আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৫-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

আজ অংশ নেবেন দুই দেশের বিদ্যুৎ সচিব

সিলেটে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক অনুষ্ঠিত

সিলেট ব্যুরো
| নগর মহানগর

ঢাকা ও দিল্লির বাইরে এবারই প্রথম সিলেটে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বিকাল ৩টায় রোজভিউ হোটেলে এ বৈঠক শুরু হয়ে চলে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত। বৈঠকে দুই দেশের বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব পর্যায়ের দুই কর্মকর্তা নেতৃত্ব দেন। বৈঠকে উঠে আসা ফাইন্ডিংগুলো আজ একই স্থানে দুই দেশের বিদ্যুৎ সচিবের নেতৃত্বে অনুষ্ঠেয় স্টিয়ারিং বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের পরিচালক (জনসংযোগ) সাইফুল হাসান। তিনি আরও জানান, স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকের পর আজ সকালে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করা হবে। 
এদিকে স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে যোগ দিতে সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার শেওলা সীমান্ত দিয়ে ভারতের বিদ্যুৎ সচিব অজয় কুমার বালার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সোমবার সকালে বাংলাদেশে আসে বলে জানিয়েছেন বিয়ানীবাজার থানার ওসি অবনী শংকর। অন্যদিকে ঢাকা থেকে বিদ্যুৎ সচিব ড. আহমদ কায়কাউসের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সিলেট এসেছে। এছাড়া ভারত থেকে প্রতিনিধি দলের আরও কয়েকজন সদস্য ঢাকা হয়ে সিলেট এসেছেন। 
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র জানায়, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দুটি স্পর্শকাতর বিষয় তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে ভারত-বাংলাদেশ-ভারত বিদ্যুৎ করিডোর। ভারত অরুণাচল প্রদেশ থেকে জল বিদ্যুৎ উৎপাদন করে বিহার নিতে চায়। এজন্য বাংলাদেশের কাছে তারা সঞ্চালন লাইন তৈরি করার অনুমতি চেয়েছে। উভয় দেশ সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করতে সম্মত হয়েছে। কিন্তু গোল বেঁধেছে সঞ্চালন লাইন নির্মাণের ব্যয় নিয়ে। ভারত এর আগে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে যার যার অংশে সেই সেই দেশ বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণ করবে এবং লাইনের ব্যয় নির্বাহ করবে এমন প্রস্তাব দেয়। বাংলাদেশ এ প্রস্তাবে দ্বিমত পোষণ করে বলে ভারত তার এক এলাকায় উৎপাদিত বিদ্যুৎ অন্য এলাকায় নিতে চায়। কিন্তু বাংলাদেশ কেন এ গ্রিডলাইনের খরচ দেবে। যেহেতু বাংলাদেশের ওপর দিয়ে গ্রিডলাইন নেওয়া হচ্ছে সঙ্গত কারণে বাংলাদেশ এখান থেকে দুই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ চাইছে।
বিউবোর একটি সূত্র জানায়, দিল্লিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হলেও ঐকমত্য ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়। এবার বৈঠকেও বিষয়টি গুরুত্ব পাবে বলে ভারত-বাংলাদেশ বিদ্যুৎ সহযোগিতা কমিটির এক সদস্য সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, কেবল ভারতের সহযোগিতা না পাওয়ায় বাংলাদেশ অন্য প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বিদ্যুৎ সহযোগিতায় ফলপ্রসূ কোনো কিছু করতে পারছে না।