। হঠাৎ বিকট শব্দ যেমন যানবাহনের তীব্র হর্ন বা পটকা ফাটার আওয়াজ মানুষের শিরা ও স্নায়ুতন্ত্রের ওপর চাপ দেয়, তেমনি এ ধরনের শব্দের প্রভাবে সাময়িকভাবে রক্তপ্রবাহে বাধার সৃষ্টি হয়, রক্তনালি সংকুচিত হয়, রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায়। এছাড়া উচ্চশব্দ সৃষ্টিকারী হর্ন চালককে বেপরোয়া গতিতে যান চালাতে উৎসাহিত করে। ফলে সড়ক দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বৃদ্ধি পায়। 
বিশেষজ্ঞদের মতে, শব্দদূষণের বর্তমান অবস্থা অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে ঢাকা মহানগরীর ৫০ শতাংশ মানুষ ৩০ ডেসিবল শব্দ শোনার ক্ষমতা হারাবে, শিশুদের মধ্যে বধিরতার হার ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকবে এবং তারা লেখাপড়ায় অমনোযোগী ও বিকার মানসিকতাসম্পন্ন হয়ে গড়ে উঠবে। এমন পরিস্থিতিতে দেশব্যাপী শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিচ্ছে না। এটা খুবই দুঃখজনক। আমরা চাই বিভিন্ন এলাকায় নির্ধারিত শব্দের মানমাত্রা লঙ্ঘনকারীদের অবিলম্বে শাস্তির আওতায় আনা হোক।